“গোপনীয় সব খবর ফাঁস করে দেওয়ায় বিশ্বের সেরা” জুলিয়ান আসাঞ্জ বিগত সপ্তাহে আবার এক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে উপনীত হয়েছেন. গ্রেট ব্রিটেনের সরকার হুমকি দিয়েছে জুলিয়ান আসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করার, এমনকি যদি তার জন্য দেশের পুলিশ বাহিনীকে লন্ডনে ইকোয়েডরের দূতাবাসের এলাকায় জোর করে ঢুকতে হয় তা হলেও. ইকোয়েডর এই ধরনের ঘোষণাকে মনে করেছে উপনিবেশবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ও সমর্থন পাওয়ার জন্য নিজেদের এলাকার দেশ গুলির দ্বারস্থ হয়েছে.

আমেরিকার রাষ্ট্র সমূহের সংগঠন ২৪শে আগষ্ট এক বিশেষ অধিবেশনে ইকোয়েডর ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবে, যারা “উইকিলিক্সের” স্রষ্টা জুলিয়ান আসাঞ্জের জন্য বিরোধ করছে. এই বৈঠক হতে চলেছে খোদ নিউইয়র্ক শহরেই, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই জরুরী অধিবেশনের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে. সমস্যা শুধু ইকোয়েডর ও গ্রেট ব্রিটেনের মধ্যেই, আর তাতে নাক গলানোর দরকার নেই, ঘোষণা করা হয়েছে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে. কিন্তু সমস্ত কিছুই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনই এই বিষয়ে জড়িতদের উপরে চাপ সৃষ্টি করছে, এই কথা উল্লেখ করে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান জ্যাক লিঞ্চ বলেছেন:

“আমরা বিশ্বাস করি আর তার জন্য যথেষ্ট লক্ষণও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, যা ঘটছে – তা যে কোন ভাবেই আসাঞ্জকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা ও তার নামে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ আনা অথবা সন্ত্রাসবাদী বলে অভিযুক্ত করার জন্য. আর এটাই তথ্যের বিষয়ে স্বাধীনতার উপরে সত্যিকারের আঘাত হানা হবে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “দাঁত শানাচ্ছে” আসাঞ্জের উপরে, কারণ তিনি এক গুচ্ছ আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের গুপ্ত দলিল প্রকাশ্যে এনেছেন, যা তাদের দেশের পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঘৃণ্য কাজ কারবার বিশ্ব বাসীর সামনে উপস্থিত করেছে. তাকে গুপ্তচর বৃত্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে. অনেক সময় ধরেই আসাঞ্জ খুবই বুদ্ধি করে সেই সব জায়গা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে তিনি আমেরিকার বিচার ব্যবস্থার হাতে ধরা পড়তে পারতেন. কিন্তু ২০১০ সালে সুইডেন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে চেয়েছিল. আসাঞ্জকে কোনও অভিযোগ করা হয় নি, তবে তিনি পুলিশের সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য জানাতে অস্বীকার করায় তাঁর নামে সারা ইউরোপ জুড়েই গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে. গ্রেট ব্রিটেনের সরকার, যেখানে বিগত কিছু কাল ধরে আসাঞ্জ ছিলেন, তারা রাজী হয়েছে আসাঞ্জকে সুইডেনে পাঠানোর জন্য. কিন্তু আসাঞ্জ এক মাস আগে ইকোয়েডর দেশের দূতাবাসে ঢুকে পড়ে রাজনৈতিক শরনার্থী হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন. আসাঞ্জের অনুরোধ মেনে নেওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করে ইকোয়েডর দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান রিকার্ডো পাতিনিও তাঁদের সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারে উল্লেখ করে বলেছেন:

“ইকোয়েডর দেশের সরকার নিজেদের নীতির প্রতি অবিচল থেকেই – স্থির করেছে যে সেই সমস্ত লোককে রক্ষা করবে, যারা তাদের দেশের এলাকার মধ্যে অথবা তাদের দেশের কূটনৈতিক মিশনের এলাকার মধ্যে আশ্রয় চেয়েছে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জুলিয়ান আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হবে”.

এখন জুলিয়ান আসাঞ্জ ইকোয়েডর দেশের কাছ থেকে অথবা তাদের লন্ডনের দূতাবাসের কাছ থেকে সেখানে থাকার বা সেই দেশে যাওয়ার বিষয়ে সাহায্য চাইতে পারে. এই ধরনের সম্ভাবনা ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের রয়েছে. কিন্তু ব্রিটেনের সরকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্বন্ধে নিজেদের বানানো ধারণা রয়েছে. তাদের স্থানীয় আইন অনুযায়ী তারা দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনের মর্যাদা হানী করতেই পারে, যদি মনে করে যে, সেখানে তাদের মতে আইন বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে – আর তারা দূতাবাসে ঢুকে পড়ে সেখানের মর্যাদা না মেনেই আসাঞ্জকে জোর করে ধরে আনতে পারে. এই রকমের বিষয়ই ব্রিটেনের সরকার ইকোয়েডরের দূতাবাসকে লিখিত ভাবে জানিয়েছে.

এই ধরনের বিশ্ব স্বীকৃত নিয়মের অবমাননা বহু দেশেরই সমালোচনার কারণ হয়েছে. এই কারণেই লন্ডন কিছুটা গলার জোর কমিয়েছে, স্বীকার করেছে যে, আসাঞ্জের ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যদিও তারা নিজেদের দৃঢ় ইচ্ছা যে, তারা আসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করে সুইডেনে পাঠাবেই, তা লুকিয়ে রাখে নি. আর সেখান থেকে তার – আমেরিকায় পৌঁছনোর রাস্তা সোজা, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ না করেই রাজনীতিবিদ পাভেল স্ভিয়াতেনকভ বলেছেন:

“আমার মনে হয়েছে যে, ইকোয়েডর আসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে তৈরী থাকলেও, খুব সম্ভবতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসাঞ্জ সম্বন্ধে নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করবেই. কারণ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সেই ধরনের কাজ, যা “উইকিলিক্স” করেছে, তা যেন শাস্তির উর্দ্ধে না হয়. এমনকি যদি আসাঞ্জ ইকোয়েডর চলেও যায় অথবা তাদের দূতাবাসেও থেকে যায়, তবুও আমেরিকার লোকরা তাকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়েই যাবে আর হয় আগে নয়তো পরে নিজেদের হাতেই পেয়ে যাবে”.

শরনার্থী হওয়ার পরিস্থিতি আসাঞ্জের উপরে থেকে কিন্তু যার বিশেষ খোঁজ চলছে, সেই রকমের অপরাধীর পরিস্থিতি বদল করে নি. ইন্টারপোল সমর্থন করে জানিয়েছে যে, “উইকিলিক্স” সাইটের স্রষ্টা তথাকথিত লাল তালিকায় রয়েই গিয়েছেন. ইন্টারপোলের সাইটের লাল রঙের কোনায় দাগানো যে দলিলের অর্থ হল যে, সেই সব দেশ ও সংগঠন, যারা এই সংস্থায় রয়েছে, তারা যে কোন ধরনেরই ব্যবস্থা নিজেদের আইন সম্মত ভাবে নিতে পারে যাতে সেই লোককে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়.