একশ দিন কেটে গিয়েছে সেই মুহূর্ত থেকে, যখন ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেছেন. নিজের রাষ্ট্রপতিত্বের শুরুতেই পুতিন অনেক মনোযোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার প্রথম একশ দিনের মধ্যে তিনি সরকারি ভাবে বিশ্বের এগারোটি দেশে গিয়েছেন, তার মধ্যে চিন, জার্মানী, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, মেক্সিকো, ইজরায়েল, জর্ডন ও প্যালেস্টাইনের এলাকা রয়েছে.

আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুতিন অনেকটাই নতুন করে জোর লাগানোর জায়গা উল্লেখ করেছেন ও সহকর্মী দেশ গুলির মধ্যে মনোযোগের ভাগ করে দিয়েছেন. কিন্তু সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় হয়েছে পুতিনের নতুন পদ নেওয়ার অব্যবহিত পরের বিষয়, যখন তিনি বৃহত্ অষ্ট দেশের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ক্যাম্প ডেভিড যান নি, এই কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইভগেনি বইকো বলেছেন:

“এর মধ্যে দিয়েই ভ্লাদিমির পুতিন দেখিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তেমনই উজ্জ্বল ও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে না, যা হয়েছিল দিমিত্রি মেদভেদেভের সময়ে. অন্তত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্বর পরিবর্তিত হবে ও তা অন্য রকমের হবে ভ্লাদিমির পুতিনের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শাসন কালে. আর সেই বাস্তব ঘটনা, যে, এই শীর্ষ সম্মেলনে গিয়েছিলেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তা আবারও সঙ্কেত দিয়েছে যে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ এই দিকে উন্নতি নিয়ে কাজকর্মের ধারা দেখবেন ও তিনি পরেও এই দিকের দায়িত্বে থাকবেন”.

আমেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সঙ্গে পুতিন তাও আলোচনা করেছেন, কিন্তু তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকায় নয়, বরং মেক্সিকো দেশে বড় ২০ দেশের শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে, যা দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা তিনি কোন ভাবেই এড়িয়ে যেতে চাইছেন না, তবে এই দিক রাশিয়ার জন্য আর প্রাথমিক নয়. পুতিনের পররাষ্ট্র নীতি লক্ষ্য করা থাকবে প্রাথমিক ভাবে এশিয়া অঞ্চলে, এই রকমই মনে করে ইভগেনি বইকো বলেছেন:

“এই দিকে কথা হচ্ছে চিনকে নিয়ে, তারই সঙ্গে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকেও নিয়ে. এটা কাজাখস্থান, আর উজবেকিস্তান, বিশেষ করে এই দেশ গুলিতেই ভ্লাদিমির পুতিন জুন মাসের শুরুতে গিয়েছিলেন. চিনের ক্ষেত্রে কথা হয়েছিল এই রকমের যে, রাশিয়া ও চিনের মধ্যে পররাষ্ট্র নীতির প্রশ্নের বাস্তব বিষয় গুলিতে সহযোগিতার সমর্থন খোঁজা দরকার, বিশেষ করে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা ও সিরিয়ার সমস্যা নিয়ে. এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল দেখিয়ে দেওয়া যে, কিছু ঠাণ্ডা নিরুত্তাপ আচরণ, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে দেখা যাচ্ছিল, যা জ্বালানী সরবরাহ ও মধ্য এশিয়ায় রাশিয়া ও চিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে হচ্ছিল, তা থাকা স্বত্ত্বেও বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে দুই দেশের মত একই. আর রাশিয়ার সঙ্গে চিনও পশ্চিমের জোটের এক বিরুদ্ধ শক্তি হিসাবে দাঁড়াতে পারে”.

বিশেষ আগ্রহ পশ্চিমের রাজনীতিবিদদের কাছে সৃষ্টি করেছিল ভ্লাদিমির পুতিনের সেই ঘোষণা যে, আসন্ন ভবিষ্যতে রাশিয়া সক্রিয় ভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তথাকথিত মৃদু শক্তির প্রয়োগ বৃদ্ধি করবে. তার অর্থ হল দেশের স্বার্থকে কোন শক্তি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে আদায় করা নয়, বরং দেশের প্রতি সহমর্মীতা আদায় করে, দেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবিদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য দিয়ে এক মানবিক বন্ধন সৃষ্টি করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া. “মৃদু শক্তি” বলে এই ধারণাকে মনে করা হয় আমেরিকার কূটনীতির সৃষ্টি. আর এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উচ্চ কোটির লোকরা মনোযোগ দিয়েই দেখতে থাকবেন, কি করে তাঁদের সৃষ্টি রাশিয়া ব্যবহার করে ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে.