ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থা নিজেদের মধ্য সিরিয়াকে আর সদস্য দেশ হিসাবে দেখতে চায় না. এই ধরনের সিদ্ধান্ত এই সংস্থার মক্কা শহরের জরুরী অধিবেশনে নেওয়া হয়েছে.

এখানে ৫৬টি দেশের রাষ্ট্র নেতৃত্ব যোগ দিয়েছেন, যাতে সিরিয়াতে বিরোধের অবসান করা সম্ভব হয়. এই শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন নি সংস্থার সদস্য ও সেই সমস্ত প্রভাবশালী দেশের নেতারা, যেমন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী ও ইন্দোনেশিয়া. দামাস্কাসের উপরেই সেই দেশে রক্তপাতের জন্য প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে. এটা সিরিয়াকে শাস্তি দেওয়া ও সাময়িক ভাবে সংস্থার সদস্য পদ খারিজ করে দেওয়ার জন্য ভিত্তি হয়েছে. গত বছরের নভেম্বর মাসে সৌদি আরব ও কাতারের উদ্যোগে আরব লীগ এই পথেই চলেছিল.

সুতরাং এই ভাবে ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থা, এর আগে আরব লীগের মতই ওয়াশিংটনের বায়না মিটিয়েছে. আমেরিকার সরকার একাধিকবারই প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা সিরিয়াকে একঘরে করে দিতে চায়. এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মক্কা শহরে বক্তব্য পেশ করতে ঠিক করেছিল শুধু ইরান, যারা আজ ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থার সিদ্ধান্তকে বলেছে “অন্যায়” ও সংস্থার সনদের বিরোধী. জানা রয়েছে যে, প্রসঙ্গতঃ, সংস্থার অন্যান্য সদস্য দেশও আগে এই পদক্ষেপের যথার্থতা ও ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল – কিন্তু, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, তারা মক্কা শহরের বৈঠকে ঠিক করেছে চুপ করে থাকার.

সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের আধুনিক নিকট প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গুমের ইসায়েভ শীর্ষ বৈঠকের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন:

“ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থার সিদ্ধান্ত, যা আজ নেওয়া হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবেই প্রতীকী সংজ্ঞা বহন করে. এটা সিরিয়ার উপরে চাপ দেওয়া চালিয়ে যাওয়া, আসলে কোন রকমের গুরুত্বপূর্ণ পরিনাম এই কারণে ঘটবে না. এটা, প্রাথমিক ভাবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ, যাতে সিরিয়ার নেতৃত্ব নিজেদের একঘরে বলে মনে করে. অনেক বেশী অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে, যা প্রসঙ্গতঃ, অনেক বেশী গুরুতর, প্রথমতঃ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সেই সব আরব দেশের পক্ষ থেকেই নিয়মিত ভাবে সহায়তা করার সঙ্গে করা হয়েছে. তাই সিরিয়া কেন রকমের আরও বেশী গুরুতর সমস্যা অনুভব করবে না. তাদের এমনিতেই যথেষ্ট খারাপ অবস্থা”.

একই সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যথেষ্ট বেশী সংখ্যক সদস্য দেশ খুঁজে পাওয়া যায় নি, যারা বাইরের থেকে অনুপ্রবেশকে সমর্থন করেছে. এই কথা স্বীকার করেছেন বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার সাধারন সম্পাদক একেমেলেদ্দীন ইকসানোগলু. এই ধরনের সিদ্ধান্তে কোন কিছুই অবাক হওয়ার মতো দেখতে পান নি স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো, তিনি বলেছেন:

“সৌদি আরব ও কাতার বুঝেছে যে, পশ্চিম এই সংঘর্ষে সামরিক ভাবে জড়াবে না. অন্তত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তো নয়ই. তাদের এখন একটাই করার মতো কাজ আছে, আর তা হল, বিশ্বের বাকী দেশ গুলির সঙ্গে একমত হওয়ার ভান করে বলা, যে তারা সামরিক অনুপ্রবেশের কথা ভাবছে না. আসলে সৌদি আরবের ও কাতারের সিরিয়ার দিকে শক্তি প্রয়োগ সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে. যদি সব ঐস্লামিক সমাজ সম্বন্ধে বলতে হয়, তবে এই কথা ঠিক যে, এই ধারণা মোটেও জনপ্রিয় নয়. ঐস্লামিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন ঐস্লামিক দেশ গুলির নেতৃত্ব মেনে নিতে পারে না, যেমন ইরাক ও লিবিয়ার ক্ষেত্রেও এটা মেনে নেওয়া হয় নি”.

ঐস্লামিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠক সেই জন্যই ডাকা হয়েছিল, যাতে একসারি তীক্ষ্ণ মত বিরোধ মিটিয়ে ফেলা যায়. সংস্থার সদস্য পদ থেকে সিরিয়াকে খারিজ করাকে এই দিকে পদক্ষেপ বোধহয় বলা যেতে পারে না. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ঐস্লামিক বিশ্বে গভীরতর মতবিরোধ আজ বোধহয় অতিক্রম করাই সম্ভব নয়.