আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘণ না করেই, রাশিয়ার আঘাত করতে সক্ষম এমন পারমানবিক ডুবোজাহাজ যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ সূচী অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্র তীরের কাছে (!) আগে থেকে পরিকল্পিত কর্মসূচী সম্পন্ন করতে পেরেছে. বহু দূরে উড়ে যেতে সক্ষম এই ধরনের ডানা ওয়ালা রকেট সজ্জিত ডুবোজাহাজ এক মাস ধরে মেক্সিকো উপসাগরের জলের গভীরে যাতায়াত করেছে. এটার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, শুধু তখনই, যখন এই ডুবোজাহাজ এলাকা ছেড়ে রওয়ানা হয়েছিল. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে আমেরিকার “ওয়াশিংটন ফ্রি বেকন” সংবাদপত্র, সেই দেশের সামরিক কর্তা মহলের উচ্চপদস্থ উত্স উল্লেখ করে.

রাশিয়ার বহু রকমের লক্ষ্য সাধনে সক্ষম ৯৭১ নম্বর প্রকল্পের “শ্যুকা – বে” (ন্যাটো জোটের শ্রেনী বিভাগ অনুযায়ী – “শার্ক”) ডুবোজাহাজ বেশ কয়েকদিন ধরেই জুন ও জুলাই মাসে আমেরিকার সমুদ্র তীর পাহারা দিয়েছে. সমুদ্র তীর থেকে খুব কাছে এই ডুবোজাহাজের অস্তিত্ব আমেরিকার উপগ্রহ বা হাইড্রো অ্যাকাউস্টিক যন্ত্রপাতি নির্ণয় করতে পারে নি. এই ডুবোজাহাজকে তখনই লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে, যখন সে নিজেই আমেরিকার লোকদের নিজের “পুচ্ছ” প্রদর্শন করেছিল.

সুতরাং রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কর্মীরা আন্তর্জাতিক কোন আইন ভঙ্গ না করেই ও অন্য কোন দেশের সার্বভৌম এলাকায় প্রবেশ না করেই একসাথে অনেক গুলি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাসিল করতে পেরেছে. প্রথমতঃ জাহাজের কর্মীরা এক সফল প্রশিক্ষণ শেষ করতে পেরেছে. দ্বিতীয়তঃ, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকরা এই এলাকায় আমেরিকার ডুবোজাহাজ ও অন্যান্য জলে ভাসা জাহাজের যাতায়াত লক্ষ্য করে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে. তাছাড়া, রাশিয়া একেবারেই পরিষ্কার করে আমেরিকাকে বুঝিয়ে দিতে পেরেছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একেবারে সম্পূর্ণ ভরসা যোগ্য কোনও ব্যবস্থা হতেই পারে না, এই কথাই উল্লেখ করে সামাজিক রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কে দেখিয়ে দেওয়ার মতো শিক্ষা হয়েছে যে, সারা বিশ্বকে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতি শক্তি প্রয়োগ করে চাপিয়ে দেওয়ার কোনও দরকার নেই. কারণ অন্যান্য দেশও নির্দিষ্ট সামরিক সম্ভাবনার অধিকারী. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জাতীয় স্বার্থ শুধু শক্তি দিয়েই বজায় রাখতে চায়, তাহলে এটা যে কোন ক্ষেত্রেই কাজ করবে বুমেরাং এর মতো. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত্ যে, তারাও আঘাত পেতে পারে, কারণ আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা খুবই কম সাফল্য পেতে পারে ডানাওয়ালা রকেটের ক্ষেত্রে, যেগুলি খুবই কম উচ্চতা দিয়ে উড়তে সক্ষম. আর পারমানবিক ডুবোজাহাজে ডানাওয়ালা রকেটই থাকে, যেগুলিকে সাধারন রাডার দিয়ে ধরতে পারা যায় না, যা সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে ব্যালিস্টিক রকেটের আঘাত থেকে বাঁচানোর জন্য. সেই গুলি রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটা ছিদ্র তৈরী করে. এই গুলি প্রমাণ করে দেয় যে, রকেট বিরোধী ব্যবস্থা কখনই একেবারে সম্পূর্ণ নিরাপদ হতে পারে না. আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যে প্রচারের আবহ তৈরী হয়েছে, তা ভেঙে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সর্ব শক্তিমান মনে করার কোন উপায় আর থাকছে না”.

আর যদি রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে অপরকে এক সফল টহলের জন্য অভিনন্দন জানিয়েও থাকে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই ডুবোজাহাজকে খেয়াল করতে না পারা নির্দিষ্ট শক্তিশালী দের মহলে এক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে. আমেরিকার সরকার বা সেই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর লোকদের কাছ থেকে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি করা হয় নি. কিন্ত খুব কমই সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই তথ্যের “চুঁইয়ে বেরিয়ে” পড়াটা হঠাত্ করেই হয়েছে. এই ভাবে পেন্টাগন চেষ্টা করছে কংগ্রেসকে বোঝাতে যে, তাদের সামরিক প্রয়োজনে আরও অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, এই রকমই মনে করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন বলেছেন:

“আমি সন্দেহ করি না যে, এই সব তথ্যই – দেওয়া হয়েছে বাজেট বরাদ্দের জন্য. কারণ, এখন আমেরিকার সামরিক বাজেটে বিরাট অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে. আর এই প্রচার সেই জন্য করা হচ্ছে, যাতে নৌবাহিনীর জন্য খরচ কমানো না হয়”.

0“শ্যুকা- বে” ডুবোজাহাজ রাশিয়ার বহু কাজে সক্ষম ডুবোজাহাজ গুলির মধ্য প্রধান. এই ধরনের ডুবোজাহাজ খুব কম করে লক্ষ্য করতে পারা যায়. এই ধরনের জাহাজ বানানো হয়েছে ১৫টি. তার একটি রাশিয়া দিয়েছে ভারতবর্ষকে.