আমার বন্ধুরা মস্কোয় ভারতের স্বাধীনতা বার্ষিকী পালন করছে

প্রিয় বন্ধুরা, রেডিও রাশিয়ার বন্ধুদের ক্লাবের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ শুনছেন আপনারা. স্টুডিওয় ভাষ্যকার লু্দমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস. গত ২ সপ্তাহ হরিয়ানা রাজ্যের এ্যাগ্রোনমি ইনস্টিটিউটের রীডার ও রুশ ভাষার অধ্যাপিকা মস্কোয় অতিবাহিত করলেন. রুশী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক সংঘঠিত সামার স্কুলে তিনি যোগ দিয়েছিলেন, যা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত হয়েছিল. স্বদেশে ফেরবার আগে সুশীলা আমাদের রেডিও রাশিয়ার স্টুডিওয় এসেছিলেন. তার সাথে গল্পগাছা করেছেন আমাদের কর্মী কাশ্মীর সিং.

সুশীলাজি, কত বছর বাদে আপনি রাশিয়ায় এলেন, মস্কোয় এলেন ?

 

আমি ৯০-সালে মস্কো ছেড়েছি. আমি রুশী আন্তর্জাতিক মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টো উচ্চশিক্ষার ডিগ্রী পেয়েছিলাম – প্রথমে রুশ ভাষাতত্ত্বের, পরে মনস্তত্ত্ববিদ্যার. আর আমার স্বামী মস্কোর সুবিদিত এ্যাগ্রোনমি ইনস্টিটিউট থেকে পি.এইচ.ঢি করেছিল. মস্কোয় আমি প্রসব করেছিলাম আমাদের প্রথম সন্তান সিদ্ধার্থ. সুতরাং রাশিয়ার প্রতি আমাদের বিশেষ সম্পর্ক.

নতুন রাশিয়াকে দেখে আপনার কেমন লাগছে?

জীবনের সর্বক্ষেত্রে বহু পরিবর্তন ঘটেছে. আর রাজধানী মস্কো অভূতপূর্ব সুন্দর, দ্রুত উন্নয়নশীল নগরীতে পরিণত হয়েছে.. যদিও সব নতুতত্ত্ব আমি মেনে নিতে পারছি না. আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ক্যাম্পাসের ভাবরূপও বদলে গেছে. ওখানেই সামার স্কুলের ক্লাস নেওয়া হয়েছে. নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে এতকাল পরে ফেরা হৃদয় উত্তপ্ত করে. বর্তমানে আমি হরিয়ানার একটা এ্যাগ্রোনমি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুশ ভাষা ও মনোবিদ্যা শিক্ষা দিচ্ছি, যেখানে আমার স্বামী অন্যতম টপ-ম্যানেজার. ক্লাস চলাকালে আমি প্রয়ই রুশ আন্তর্জাতিক মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ঐতিহ্য সম্পর্কে, রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে গল্প করে থাকি. সামার স্কুলে ক্লাস এই শিক্ষাব্যবস্থায় যে সব রদবদল হয়েছে, তার সাথে পরিচিত হতে দিয়েছে. আনন্দের ব্যাপার এই, যে বুনিয়াদী জ্ঞানলাভের জন্য শিক্ষার উঁচুমাত্রা সংরক্ষিত রয়েছে.

 

আর সব মিলিয়ে, সামার স্কুল ক্লাস ছাড়া আপনাকে আর কি দিয়েছে ?

ক্লাস ছাড়াও আমরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ফ্যাকালটি পরিদর্শন করেছি, তভেরে সফর করতে গেছিলাম. আমি উপরোক্ত প্রাচীন রুশী শহর সম্পর্কে ইতিপূর্বে অনেক শুনেছি, কিন্তু আগে কখনো যাইনি. তভের শহর এখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, দ্রষ্টব্যস্থানগুলোকে ভালো করে মেরামত করে রক্ষা করা হয়েছে. বহুকাল আগে এই শহর থেকেই ভারতে পাড়ি দিয়েছিলেন রুশী বণিক আফানাসি নিকিতিন. ভোল্গা নদীর পাড়ে স্থাপিত তাঁর ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তি সেই ঘটনা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়.

আমরা তভের শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছিলাম, যেখানে রীডার ও অধ্যাপকেরা নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন. তভেরের সব উচ্চ শিক্ষায়তনে অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে. ঐ শহরের সহকর্মীদের সাথে সাক্ষাতের সময় আমি আমাদের হরিয়ানার এ্যাগ্রোনমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযোগ স্থাপণ করার আহ্বান জানিয়েছি তাদের ও আশা করি এটা বাস্তবায়িত হবে.

নতুন রাশিয়ার ও রুশীদের ভারতের প্রতি গড়ে ওঠা সম্পর্ক সম্মন্ধে আপনার কি ধারনা হল ?

আমার উচ্চশিক্ষা লাভ করার সময় আমি বরাবর রুশীদের ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ ও শ্রদ্ধা অনুভব করেছি. এবারেও আমার ও আমার অন্যান্য ভারতীয় সহকর্মীদের প্রতি বিনয়ী আচরন লক্ষ্য করেছি. তবে আধুনিক সময়ে আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক বেশি মাপে বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিকে মোড় নিয়েছে. এই সম্পর্ক পারস্পরিক লাভজনক ও এটা বর্তমানকালের বৈশিষ্ট্য. আমি ঠিক ভারত প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা বার্ষিকী পালন করার আগে রাশিয়া ছাড়ছি. আমি জানি, যে প্রবাসী ভারতীয়দের সাথে একসঙ্গে মস্কো, সেন্ট-পিটার্সবার্গ, তেভর প্রমুখ শহরে এই উত্সব রুশীবাসীরা উদযাপন করে. আমার রুশী বন্ধু-বান্ধবীদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে নতুন নতুন ফোটো ও ভিডিও মেটেরিয়ালের অপেক্ষায় রইলাম.