সিরিয়ার প্রতিপক্ষ দাবী করেছে জর্ডন ও তুরস্কের কাছে উড়ান বিহীণ এলাকা সৃষ্টির. এই সম্পর্কে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবী করেছে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জাতীয় সভার প্রধান আবদেলবাস্সেত সিদা. এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন তাঁর ইস্তাম্বুল শহরে সফরের সময়ে সিরিয়ার উপরে এই ধরনের এলাকা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রথম ঘোষণা করেছেন.

গত বছরে লিবিয়ার উপরে এই ধরনের এলাকা সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত এই দেশের আভ্যন্তরীণ বিরোধের ইতি করায় সেই সব জঙ্গীদের পক্ষেই সহায়ক হয়েছিল, যাদের ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী সাহায্য করেছিল. আর লিবিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান গুলির উড়ান সেই সময়ে ছিল নিষিদ্ধ. একই ধরনের কিছু একটা সিরিয়াতেও করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুর্তভ বলেছেন:

“খুবই স্বাভাবিক যে, লিবিয়াতে উড়ান বিহীণ এলাকা তৈরী করা ও সিরিয়ার উপরেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব, যা আমেরিকার পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তাতে একটা তুলনা করার মতো বিষয় রয়েছে. কিন্তু আপাততঃ কথা হচ্ছে শুধু প্রস্তাব নিয়েই, কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে নয়. লিবিয়ার উপরে উড়ান বিহীণ এলাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ, এই সংগঠন আপাততঃ নিজেদের দিক থেকে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা বজায় রেখেছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করতেই পারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত এড়িয়ে সিরিয়ার উপরে উড়ান বিহীণ এলাকা সৃষ্টি করার. দেখাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের এলাকা এই ক্ষেত্রে শুধু পদাতিক আগ্রাসনের জন্য সুবিধাই করে দেবে”.

সিরিয়াতে নাটকীয় পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশ গুলিকেও স্পর্শ করেছে, তার মধ্যে লেবাননও রয়েছে. তারা ঐতিহাসিক ভাবেই সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে ক্ষেত্রে খুবই শক্ত বাঁধনে বাঁধা রয়েছে. এই প্রসঙ্গে লেবাননের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এমিল লাখুদ রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন:

“সিরিয়ার সঙ্কট এই নিয়ে দেড় বছর ধরেই চলছে, কিন্তু সরকার এখনও ক্ষমতায় বহাল রয়েছে. এটা বলে দিচ্ছে যে, তা দেশের জনসাধারনের অনেকটা অংশের সমর্থন পাচ্ছে. যদি সিরিয়ার জনগন অন্য রাষ্ট্রপতিকে চাইতেন, তবে তা অনেক আগেই সেই রকমই হয়ে যেত. বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে, আর সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাদের পক্ষে পশ্চিমের ও অনেক আরব দেশের সংবাদ মাধ্যম রয়েছে. কিন্তু সবই বিফল হয়েছে. কারণ – সিরিয়াতে অনেকেই নিজেদের রাষ্ট্রপতিকে সমর্থন করেন. যদি সিরিয়াতে সরকারের পতন হয়, তবে এই দেশ হবে বহু ভাগে বিভক্ত, এই অঞ্চলে, বিশেষতঃ লেবাননেও একটা বেহাল দশা হবে”.

পদত্যাগ করে সরে যাওয়া কোফি আন্নানের জায়গায় রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের পক্ষ থেকে নতুন কোনও বিশেষ প্রতিনিধি বহাল করা হলে তা হয়তো সিরিয়াকে নিয়ে এই সঙ্কটের পরবর্তী বৃদ্ধি পাওয়াকে আটকাতে পারতো. পরবর্তী দায়িত্ব নিতে সক্ষম লোক খোঁজা দেখাই যাচ্ছে যে, ইচ্ছে করে দেরী করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর তা অবশ্যই সেই সব শক্তি পশ্চিমের দিক থেকেই করছে, যারা কোফি আন্নানের সময়েই এই পদ উঠিয়ে দেওয়া নিয়ে অনেক কথাই বলেছিল. যদি এই শক্তি এখন আবার করে উপরে উঠতে পারে, তবে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধের আগুন আরও জোরে জ্বলে উঠবে নিশ্চিত ভাবেই. আর এটা, নিজেদের দিক থেকে, যে সব লোক চাইছে পশ্চিমের পক্ষ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশ, তাদেরই বেশী অনুপ্রাণিত করবে ও কথা থেকে কাজে পরিণত করতে সুযোগ করে দেবে.