সিরিয়া সংক্রান্ত “কাজের গোষ্ঠীতে” রাশিয়ার পশ্চিমের সহকর্মী দেশ গুলি সেই দেশে শান্তি স্থাপনের বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখায় নি. শুক্রবারে এই মর্মে রাশিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের প্রতিনিধি, তুরস্ক, ইরাক, কুয়েইত, কাতার ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে বৈঠককে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে.

এই বৈঠকের রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘে করেছিল এই সব দেশের রাষ্ট্রদূতদের স্তরে এবং এই মর্মে একটি সিদ্ধান্তের খসড়াও প্রস্তাব করেছিল, যাতে নিজেদের উদ্যোগকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল. তার মধ্যে – একটি ছিল বিরোধী পক্ষদের কাছে নিজেদের থেকেই অগ্নি সম্বরণের জন্য এক সংক্ষিপ্ত সময় ঘোষণা করার ঘোষণা আদায় করা. অন্য একটি ছিল – তাদের থেকেই শান্তি আলোচনায় বসার জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পন্ন প্রতিনিধি দল পাঠানোর আহ্বান করা.

“কাজের গোষ্ঠীর” কিছু দেশ এই সাক্ষাত্কারে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত দলিল আলোচনা করতে চেয়েছিল. “কাজের গোষ্ঠীর” পশ্চিমের প্রতিনিধিরা বলেছে যে, তারা এটা করতে তৈরী নয়. নানা রকমের কারণ দর্শানো হয়েছে ও নানা রকমের শর্ত আরোপও করা হয়েছে. তারই মধ্যে রাশিয়ার উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমের প্রতিক্রিয়ার কারণ যথেষ্ট স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক অ্যাকাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

“বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের অধীনে সহকর্মী দেশ ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন – বিশ্ব সমাজকে ভুল বোঝাচ্ছে. আর পরে বিশ্ব সমাজই হঠাত্ করে বুঝতে পারবে যে, তাদের ভুল বোঝানো হচ্ছিল, আর তখন শুরু হবে যথেষ্ট দ্রুত জেগে ওঠার পালা. তাই প্রয়োজন পড়েছে সিরিয়ার বিরোধ সমাধানের জন্য শক্তি প্রয়োগ করার, যা বর্তমানে রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা করছেন, সঙ্গে আছেন চিন ও তাদের সবচেয়ে কাছের সহকর্মী দেশ গুলি”.

পশ্চিম রাশিয়ার উদ্যোগ যাতে আরও একবার বিরোধের দুই পক্ষকেই সমান চাপ দেওয়া নিয়ে করা হয়েছে, সেই সম্বন্ধে কোন উত্তর দেয় নি, কারণ তারা নিজেরাই সিরিয়াতে নিজেদের খেলা খেলছে. তারা বিরোধী পক্ষকে সামরিক সাহায্য দেওয়া বাড়িয়েছে যাতে দেশের আইন সঙ্গত সরকারকে ফেলে দেওয়া যায়. এই বিগত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন বাস্তবে চেষ্টা করেছিলেন নতুন করে সিরিয়া বিরোধী এক জোট তৈরী করার, যাতে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী ও তুরস্ক অংশ নিয়েছিল. তিনি টেলিকনফারেন্স করে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে বাড়তি সহায়তা করার জন্য ব্যবস্থা নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন. বাশার আসাদকে উচ্ছেদ করার জন্য জঙ্গীরা বিদেশ থেকে অস্ত্র সরবরাহ পাবে, তার সঙ্গে থাকবে গোলা বারুদ, যোগাযোগের ব্যবস্থা, গোয়েন্দা দপ্তরের পাওয়া খবর. নতুন করে ভাড়াটে সেনার দল সেই দেশে পাঠানো হবে. এক বছর আগে এই একই রকমের সব ব্যাপার করা হয়েছিল লিবিয়ার নেতা মুহম্মর গাদ্দাফিকে ফেলে দেওয়ার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“এটা খুবই পরিষ্কার একটা ধান্ধা লিবিয়ার চিত্রনাট্যকেই আবার কার্যকরী করার. প্রসঙ্গতঃ, কিছু দিন আগেই ক্লিন্টন বলেছিলেন যে, তিনি সিরিয়ার আকাশ উড়ান মুক্ত করতে চান. আর এটাই সিরিয়ার বিষয়ে সামরিক অনুপ্রবেশের স্পষ্ট ইঙ্গিত. উড়ান বিহীণ এলাকার অর্থ হল যে, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া, আকাশ পথে বোমা বর্ষণ, ডানাওয়ালা রকেট দিয়ে আঘাত হানা. এটা সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ. সেটা করা যেতে পারে শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে অগ্রাহ্য করেই, কারণ এর আগে তিন বার রাশিয়া ও চিন এই ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছে, যা করতে দেওয়া হলে সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানে লিবিয়ার পথই ধরা হত”.

প্রসঙ্গতঃ, বিদেশী ভাড়াটে সেনাদের ক্ষেত্রে, যারা সিরিয়া বিরোধী পক্ষকে বাশার আসাদকে ফেলে দেওয়ার জন্য সাহায্য করছে, তাদের সঙ্গে এই সপ্তাহে যোগ দিয়েছে লিবিয়া থেকে আসা দুই জন পদাতিক জঙ্গী বাহিনীর কম্যান্ডার. তারা সেই সব আক্রমণের পুরোধা ছিল যারা ত্রিপোলি শহরে মুহম্মর গাদ্দাফির রাষ্ট্রপতি ভবনে আক্রমণ করেছিল. তাদের সঙ্গে এখানে এসেছে স্নাইপার ও ভাড়াটে সেনা দল, যারা ভারী অস্ত্র ও আকাশ পথে বিমানের উপরে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করতে জানে.

শুক্রবারেই “আল- আরাবিয়া” টেলিভিশন চ্যানেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক উত্স উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ ১৪টি মোবাইল “স্টিঙ্গার” ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে. সেই গুলি তুরস্কের এলাকায় পাঠানো হয়েছে ও সে বিষয়ে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তেমনই তুরস্কের সরকারও ওয়াকিবহাল. এই বিষয়ে আবার অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে সৌদি আরব থেকেই. সেন্ট পিটার্সবার্গের নিকট প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার সোতনিচেঙ্কো সাবধান করে দিয়ে বলেছেন:

“পশ্চিম সিরিয়াতে আগুন নিয়ে খেলা করছে, তারা সিরিয়ার পথ মোটেও গণতন্ত্রের দিকে ফেরাচ্ছে না. নিয়মিত ও প্রভূত অর্থ সাহায্য যা আজ সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে করা হচ্ছে, তা শেষ অবধি এমন জায়গায় উপস্থিত করবে যে, বাশার আসাদ নিজের পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন. কিন্তু তখন সিরিয়া একেবারে যুদ্ধ ক্ষেত্রেই পরিণত হবে. সেখানে শুরু হবে সত্যিকারের গৃহযুদ্ধ”.

শুক্রবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের পক্ষ থেকে বিশেষ দূত সিরিয়া বিরোধের মীমাংসার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন আলজিরিয়ার কূটনীতিবিদ লাখদার ব্রাহিমি, তিনি কোফি আন্নানের আগষ্ট মাসের শেষে এই পদ থেকে সরে যাওয়া পরে কাজ চালিয়ে যাবেন. মস্কোতে আশা করা হয়েছে যে, লাখদার ব্রাহিমি সিরিয়া সংক্রান্ত “কাজের গোষ্ঠীর” কাজ কর্মেও যোগ দেবেন.