সিরিয়ার সংকট নিরসনে আগ্রহী বিশ্ব নেতারা সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের নতুন বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমীকে স্বাগতম জানিয়েছেন. বেইজিং, লন্ডন, ওয়াশিংটন ও মস্কো মনে করছে যে, লাখদার ব্রাহিমী তার অভিজ্ঞতার আলোকে ওই অঞ্চলের সামরিক সহিংসতা বন্ধ করতে পারবেন.

খুব শীঘ্রই কফি আনানের পদের দায়িত্ব নিতে যাওয়া আলজিরিয়ার  কুটনীতিক লাখদার ব্রাহিমী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একই সাথে বিপ্লবী নেতা, স্বাধীনতার পক্ষের যোদ্ধা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন. কূটনৈতিক জ্ঞানের পারদর্শিতায় তাঁর রয়েছে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি. এমন কথাই বলেছেন মস্কোর আফ্রিকা ইনস্টিটিউট রিসার্চ সেন্টারের সহকারী বিশেষজ্ঞ আলেকসান্দার তেকাচেনকা. তিনি বলেছেন, “আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ সহিংসতা বন্ধ করার জন্য এই মানুষটির রয়েছে অনেক অভিজ্ঞতা. এই লাখদার ব্রাহিমীই ইথিওপিয়া-এরিত সংকট নিরসন নিয়ে কাজ করেছিলেন”.

সঙ্গতকারণেই পশ্চিমা ও আরব দেশসমূহ এবং চীন এই বিশেষ প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং লাখদার ব্রাহিমী যে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি তা নিয়ে কারই প্রশ্ন নেই. তবে এখন দেখার বিষয় হচ্ছে যে, তিনি কোন পক্ষ হয়ে কাজ করবেন. এমন কথাই বলেছেন স্তানিসলাভ তারাসোভ. তিনি বলেন, “কফি আনান অবশ্যই নিজের প্রস্তাবিত কার্যক্রম নিয়ে কাজ করেছেন. তিনি সিরিয়ার সংকট নিরসনে ৬টি প্রস্তাব উল্লেখ করেন এবং যাকে রাশিয়া ও চীন সমর্থন জানিয়েছিল. কিন্তু তার ওই প্রস্তাবকে পশ্চিমা জোট ও কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক ব্লক করে দেয়. বলা যাচ্ছে না লাখদার ব্রাহিমী হয়ত আবার ৬টি প্রস্তাব করতেও পারেন”.

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কফি আনানের অভিজ্ঞতা না নিয়ে ব্রাহিমীকে একদম শূণ্য থেকেই আবার কাজ শুরু করতে হবে. এর কারণ হচ্ছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তন হচ্ছে. সম্প্রতি সিরিয়াকে ওআইসি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে. আর ১ দিন পরই সিরিয়ায় জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক মিশনের সময়সীমা অতিক্রম করবে. এর পরিবর্তে দামাস্কাসে জাতিসংঘের সমন্বয়কারী একটি ব্যুরো খোলা হবে. ভুলে গেলে চলবে না যে, সেখানে এখনও সামরিক অভিযান বন্ধ হয় নি.