রাশিয়ার প্যাভিলিয়ন এক্সপো – ২০১২ তে “প্রদর্শনীর বিষয় সবচেয়ে ভাল করে উপস্থাপনা” করার জন্য রৌপ্য পদক পেয়েছে. এই বছরের সারা বিশ্ব বিশেষ প্রদর্শনী উত্সর্গ করা হয়েছিল বিশ্ব মহাসাগরের রসদের বুদ্ধি সম্মত ব্যবহার করা নিয়ে. এই প্রদর্শনী হয়েছে ১২ই মে থেকে ১২ই আগষ্ট দক্ষিণ কোরিয়াতে.

এই প্রদর্শনীর অংশগ্রহণকারীরা এই প্রথম বছর কোন বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছেন. সাধারণতঃ, প্রত্যেক দেশই নিজেদের যে কোনও সাফল্য উপস্থিত করত. কিন্তু এই বারে সমস্ত প্রদর্শনীই একটি প্রশ্নের বিষয়ে উত্সর্গ করা হয়েছিল – বিশ্বের মহাসাগর গুলির পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে. রাশিয়া নিজেদের প্রদর্শনীর গৃহে উত্তরের সমুদ্র পথ, আর্কটিক ও উত্তরের সমুদ্র তীরের জীবন নিয়ে প্রদর্শনী করেছে. এখানের দর্শকরা ভার্চ্যুয়াল ভাবে বরফ ভাঙা জাহাজে চড়ে গিয়েছে উত্তরের সাগরে, ডুবেছে উত্তর হিম সাগরের গভীরে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রদর্শনী গৃহের ডিরেক্টর তাতিয়ানা সাদোফিয়েভা বলেছেন:

“৯৩ দিন ধরে চলা এই প্রদর্শনী যেন পার হয়ে গেল এক মুহূর্তেই. আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে রাশিয়ার প্যাভিলিয়নকে এক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বানানোর, বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র তৈরীর, এমন এক জায়গা, যেখানে রাশিয়া সম্বন্ধে অনেক বেশী জানা সম্ভব, এই দেশকে ভালবাসা সম্ভব. আর্কটিক অঞ্চল যে কি তা বোঝা সম্ভব. বোঝা সম্ভব রাশিয়াতে কি নিয়ে আজ উদ্বিগ্ন হচ্ছেন জনগন, তারা এর জন্য কি করছেন, কি করে বিশ্বের মহাসাগরের সংরক্ষণ করছেন. আর সব কিছুই, যা এখানে আমরা করে দেখাতে পেরেছি, তার জন্য পুরস্কৃত হয়েছি এই রৌপ্য পদক দিয়ে”.

প্রথম স্থান পেয়েছে জার্মানী, ব্রোঞ্জ জ্যুরিরা দিয়েছেন জাপানকে. এক্সপো – ২০১২ প্রদর্শনীতে সব মিলিয়ে ১০৪টি দেশ অংশ নিয়েছে, ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহু বহুজাতিক কোম্পানীও এখানে ছিল. তিন মাস ধরে চলা প্রদর্শনীর সময়ে এখানে এসেছেন ৮০ লক্ষ লোক. রাশিয়ার প্রদর্শনী দেখতে এসেছেন চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লোক, এই কথা উল্লেখ করে তাতিয়ানা সাদোফিয়েভা বলেছেন:

“এই প্রদর্শনী চলার সময়ে প্যাভিলিয়নে এসেছেন ২০০ সরকারি প্রতিনিধি দল, যেখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন হয় সেই দেশের রাষ্ট্রদূত, অথবা মন্ত্রী, অথবা দেশের মন্ত্রীসভার প্রধান. প্রত্যেক দলই বিশেষ অতিথিদের জন্য রাখা মন্তব্যের খাতায় অনেক রকমের কিন্তু মূল ধারণা অনুযায়ী একটাই মন্তব্য করে গিয়েছেন, যা খুবই মনোরঞ্জক ও আমি মনে করি খুবই ন্যায্য মন্তব্য”.

এই প্রদর্শনী শেষ হওয়ার উত্সবের দিনে এক্সপো – ২০১২ আয়োজক পরিষদের জেনারেল কমিসনার লি ঝুন হি বিশেষ করে রাশিয়াকে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা ২০১২ সালের বিশ্ব প্রদর্শনীর বিষয়কে খুবই বহুল পরিমানে সমৃদ্ধ করেছে.

পরবর্তী এক্সপো হবে ইতালিতে – ২০১৫ সালে.