মস্কোর খামোভনিকি আদালতের বিচারপতি মারিনা সীরভা, যিনি পাঙ্ক গ্রুপ পুসি- রায়টের সমাজে আলোড়ন তোলা এক মামলার বিচার করছেন, তাঁকে বিচারের রায় দেওয়ার একদিন আগে খুবই কড়া সরকারি নিরাপত্তার ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে. এই ব্যবস্থার কারণ হল যে, তাঁকে নিয়মিত ভাবে অজ্ঞাত পরিচয় লোকরা নানা রকমের হুমকি দিচ্ছে বলে.

১৭ই আগষ্ট বেলা তিনটের সময় থেকে মামলার রায় দেওয়া শুরু হয়েছে, যাতে ইকাতেরিনা সামুতসেভিচ, মারিয়া আলিওখিনা ও নাদেঝদা তলকোন্নিকোভা কে মামলার রায় শোনানো হয়েছে. বিচারপতি অভিযুক্তদের সম্বন্ধে আনা অভিযোগ মেনে নিয়ে বলেছেন যে, তারা সত্যই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গির্জার সম্মান হানী করার জন্য এই কাজ করেছে ও তিন জনকেই দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন.

ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে এই পাঙ্ক দলের মেয়েরা রাশিয়ার সবচেয়ে ক্যাথেড্রাল চার্চ ক্রাইস্ট দ্য সেভিয়্যরের প্রধান প্রার্থনা মঞ্চে উঠে মানবিক মূল্যবোধের বিচারে খুবই ন্যক্কার জনক এক আচরণ করে, তার ছবি ইউ টিউবে প্রচার করেছিল. তারা এটার নাম দিয়েছিল পাঙ্ক- প্রার্থনা. চার জনের দলের তিন জনকে এই সূত্রে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল. পুলিশের তরফ থেকে এদের বিরুদ্ধে বদমায়েশী করার অভিযোগ করা হয়েছে. কিন্তু এই মামলার রায় যতই এগিয়ে এসেছে, ততই পুসি- রায়ট দলের কাজের চারপাশ জুড়ে বেশী করে গোলমাল শুরু হয়েছে. প্রতিবাদ শুরু হয়েছে বিশ্বের বহু দেশেও, তার ওপরে আবার তারা নিজেদের কাজের পক্ষে বিশ্ব বিখ্যাত সব সঙ্গীত শিল্পী যেমন ম্যাডোনা, স্টিং ও পল ম্যাকার্টনির মতো লোককেও টেনে আনতে পেরেছে. পাঙ্ক দলের বিরুদ্ধে সরকারের কাজ পশ্চিমে কিছু লোকের মনে হয়েছে যে, রাশিয়াতে বাক্ স্বাধীনতা হরণের সমান ব্যাপার.

রায় যে রকমই হোক না কেন, এই ঘটনা মনে তো হয় না যে, এক দিনেই শেষ হয়ে যাবে, এই রকমই মনে করে রাজনীতিবিদ আলেক্সেই মুখিন বলেছেন:

“এই মামলা ও তার পরে রায়– এটা স্রেফ রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের বিরুদ্ধে এক বহুল প্রসারিত কারবার ও তার লক্ষ্য হল অর্থোডক্স চার্চের সম্মান হরণ করা. পুসি- রায়ট – এটা বড় এক খেলার একটা অঙ্গ মাত্র. আর সেই সামাজিক প্রতিধ্বনি, যা সারা বিশ্বে তোলার চেষ্টা হয়েছে, যা আমরা বিগত সময়ে দেখতে পাচ্ছি, তা এই দৃষ্টিকোণকেই সমর্থন করে. আর যদি রায় কড়া হয়ে থাকে, তবে এই দলকে চেষ্টা করা হবে একটা প্রতীক বানানোর, যারা প্রশাসনের চাপে নষ্ট হয়ে যাওয়া এক নির্দোষ বলি, আর যদি রায় দেওয়া হত নরম, তবে দোষ দেওয়া হবে যে, সামাজিক মতের চাপে ভয় পেয়ে নতি স্বীকার করা হয়েছে”.

এরই মধ্যে এই ঘটনার অংশীদার পুসি- রায়ট দলের মেয়েরা নিজেদের অভব্য ব্যবহার দিয়ে চার্চকে নীচু করার আগেও বহু কাণ্ড করেছে. তাদের এক মেয়ে নাদেঝদা তলকোন্নিকোভা "যুদ্ধ" নামের এক আর্ট গ্রুপের সদস্যা. এই দল তাদের খোলাখুলি বদমায়েশী কাজের জন্য সকলের জানা, যা তারা নাম দেয় রাজনৈতিক কাজ বলে. তারা নানা রকমের অভব্য যৌন আচরণ এর আগে প্রকাশ্য করেছিল – যেমন জীববিদ্যার জাদুঘরে ও মস্কোর এক সুপার মার্কেটেও, যা অনেকটাই পর্ণোগ্রাফির সমান. রাজনীতিবিদ মিখাইল রেমিজভ মনে করেন যে, দেশের জনতার এক নির্দিষ্ট অংশের কাছে এই ধরনের আচরণ খুবই পছন্দসই হয়েছে, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“গন আবেদন কারী শিল্পের এক্তিয়ারে এই ধরনের বেশ কিছু প্রভাবশালী খন্ডিত দল থাকে, যারা ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে আচরণ করে থাকে. তারা এক ধরনের পারস্পরিক সমঝোতা দেখিয়ে থাকে, এই ধরনের দলকে নিজেদের বলে থাকে. এদের মোদ্দা কথা হল যে, তারা এই ধরনের কাজের মধ্য দিয়ে আক্রমণ করতে পারে সমাজকে, রাশিয়াতে যারা স্বাভাবিক ও চিরাচরিত মূল্যবোধের পক্ষে, তাদের হেয় করতে পারে”.

ইউরোপের বহু সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে যে, তাদের দেশেও এই ধরনের ঘটনা হলে এই মেয়েদের শুধু জরিমানা দিয়েই ছাড় পাওয়া হয়ে যেত. কিন্তু যদি এই ঘটনা জার্মানীতে ঘটত, তবে এই মেয়েদের কাণ্ডকে বলা হত ফৌজদারী আইন অনুযায়ী ধর্ম পালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে ও সে ক্ষেত্রে শাস্তি হত তিন বছরের কারাদণ্ড.