গ্যালাপ ইন্টারন্যাশন্যাল অ্যাসোসিয়েশনে কর্মরত সমাজতত্ত্ববিদদের মতে পৃথিবীতে ধর্মান্ধ মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃই কমছে. ৫৯টি দেশের অধিবাসীদের জিক্ষাসাবাদ করে বিশেষজ্ঞরা নির্দ্ধারণ করেছেন, কোন্ কোন্ দেশ সবচেয়ে ধার্মিক, আরা সবচেয়ে বেশি নাস্তিক.

সংখ্যার দিক থেকে ৫৯% বিশ্বের অধিবাসী ধর্মাবলম্বী. তবে পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ বাসিন্দা নিজেদের ধার্মিক বলে মনে করে, যদিও কোনো ধর্ম-সম্প্রদায়কে মানে না, আর প্রত্যেক ৮ জনের ১ জন নিজেকে নাস্তিক বলে গণ্য করে. নাস্তিকরা সবচেয়ে বেশি বসবাস করে চীনে – জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ ও জাপানে – জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ. আর সবচেয়ে বেশি ধর্মপ্রান মানুষের বসত দেশগুলির তালিকার প্রথম ৫টি স্থানে সমাজতত্ত্ববিদরা স্থান দিয়েছেন ঘানা, নাইজেরিয়া, আর্মেনিয়া, ইরাক ও ব্রাজিলকে. সব মিলিয়ে হিসাব করে সমাজতত্ত্ববিদরা বলেছেন, যে গত ৭ বছরে যারা নিজেদের ধার্মিক বলে মনে করে, তাদের সংখ্যা ৭ শতাংশ কমে গেছে.

রাশিয়ায় এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা গ্যালাপ ইন্টারন্যাশন্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সমীক্ষার ফলাফলের কড়া সমালোচনা করেছেন. তাদের মতে সত্যিকারের ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যের মধ্যে ফারাক থাকা উচিত.

রাশিয়ায় বিগত ২ বছরে উপরোক্ত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের হিসাবে ধর্মীয় মাত্রা ২ শতাংশ কমেছে. সমীক্ষিত ৫৫ শতাংশ লোক কোনো একটা ধর্মীয় সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে, ২৬ শতাংশ বলেছে, যে তারা কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না. শুধুমাত্র ৬ শতাংশ লোক সাহসের সাথে নিজেদের নাস্তিক বলে ঘোষণা করেছে, আর ১৩ শতাংশ মানুষ জানতো না কি উত্তর দেওয়া দরকার. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্থাবলী সম্পর্কিত কমিটির ভারবাহক সের্গেই পপোভের বক্তব্য শুনুন.

 

ধর্ম ও ধার্মিকতা রাশিয়ার রাষ্ট্রতন্ত্রের বুনিয়াদ ছিল. আজ সংবিধান সার্বিক ধর্মনিরপেক্ষতার কথা ঘোষণা করা সত্বেও বহু অভিমুখে দেশের বিকাশে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে – বিশেষতঃ দেশে শান্তিরক্ষা ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে.

বোঝাই যাচ্ছে, যে এই দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে রাশিয়ার সেইসব রাজনৈতিক দল একমত হবে না, যারা ধর্মনিরপোক্ষতার কট্টর সমর্থক. কিন্তু সামাজিক সমীক্ষার বিষয়ে মার্কিনী সামাজিক সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষনায় দেখা গেছে, যে রাশিয়ায় এখন যুব-সম্প্রদায় বয়স্ক প্রজন্মের লোকেদের থেকে বেশী ধর্মপ্রাণ. মুসলমানদের সম্মন্ধেও এই কথাটা প্রযোজ্য. রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার মুসলমানদের কেন্দ্রীয় পরিচালন সমিতির উপ-সভাপতি আলবির করগানভ বলছেন.

আমার মনে পড়ে আমার ছেলেবেলা, যখন মসজিদে কম লোক যেতো, আর এখন সেখানে যুব-সম্প্রদায়ের ভীড়. দেখি, যে ধর্মবিশ্বাসীদের সংখ্যা কত বেড়ে গেছে. এটা শুধু ফ্যাশন নয়, অন্তরের টানেও তারা নমাজ পড়তে আসে.

কিন্তু গ্যালাপের সমীক্ষার ফলাফলকে মেনে নিলে এটা সব দেশের জন্য খাটে না. দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে চিত্রটা বরং উল্টো.