ভারত সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক সুপারিশ প্রকাশ করেছেন, যাতে তাঁদের ব্যবহারের নিয়মাবলী রয়েছে, খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম. এক চিঠিতে, যা প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের সচিব পুলক চট্টোপাধ্যায় তাঁর সহকর্মীদের কাছে পাঠিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে যে, কর্মচারীরা তাঁদের রাজনৈতিক কর্তাদের কাছে যেন কোন রকমের বিশেষ সুবিধা না চান, বেআইনি সিদ্ধান্ত সমর্থন বা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সরকারি পদের ব্যবহার না করেন.

সব মিলিয়ে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই: এটা যে কোন কর্মচারীর জন্য সাধারন ভাবে ব্যবহারের নির্দেশ. কিন্তু এই ধরনের চিঠির উদ্ভব হওয়ার ঘটনাই বলে দিচ্ছে যে, ভারতে দুর্নীতির প্রসার কতদূর হয়েছে, যদি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবচেয়ে স্বাভাবিক জিনিষ গুলি বুঝিয়ে বলতে হয়, তাহলে. আর এটা খুবই দুঃখের বিষয় যে, প্রায়ই বহু কাজকর্ম, যা দুর্নীতির সংজ্ঞায় পড়ে যায়, তাকে আর অপরাধ বলে ভাবা হচ্ছে না. যেমন, স্থানীয় কর্তা বা পুলিশের প্রধানকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে (আর ভারতে এই ধরনের ব্যবসায়ী অসংখ্য) কোন একটা ছোট গ্রামে “ভেট” দেওয়া হয়ে থাকে, শুধু এই কারণে যে, তাঁরা পদ আলো করে আছেন ও ব্যবসায়ীদের কাজকর্মে বাধা হচ্ছেন না, আর এটাকেই মনে করা হচ্ছে একেবারে স্বাভাবিক ও এমনকি তা কারোরই মনে রাখারও দরকার নেই, তাই আমাদের সমীক্ষক রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি উল্লেখ করে বলেছেন:

“সরকারি কর্মচারীদের জন্য ব্যবহারের “নতুন” নিয়ম আরও এই কারণেই মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যে, এক সপ্তাহ আগে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের আত্মীয় শিবপাল সিং যাদব এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেছেন, যা স্থানীয় টেলিভিশন সংবাদের একেবারে সবচেয়ে “হিট” হওয়া খবর হয়েছে. এক সাংবাদিকদের জন্য রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি বক্তৃতা দিতে গিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, যদি সরকারি কর্মচারীরা অনেক কাজ মন দিয়ে করেন, তবে তাঁরাও কিছু চুরি করতেই পারেন, কিন্তু এটা যেন ডাকাতি না হয়ে যায় (বিবিসি সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি এই বিষয়ে উল্লেখ করার যোগ্য).

আর যদিও শিবপাল যাদব পরে নিজের কথাই উল্টো করতে চেয়েছেন, এই বলে যে, তা মূল বক্তব্যের থেকে আলাদা করে বের করে আনা হয়েছে, আসলে তিনি বলতে চাইছিলেন এই ভাবে ভারতবর্ষের দুর্নীতির সমস্যার সমস্ত জটিলতা ও পরস্পর বিরোধী প্রকৃতি সম্বন্ধে, বিশেষ করে সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যার রাজ্য উত্তর প্রদেশের সমস্যা নিয়ে, যেখানে অনেক সারা দেশ জোড়া সমস্যাই বিশেষ করে বেশী করেই দেখা যায়”.

এই রাজ্যে বহুবারই যাদব পরিবার ক্ষমতায় এসেছে ১৯৮৯ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে, আর মুখ্যমন্ত্রীর পদ সেই সব বছরে অলঙ্কৃত করেছেন বর্তমানের মুখ্য মন্ত্রী অখিলেশ যাদবের বাবা মুলায়ম সিং যাদব. এই সব বছর ধরেই পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ করা হয়েছে. একেক সময়ে যাদবের পরিবর্তে “বহুজন সমাজ” পার্টির নেতৃ মায়াবতী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে নিজেকে সমাজের সবচেয়ে উত্পীড়িত জনতার রক্ষাকর্ত্রী বলে দেখানোর চেষ্টা করেছেন. কিন্তু রাজ্যে সবচেয়ে বড় দায়িত্বের পদে থাকাকালীণ, তিনি নিজেও বহু বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গিয়েছেন.

এই বছরে পিতা ও পুত্র যাদবদের নেতৃত্বে সমাজবাদী দল রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে, তারা খুবই জোর গলায় রাজ্যকে দুর্নীতি মুক্ত করার আহ্বান করেছেন. আর এখন, দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি কর্মচারীদের “কিছুটা করে” চুরি করতে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা হচ্ছে. শুধু দুঃখ একটাই যে, মন্ত্রীর কথায় বা প্রধানমন্ত্রীর সচিবের চিঠিতে এই অল্প চুরি মানে কতটা তা বলা নেই.

এই সবই আবার করে বলে দেয় যে, দেশে দুর্নীতি শুধু সমস্ত কিছুকেই আচ্ছন্ন করে ফেলে নি, তার মোকাবিলায় শুধু রাজনৈতিক ঘোষণাই যথেষ্ট নয়.

এক দিকে প্রাচীন রূপকথায় বলা হয়েছে যে, সেই বীর যে ড্রাগনকে মারবে, তাকে সবার আগে নিজের ভেতরের ড্রাগনকেই মারতে হবে সম্পূর্ণ বিজয় লাভ করতে হলে.

সুতরাং বোধহয় এটার মধ্যেই সমাধান সূত্র লুকিয়ে রয়েছে, মনে হয় না কি?