বিশ্বের খাদ্য বস্তুর বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জিনিষের দাম খুব বেড়েছে ব্রাজিলে প্রবল বর্ষণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরা ও ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াতেও খরার জন্য. রাষ্ট্রসঙ্ঘের খাদ্য সম্ভার পরিষদের বিশেষজ্ঞরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়েছেন বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে আর তার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জিনিষের দাম ২০০৭- ২০০৮ সালের খাবার জিনিষের সঙ্কটের পুনরাবৃত্তি করতে পারে. এরই মধ্যে রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ে ঘোষণা করা হয়েছে যে, রাশিয়া এই বছরে খাদ্য শষ্য রপ্তানিতে কোনও বাধা নিষেধ আরোপ করবে না ও খাদ্য সঙ্কটের মোকাবিলায় নিজেদের অবদান রাখবে.

এই বছরে আবহাওয়া যেন মানব সমাজের বিরুদ্ধে যাওয়ার মন নিয়েছে. ব্রাজিল জুড়ে প্রবল বর্ষণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাজাখস্থান, ইউক্রেন ও রাশিয়াতে খরা পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের চেয়ে ফসলের পরিমানের সূচক অনেক কম করেছে. সারা বিশ্ব জুড়ে মে মাসে খাবার জিনিষের দাম এর মধ্যেই ভয় পাইয়ে দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে কৃষি বিপণন ইনস্টিটিউটের জেনারেল ডিরেক্টর এলেনা ত্যুরিনা বলেছেন:

“এই বছরের এখন অবধি ফসলের পরিমান কত হতে পারে, তা নিয়ে পূর্বাভাস অবশ্যই গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে. আশঙ্কা করা হয়েছে যে, দানা শষ্যের পরিমানে তা কম হতে পারে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ দেশের নানা অঞ্চলের পরিপ্রেক্ষিতে, আর দানা শষ্য কম হলেই ময়দার দাম বাড়বে”.

সমস্ত ভয় পাওয়ার মতো পূর্বাভাসের মধ্যেও রাশিয়াতে বর্তমানে একটা শান্ত পরিস্থিতিই রয়েছে. সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, শষ্য রপ্তানী কমিয়ে দেবে না. উপ প্রধানমন্ত্রী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন যে, দানা শষ্য রপ্তানী বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা বহাল করার আপাত দৃষ্টিতে কোনও কারণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. কিন্তু তিনি আরও যোগ করেছেন যে, ২০১৩ সাল থেকে রপ্তানী শুল্ক যোগ করা সম্ভব হতে পারে. রাশিয়ার জন্য খাদ্য সঙ্কট ভয় পাওয়ার মতো হবে না, বলে এলেনা ত্যুরিনা বলেছেন:

“বলা যেতে পারে যে, আমাদের দেশে খাবার জিনিষ কম পড়বে না. রাশিয়া বিশ্বের খাদ্য শষ্যের বাজারে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে রয়েছে. এই কথা সত্য যে, এই বছরে খরা এমন করতে পারে যে, রপ্তানীর পরিমান এমনিতেই কম হতে পারে”.

বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ গুলিতেই খাদ্য দ্রব্যের সঙ্কট সবচেয়ে জোর আঘাত করতে পারে, এই কথা বলে সাবধান করে দিয়েছেন “সোভএকন” নামের বিশ্লেষণ কেন্দ্রের কার্যনির্বাহী ডিরেক্টর আন্দ্রেই সিজভ. বিশ্বের খাদ্য শষ্যের বিষয়ে সম্ভাবনা তিনি এই ভাবে মূল্যায়ণ করে বলেছেন:

“কৃষিজাত কাঁচামালের দাম থেকে – তাদের হঠাত্ করেই বেড়ে যাওয়া থেকে সবচেয়ে বেশী কষ্ট পেয়ে থাকেন গরীব দেশ গুলির মানুষরা, যেখানে গ্রাহকরা তাঁদের আয়ের শতকরা ৬০- ৭০-৮০ ভাগ ব্যয় কে থাকেন শুধু খাওয়ার জিনিষ কেনার জন্যেই. খুবই স্বাভাবিক যে, জিনিষের দাম হঠাত্ বেড়ে যাওয়াতে এমন পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে যে, বিশৃঙ্খলা শুরু হতে পারে, যা আমরা ২০০৭ – ২০০৮ সালেই দেখেছি. বর্তমানের পরিস্থিতিতে এই সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যেতে পারে না”.

পরিস্থিতি যদিও খুবই আশঙ্কা জনক, তবুও তা বিপর্যয় বলা যেতে পারে না. সুতরাং, রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আর্কাদি দ্ভরকোভিচের কথা অনুযায়ী রাশিয়ার জন্য আপাততঃ নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক সঞ্চয় থেকে দানা শষ্য বিক্রী করার কোনও কথাই হচ্ছে না. দেশে আপাততঃ তিন কোটি ৭০ লক্ষ টন দানা শষ্য ক্ষেত থেকে তোলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ে তোলা হয়েছিল তিন কোটি ৮৫ লক্ষ টন. সুতরাং রাশিয়া নিশ্চিন্তে বিশ্বের বাজারে খাদ্য শষ্যের সঙ্কট মোকাবিলা করতে যথেষ্ট পরিমানে নিজেদের শষ্য রপ্তানী করে অবদান রাখতেই পারে.