সোভিয়েত দেশ নেই, কিন্তু সোভিয়েত খেলাধূলার জয় অব্যাহত. এই ধরনের এক সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের সাংবাদিকরা পৌঁছেছেন, যাঁরা লন্ডন অলিম্পিকের পরে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সমস্ত রাজ্য গুলির মেডেল সংখ্যা গুনে দেখেছেন. সব মিলিয়ে ফল হয়েছে – ১৬৩টি মেডেল, যে সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের ক্ষমতা নেই অতিক্রম করার.

অলিম্পিক শেষ হওয়ার পরে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যম নিজেদের নানা রকমের ফলাফল প্রকাশ করে মনোরঞ্জন করছে. তাঁরা খুবই গর্বিত যে, তাঁদের দেশের দল এবারে সমস্ত জাতীয় দলের মধ্যে স্বর্ণপদকের সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে আসতে পেরেছে. আর এখন তাঁরা এই সাফল্যকে কতটা সত্যিকারের তা প্রমাণ করার জন্য নানা রকমের উপায়ে ফলাফল গুণতে বসেছেন. আর সেখানেই একের পর এক ব্যর্থতা আসছে, তা সে যত নতুন রকমের সব কায়দাতেই ফল গোনা হোক না কেন. প্রথম স্থানে অথবা তাদের তৃতীয় স্থানেও রুশ জাতীয় দল আসছে. অংশতঃ দ্য গার্ডিয়ান সংবাদপত্র ঠিক করেছিল অলিম্পিক গেমসকে একটা ভূ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসাবে দেখবে ও সব থেকে ভাল জাতীয় দল নির্ণয়ের জন্য দেশের বার্ষিক জাতীয় আয়কে, জনসংখ্যাকে, দলের আয়তনকে ও তারপরে কত গুলি মেডেল পাওয়া হয়েছে সেটাকে টেনে আনবে. ব্রিটেনের সংবাদপত্রের একটা আসা ছিল যে, এই ধরনের চালাকি করে নিজেদের জাতীয় দলকে প্রথম স্থানে না যাবে, কিন্তু দেখা গেল যে, এই সব একসাথে করলে সবচেয়ে সফল হয়েছে রাশিয়ার জাতীয় দল. আর আমেরিকার এক বিশেষজ্ঞ জোশুয়া কিটিং ঠিক করেছিলেন যে, সোভিয়েত দেশের কথা মনে করবেন. তাঁর হিসাব মতো প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সমস্ত রাজ্য একসাথে লন্ডনে ১৬৩টি পদক জিতেছে. প্রসঙ্গতঃ এই সব পদককে অংশতঃ সোভিয়েত বলেই মনে করা যেতে পারে – সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার ২১ বছর পরেও প্রাক্তন সব রাজ্যের জীবনে অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু খেলাধূলার স্কুল বা প্রশিক্ষণের ধরণ পাল্টায় নি, এই কথা মনে করে খেলাধুলার তথ্য সংস্থা “সমগ্র ক্রীড়া” নামের সংস্থার প্রধান সম্পাদক আন্দ্রেই মিতকভ বলেছেন:

“রাশিয়ার খেলাধূলাতে অন্যান্য রাজ্যের খেলাধূলার মতই আর কোনও খেলোয়াড় নেই যাদের সোভিয়েত ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে. শেষ সোভিয়েত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় শিক্ষা পাওয়া খেলোয়াড়রা ২০০৪ সালে আমাদের দলে ছিলেন এথেন্স অলিম্পিকে. কিন্তু প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কোন সন্দেহ নেই যে, সোভিয়েত দেশের মতই রয়েছে. স্রেফ এখনও সেই ধরনের প্রশিক্ষকরা তৈরী হয়ে উঠতে পারেন নি, যারা খেলোয়াড়দের জন্য সোভিয়েত দেশ পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন. এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের দলের লোকদের লন্ডন অলিম্পিকের সাফল্যকে – সোভিয়েত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রশিক্ষকদের সাফল্য বলেই মনে করা যেতে পারে. আর আমরাও এই সব লোকদের পায়ে প্রণাম জানাতে বাধ্য, যাঁরা একের পর এক প্রজন্ম ধরে চ্যাম্পিয়ন তৈরী করে দিচ্ছেন”.

বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতো, সমস্ত সোভিয়েত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সমস্ত তত্কালীন রাজ্যের আলাদা হয়ে যাওয়া ঘটবে ২০২০ সালের অলিম্পিকে. এই সময়ের মধ্যেই ট্রেনার হবেন সেই সমস্ত খেলোয়াড়রা, যাঁরা ২০০৪ ও ২০০৮ সালের অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন. কিন্তু যে কোন ভাবেই ২০২০ সালেও মেডেল গোনার প্রক্রিয়া থাকবে একই রকমের. যদি এখন তা অন্যায় ও সম্পূর্ণ ঠিক নাও হয়. তবে তা শুধু খেলাধূলার দিক থেকেই. এই ধরনের হিসাবে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলায় মেডেলের মূল্য একই রকমের থাকে. আর ভূ রাজনৈতিক দিক থেকে একটিও দেশ এই ধরনের হিসাবের কায়দা থেকে কোন দিনও আলাদা হতে চাইবে না, এই রকম মনে করে “চ্যাম্পিয়নশীপ.কম” সাইটের ‘লন্ডন ২০১২’ বিভাগের সম্পাদক আন্দ্রেই ইভানভ বলেছেন:

“মেডেল তার জন্য ব্যয় করা শারীরিক শক্তি ও আবেগ খরচের হিসাবে দেখলে, যেমন স্পোর্টিং জিমন্যাসটিক্সে খেলোয়াড় একটা ধরনের খেলায় তিন মিনিট ধরে খেলা দেখিয়ে স্বর্ণ পদক পায়, আর ভলিবলের দল সারা অলিম্পিক ধরেই খেলে তবে সোনা পায়, অর্থাত্ যখন ১৫ জন মানুষ সমস্ত কিছু উজাড় করে দিয়ে তবেই মাত্র একটা সোনার মেডেল দলের ভাণ্ডারে নিয়ে আসে, তখন এই দুটি মেডেলকে বোধহয় একসাথে তুলনা করা যায় না, কারণ এই দুটির মূল্যই আলাদা. কিন্তু মেডেলের সংখ্যা গোনা হয়ে থাকে ও তা সমস্ত দেশই সমর্থন করে থাকে. নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অংশের কারণেই দেশের ইমেজ ও প্রভাবের কথা বিচার করা হয়ে তাকে – সম্ভবতঃ এটাকেই সমস্ত কিছুর উপরে জোর করে বসিয়ে রাখা হয়. অলিম্পিকে জেতা খুবই ভাল লাগে, ভাল লাগে দেখাতে যে, তোমার খেলোয়াড়রা সবার সেরা, অন্য দেশের সবার চাইতে সেরা”.

অলিম্পিকের খেলা যেমন ছিল, তেমনই আছে ও এটা রাজনীতিবিদদের জন্য এক ধরনের শক্তি প্রদর্শনের উপায়. খেলোয়াড়দের জেতা মেডেলকে সে সব দেশের জাতীয় বার্ষিক আয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখার চেষ্টা হঠাত্ করেই করা হচ্ছে না. মনে করা হয়ে থাকে যে, এই সব সূচক একে অপরের সঙ্গে জড়িত আর যদি দেশ খেলাধূলার উন্নতির জন্য অর্থ খরচ করে, তবে তাদের অর্থনীতিতে সব কিছুই ঠিক আছে.