মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজকর্মে জোর দিয়েছে যাতে সিরিয়ার আইন সঙ্গত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়. পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন এই মর্মে এক টেলিফোন কনফারেনস করেছেন তাঁর গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী ও তুরস্কের সহকর্মীদের সাথে.

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের দেওয়া খবর অনুযায়ী এই কনফারেনসে সেই সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে, যাতে “সিরিয়ার প্রশাসনের পতন অবিলম্বে করা সম্ভব হয়”. এই আলোচনা সভার জরুরী চরিত্রের কথা ভাবলে বোঝা যায় যে, এবারে সাহায্যও করা হবে জরুরী ভিত্তিতেই. সুতরাং, পশ্চিম, আর প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিরিয়ার মন্ত্রীসভার পতন, বিদেশী ভাড়াটে সৈন্য ও দেশের ভিতরের শান্তি আলোচনায় বিমুখ বিরোধী পক্ষের হাতে ঘটানোর বিষয়ে আর বাধা দিচ্ছে না.

এই বিষয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বৈজ্ঞানিক সহকর্মী বরিস দোলগভ মন্তব্য করে বলেছেন:

“এটা স্পষ্টই লিবিয়ার জন্য যে চিত্রনাট্য তৈরী হয়েছিল, তার আবার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ, কয়েক দিন আগেই ক্লিন্টন সিরিয়াতে উড়ান বিহীণ এলাকা সৃষ্টি করার কথা বলেছিলেন. আর এটা সিরিয়ার বিষয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার জন্য আহ্বান. নিষিদ্ধ এলাকা – এটা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা, আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ, ডানাওয়ালা রকেট দিয়ে আঘাত. এটা সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ. তা শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে করা সম্ভব, কারণ এর আগে রাশিয়া ও চিন তিনবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ভেটো দিয়েছে, যা নেওয়া হলে লিবিয়ার মতো করেই সিরিয়ার সঙ্কটের মীমাংসা করা হত”.

প্রসঙ্গতঃ, সেই সমস্ত লোকরা, যাদের পশ্চিম খুবই সক্রিয়ভাবে অর্থ ও সামরিক অস্ত্র দিয়ে লিবিয়াতে সমর্থন করেছে, তারাই আজ সক্রিয়ভাবে বাশার আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে. মঙ্গলবারে সিরিয়াতে দুজন পদাতিক বাহিনীর কম্যান্ডার ঢুকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে, যারা এক বছর আগে হামলা করা বাহিনীর নেতা হয়েছিল লিবিয়াতে.

তারা ত্রিপোলি শহরে মুহম্মর গাদ্দাফির রাষ্ট্রপতি ভবন আক্রমণ করেছিল. তাদের সঙ্গেই এসেছে স্নাইপার ও ভাড়াটে সৈন্য দল, যারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও বয়ে নিয়ে যাওয়া মতো বিমান বিরোধী অস্ত্র চালাতে জানে.

বিদেশী ভাড়াটে সেনারা প্রধানতঃ সিরিয়ার উত্তরেই এখন রয়েছে, যেখানে আলেপ্পো ও তার সংলগ্ন অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত এলাকার দখল নিয়ে সরকারি ফৌজের সঙ্গে লড়াই চলছে. এই লড়াই সিরিয়ার বিরোধের সমাধানের বিষয়ে এক পথ নির্দেশক হতে পারে. রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ মনে করেন যে, বাইরের দেশ থেকে অনেক সাহায্য করা হলেও, সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষ সেই রকমের ফল দেখাতে পারছে না, যা পশ্চিমে ও বেশ কিছু পারস্য উপসাগরীয় দেশে আশা করা হয়েছিল, তিনি তাই বলেছেন:

“সিরিয়ার জাতীয় সভা, যা দেশের বাইরে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে, তারা সিরিয়ার ভিতরে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে নি. অর্থাত্ লিবিয়ার চিত্রনাট্যের এই অংশটি সিরিয়াতে পুনরাবৃত্তি করা যায় নি. আর আলেপ্পো দখলের প্রচেষ্টা ও সেখানে লিবিয়ার বেনগাজীর মতো বিরোধী পক্ষের সরকার তৈরীর চেষ্টাও সফল হয় নি”.

একই সময়ে পশ্চিম তাদের বেশ কিছু আরব দেশের সহকর্মীদের নিয়ে বাশার আসাদের বিরুদ্ধে প্রচারের যুদ্ধে শক্তি বৃদ্ধি করছে. প্রায় প্রত্যেক দিনই রটানো হচ্ছে নানা রকমের চাঞ্চল্যকর খবর, যা পরীক্ষা করে দেখা হলেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে কল্পিত ব্যাপার. অংশতঃ, সৌদি কাগজ “আল- ওয়তন” প্রচার করেছে যে, তাদের নাকি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাচ্য বিষয়ক পরামর্শদাতা ও বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল বগদানভের সঙ্গে সাক্ষাত্কার হয়েছে ও তিনি বলেছেন যে, বাশার আসাদ খুবই মনমরা হয়ে রয়েছেন ও যে কোন মুহূর্তে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তৈরী. অথচ এই ধরনের সাক্ষাত্কার কখনোই নেওয়া হয় নি ও এই ধরনের ভুল খবর রটানো লোকদের মস্কো থেকে প্ররোচক বলেই আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যারা নিজেদের কাজ দিয়ে সিরিয়াতে চাইছে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলতে.