দুর্নীতি উচ্ছেদ করার জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমা স্ক্রু টাইট করতে শুরু করেছে.

রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় এখন দুর্নীতি-বিরোধী কয়েকটি আইনের খসড়ার ওপর আলোচনা চলছে. উক্ত প্রত্যেকটি আইন আমলাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি করার ও বিদেশে তাদের কান্ড-কারখানার উপর নজরদারী করার প্রস্তাব দিচ্ছে. প্রথমতঃ বিদেশে নিজস্ব বাড়িঘর কেনা ও বিদেশী ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট চালু থাকার ওপর নিযেধাজ্ঞা জারী করার আইনানুগ অধিকারের কথা হচ্ছে. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ‘ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া’ পার্টির সাংসদ ইয়েভগেনি ফিওদরভ সরকারী কর্মচারীদের বিদেশী নাগরিকদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করারও প্রস্তাব দিচ্ছেন.

বিদেশে সরকারী কর্মচারীদের ধনসম্পদ নিয়ে কায়দাকানুন সরকারকে সুযোগ দেবে এই লড়াইয়ে জেতার. সেই উদ্ধেশ্যে আইনও প্রনয়ণ করা হচ্ছে. আমরা এই আক্রমণ প্রতিহত করতে বাধ্য. বস্তুতঃ ঐ আইনের সুবাদে মার্কিনী নাগরিকরা অন্যান্য দেশের নাগরিকদের থেকে অনেক বেশি সুবিধা পাবে. ভুলে জাবেন না, যে কেমনভাবে যেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ইউশেনকো ও জর্জিয়ার রাষ্ট্রপতি সাকাশভিলির পত্নীরা মার্কিনী. এই আইন প্রনয়ণের প্রচেষ্টা পুরোপুরি রাশিয়া-বিরোধী.

সত্যি কথা বলতে কি, মিখাইল সাকাশভিলির পত্নী হল্যান্ডের নাগরিক, আমেরিকার নয়. আর ভিক্তর ইউশেনকোর স্ত্রী সেই ২০০৫ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন. রাশিয়ার আমলাদের মধ্যে সেরকম কারো বিদেশী স্ত্রী না থাকলেও, অধিকাংশের স্ত্রীরা ও সন্তানেরা দীর্ঘমেয়াদী বিদেশী ভিসা অথবা গ্রীন কার্ড নেয়. এটা রাশিয়ার সাংসদদের মতে, তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা দেবে. তবে ইন্টারন্যাশন্যাল পলিটিক্যাল সেন্টারের অধ্যক্ষ আলেক্সেই মুখিনের মতে, এরকম উদ্যোগ ভাবনাচিন্তার উর্দ্ধে.

আমার ধারনা, যে রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় স্বাভাবিক বুদ্ধির জয় হওয়া উচিত. এবং আলোচনার মাধ্যমে এমন সব আইন প্রনয়ণ করা উচিত, যেসব সরকারী কর্মচারীদের বিদেশীদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, বিদেশে বাড়িঘর বা ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্ট রাখাকে সীমাবদ্ধ করতে সমর্থ হবে. সবকিছুর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা বিচক্ষনতার কাজ নয়, কারণ আমলারাও মানুষ ও তাদের দৃষ্টিকোন থেকেও নিজ নিজ সত্য রয়েছে. তাদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করা ঠিক হবে না. যদি সরকারী কর্মচারী তার সঞ্চিত ধনসম্পদ যে আইনানুগভাবে রোজগার করা হয়েছে, তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সে ঐ ধনসম্পদের ব্যবহার কিভাবে করবে, তা নির্দ্ধারণ করার অধিকার তার থাকা উচিত. বিয়ের ক্ষেত্রেও সরকারী কর্মচারী তার হৃদয়ের ডাকে বিয়ে করবে, আইনের চোখরাঙানিতে নয়. আমার মনে হয়, যে আমলাদের জীবনযাত্রার ওপর খানিকটা বাড়াবাড়ি রকমের কড়াকড়ি আরোপ করার চেষ্টা চলছে.

রাষ্ট্রীয় দ্যুমা সামনের শরত্কালীন সেশনে ঐ সব আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা করবে. আর তখনি বোঝা যাবে, যে সরকারী আমলাকে প্রিয়তমা ও কেরিয়ারের মধ্যে কোনো একটা কিছুকে বাছাই করতে হবে কিনা.