পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে দুর্ঘটনার দায়ভার সংক্রান্ত ভারতীয় আইন পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে. রাশিয়া, অন্যান্য রাষ্ট্রের মতই, রিয়্যাক্টর নির্মাণ করে থাকে ও মোটেও সেই ধরনের কোনও চুক্তি স্বাক্ষর করতে তৈরী নয়, যার ফলে ব্যবহার করতে গিয়ে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে, তার দায়ভাগ নিতে হবে রিয়্যাক্টর প্রস্তুত কারক সংস্থা ও দেশকে, কেন্দ্রের চালক কোম্পানী নয়, তাই এই নিয়ে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

২০১০ সালে ভারতে এক আইন নেওয়া হয়েছিল, যেখানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিঘ্ন বা দুর্ঘটনার জন্য দায়িত্ব নির্দেশ করা হয়েছিল. এর নিগলিতার্থ হল যে, পারমানবিক রিয়্যাক্টরে কোন রকমের ঘটনা ঘটলে, তার দায়িত্ব রিয়্যাক্টর যে কোম্পানী তৈরী করেছে, তার উপরেই পড়বে. এই আইন নেওয়া হয়েছিল জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই. তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“যদি মনে করা হয় যে, এই ধরনের আইন আগে নেওয়া হত, তবে ফুকুসিমা পারমানবিক কেন্দ্রের ক্ষয় ক্ষতির জন্য আমেরিকার লোকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হত – কারণ সেখানে ছিল আমেরিকায় তৈরী রিয়্যাক্টর. এই ধরনের আইনের সঙ্গে একমত হওয়া - এটা অনেক ক্ষেত্রেই অর্থ হবে কেন্দ্র চালানো সংস্থার কর্মীর যোগ্যতার উপরে নির্ভর হয়ে পড়া, আর তারই সঙ্গে সেই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়া, যেখানে এই পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে বা হয়েছে. অবশ্যই এই ধরনের দায়িত্ব নিতে কেউই রাজী হবে না”.

দায়িত্ব ভাগ করা নিয়ে আইন, এর মধ্যেই ভারত ও ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমানবিক বিষয়ে সহযোগিতা একেবারেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছে. রাশিয়া ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে. ভারত রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টরে জ্বালানী ভরার বিষয়ে স্বীকৃতী দিয়েছে. এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ১০ দিন লাগবে. আর যদি সব কিছুই পরিকল্পনা মাফিক হয়, তবে ভারতের জাতীয় বিদ্যুত সরবরাহ পরিকাঠামোতে এই এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনে সক্ষম রিয়্যাক্টর যুক্ত হবে. আর বিশেষজ্ঞরা তখন কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর চালু করা নিয়ে কাজ করবেন.

ভারতের সঙ্গে কুদানকুলামে দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপনের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছিল ১৯৮৮ সালে. কাজ শুরু করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে. তাই আগের আইন যেহেতু পরবর্তী কালে বদলানো যায় না, এই প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর বর্তমানের আইনের আওতায় আসে না. কিন্তু কথা হয়েছে কুদানকুলামের তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে, যেগুলির সম্বন্ধে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০০৮ সালে, তাই সেই প্রশ্ন এখনও খোলা রয়েছে. আইনজীবীরা ব্যাখ্যা করে দেখছেন যে, এই চুক্তি কোনও স্বয়ং সম্পূর্ণ দলিল ছিল কি না, অথবা তা ১৯৯৮ ও ২০০৮ সালে দুই দেশের মন্ত্রীসভার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির অংশ কি না, যেখানে পারমানবিক কেন্দ্র চলাকালীণ সমস্ত দায়িত্ব কেন্দ্রের চালক সংস্থার উপরেই ন্যস্ত করা হয়েছিল.

টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্রে জানানো হয়েছে যে, ভারতের সরকার, খুব সম্ভবতঃ, রাশিয়াকে কুদানকুলামে তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর বসানোর বিষয়ে যে অনুরোধ রাশিয়ার তরফ থেকে করা হয়েছে তা অস্বীকার করবে এই আইনে নেওয়া দায়িত্ব সংক্রান্ত নিয়মের জন্যই, কারণ তা না হলে এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কোম্পানীদের তরফ থেকে অভিযোগের কারণ হতে পারে. এই ক্ষেত্রে, রাশিয়ার বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা খুবই বেশী করে জটিল হয়ে পড়বে.

কিন্তু একদল বিশ্লেষক মনে করেছেন যে, ভারতীয় আইনে পরিবর্তন করা যেতে পারে. যেমন, রিয়্যাক্টর উত্পাদকদের দায়িত্ব এক সময় সীমা পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হতে পারে. পারমানবিক কেন্দ্রের কোন দুর্ঘটনার জন্য ব্যবহার হওয়ার প্রথম পাঁচ বছরে উত্পাদককে দায়িত্ব নিতে হতে পারে, আর তারপরে এই দায়িত্ব যাবে পরিচালকের উপরেই. বর্তমানে যে সমস্ত মতবিরোধ রয়েছে, তাতে এই ধরনের আইনে সংশোধন সমস্যা সমাধান করতে পারে.