দিল্লীর কৃষিপণ্য রপ্তানীকারক কোম্পানী ‘ওং ইন্ডিয়া ট্রেডিং কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড’এর মহিলাকর্মী ফিরদৌস আহমেদ রাশিয়া সফরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. তার গন্তব্য আমাদের দেশের সবচেয়ে পূর্বপ্রান্ত – দূর প্রাচ্যের সাখালিন দ্বীপপুঞ্জ. সেখানে ২৩-২৮শে আগস্ট আয়োজিত হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষামুলক যুব ফোরাম, যার নাম দেওয়া হয়েছে – ‘নতুন অর্থনীতি ও যুবসমাজের উদ্যোগাবলী’. ফিরদৌস বলছে – রাশিয়ার সুদূর বিভিন্ন প্রান্তে সফর করার স্বপ্ন আমার ছিল বরাবর.

 

ফিরদৌস আহমেদ বলছে – আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ২০০৮ সালে কয়েক মাস ধরে মস্কোয় শিক্ষালাভ করবার. আমি পুশকিন ইনস্টিটিউটে হায়ার কোয়ালিফিকেশনের ক্লাসে যোগ দিয়েছিলাম. আর তার আগে নয়াদিল্লীর রুশী বিজ্ঞান ও কলা কেন্দ্রে পড়াতাম. রুশী ভাষা জানার সুবাদেই আমি তলস্তোয়, দস্তয়েভস্কি, গোর্কির পিতৃভুমি দর্শন করার সুযোগ পেয়েছি, ‘ওং ইন্ডিয়া ট্রেডিং কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেডে’ চাকরি পেয়েছি, যারা অনেক বছর ধরে রাশিয়ার মার্কেটে ব্যবসা করছে. সাখালিনে অনুষ্ঠিতব্য আগামী যুব ফোরামে যোগদান করার জন্য আমাকে মনোনীত করা হয়েছে বলে আমি অত্যন্ত খুশি. সুতরাং এখন আমার রাশিয়ার দূরতম প্রান্তে যাওয়ার সুযোগ এল. ভারতে তো আমরা ঐ প্রান্ত সম্মন্ধে খুব কমই জানি.

বাস্তবিকই সাখালিন অতীতে পরিত্যক্ত প্রান্ত ছিল. এখন সে সম্পর্কে ভাবাও কষ্টকর. উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে সেখানে পৌঁছেছিলেন ডাক্তার আন্তন চেখভ, যিনি পরবর্তীকালে বিশ্ববন্দিত লেখকে পর্যবসিত হয়েছিলেন. সেখানে তিনি নির্বাসিতদের চিকিত্সা করতেন, স্থানীয় অধিবাসীদের জন্ম-মৃত্যুর তালিকা সংকলন করেছিলেন এবং এশিয়ার পূর্ব উপকূলে চরম ভাবাপন্ন জলবায়ু সম্বলিত সবচেয়ে বড় দ্বীপটি সম্পর্কে চেখভ তাঁর স্মৃতিচারনা রেখে গেছেন.

আজকের য়ুগে সাখালিনে বড় বড় সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে. তার মধ্যে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসও আছে. সেইরকম একটা প্রকল্পে – সাখালিন-১ এ ভারতও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে. ও.এন.জি.সি. প্রকল্পটির ২০ শতাংশের অংশীদার. তাছাড়া কোম্পানীটি একাধিক বার সাখালিন দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য প্রকল্পেও যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. সাইবেরিয়া, দূর প্রাচ্য, সাখালিনের সাথে সহযোগিতায় বহু ভারতীয় কোম্পানীই আগ্রহী. ‘ওং ইন্ডিয়া ট্রেডিং কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড’ তাদের অন্যতম.

ফিরদৌস আহমেদ বলছে, যে তাদের কোম্পানী রাশিয়া ও সি.আই.এসের বিভিন্ন দেশে চাল, তিল, মসলা ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সরবরাহ করে. আমরা নতুন শরিকদের খুঁজে বের করে রপ্তানী পণ্যের বহুবিধতা বাড়াতে উদগ্রীব. শুধুমাত্র রাশিয়ার কেন্দ্রাঞ্চলেই নয়, যেখানে আপাততঃ আমরা মুলতঃ পণ্য সরবরাহ করছি, সাখালিনের মতো দূরবর্তী প্রান্তেও. ফিরদৌস আহমেদের দৃঢ় বিশ্বাস এই, যে আসন্ন যুব ফোরামে সমবয়সী বিজনেস কলেজ থেকে পাশ করা ম্যানেজারদের ও রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের তরুন ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ-আলোচনা, বিতর্ক ভাবী সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে.

আন্তর্জাতিক শিক্ষামুলক যুব ফোরাম – ‘নতুন অর্থনীতি ও যুবসম্প্রদায়ের উদ্যোগাবলী’ সাখালিনে ২০০৮ সাল থেকে আয়োজিত হচ্ছে. এই বছরে রাশিয়া, চীন, ভারত, জাপান, মঙ্গোলিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ থেকে ৪০০ প্রতিনিধি আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে.