সিরিয়াতে অগ্নি সম্বরণের জন্য খুবই কম সময় বরাদ্দ করা ও দামাস্কাস এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে সঙ্কট সমাধানের জন্য আলোচনার উদ্দেশ্য দুই পক্ষের নির্দিষ্ট প্রতিনিধি গোষ্ঠী তৈরী করা দরকার. মস্কোর এই প্রস্তাব রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া করা হয়েছে এক সিদ্ধান্তের বয়ান হিসাবে. এই দলিল শুক্রবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরে সিরিয়া সংক্রান্ত “কাজের গোষ্ঠীর” বৈঠকে আলোচনা করা হবে.

এই বৈঠক রাশিয়ার উদ্যোগে হয়েছে. “কাজের গোষ্ঠী” রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের ও সিরিয়ার প্রতিবেশী প্রধান দেশ গুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরী করা হয়েছে. রাশিয়া সহকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেছে দামাস্কাস ও বিরোধী পক্ষকে খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ বন্ধ করতে আহ্বান করার ও একই সঙ্গে নিজেদের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার জন্য প্রতিনিধি প্রস্তাব করার, যাঁরা নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় বসবেন. মস্কো প্রস্তাব করেছে এই সব সহমতে আসাকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে লিপিবদ্ধ করার.

এই “কাজের গোষ্ঠীর” বৈঠক আগের কাঠামোতেই কাজ করবে, যেমন করেছিল জেনেভায় ৩০শে জুন, সেখানে ইরান ও সৌদি আরবের প্রতিনিধি ছিল না. কিন্তু তার পরে রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ঠিক করেছেন এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাবেন. এই বৈঠকের নেপথ্যে আশা করা হয়েছে যে, ইরানও সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা “কাজের গোষ্ঠীর” আহ্বানকে সমর্থন করবেন এবং বিরোধের প্রধান প্রতিপক্ষদের মধ্যে সহমতে আসতে সাহায্য করবেন, যাতে তাঁরা নিজেরাই অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসন সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন.

এই কথা সত্য যে, এখনও এই ঘোষণা গ্রহণ করাই বাকী রয়েছে. এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাততঃ সম্পূর্ণ ভাবে বুঝে উঠতে পারে নি যে, এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়া কি লক্ষ্য সাধনে তত্পর হয়েছে. এটা সেই বিষয়ে ইঙ্গিত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার উদ্যোগ আঘাত করে নষ্ট করে দিতেই পারে, এই রকম মনে করেই রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক অ্যাকাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

“শ্রীমতী ন্যুল্যান্ডের ঘোষণা আমাকে অবাক করে নি, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখানে গোপন কর্মসূচী রয়েছে. তাদের খুব একটা উদ্বিগ্ন করে না যে, বাশার আসাদ ক্ষমতায় থাকবে কি না. তাদের অন্য একটি বিষয়ে বেশী উদ্বেগ রয়েছে – ইরানের পক্ষ থেকে আরব বিপ্লব অধ্যুষিত এলাকায় হঠাত্ করেই বেশী প্রভাব বৃদ্ধি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না, এখান থেকেই সিরিয়ার উপরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ও তাকে বহু ভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে. আর তার সঙ্গেই ইরানকে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে”.

সিরিয়াতে অগ্নি সম্বরণ করা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকদের মিশনের ম্যান্ডেট বাড়ানো হচ্ছে না, খুবই আসন্ন সময়ে এই দেশ ছেড়ে পর্যবেক্ষকরা চলে যাবেন. এই বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই মাসে সভাপতির পদে থাকা ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঝেরার আরো বৃহস্পতিবারে ঘোষণা করে বলেছেন:

“যদি তা নতুন করে বাড়ানো না হয়, তবে স্বাভাবিক ভাবেই মিশনের পর্যবেক্ষকদের ম্যান্ডেট সময় সীমা অতিক্রম করবে. কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উপস্থিতি বজায় রাখা. আমরা আশা করব, তা হবে ফলপ্রসূ”.

সিরিয়ার শহর গুলিতে অবিরাম হিংসার জন্যই পর্যবেক্ষকরা সম্পূর্ণ ভাবে কাজ করতে পারেন নি. ২০শে আগষ্ট রাত্রে এই মিশনের সময় কাল অতিক্রান্ত হবে. সিদ্ধান্ত করা হয়েছে যে, দামাস্কাসে মিশনের বদলে অফিস সহ যোগাযোগের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের ব্যুরো খোলা হবে.

দামাস্কাস নিজেদের পক্ষ থেকে দেশে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশনের যোগাযোগের ব্যুরো খোলার বিষয়ে সায় দিয়েছে. প্রাথমিক ভাবে তা তৈরী হবে সিরিয়াতে বর্তমানে থাকা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সেই সমস্ত কর্মীদের নিয়ে, যারা এই বিরোধের এলাকায় কাজ করতে রাজী হবেন. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের শান্তি অপারেশনের বিষয়ে সহকারী এডমন্ড মুল্লে যেমন ঘোষণা করেছেন যে, এই প্রতিনিধি অফিস বান কী মুনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এটা তৈরী করবেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা দামাস্কাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি মিশনের প্রধানকে সামরিক বিষয়ে পরামর্শ দেবেন. রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি দপ্তর একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়ে ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে, তারা মানবাধিকার রক্ষা বিষয়েও লক্ষ্য রাখবে.