রাশিয়ার দল লন্ডনের অলিম্পিকে সমস্ত মেডেল প্রাপকদের তালিকায় তৃতীয় ও সোনার পদক প্রাপকদের তালিকায় চতুর্থ হয়েছে. এই বারের প্রতিযোগিতায় সবই ছিল - আশাহত হওয়া, দুর্ভাগ্য, আবার বিশাল সাফল্যও. এখানে মূখ্য হয়েছে যে, এই অলিম্পিক আগামী চার বছর বাদে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে হতে চলা অলিম্পিকের আগে রাশিয়া ও বিশ্বের খেলাধূলায় উন্নতি কোন পথে হবে, তা নির্দিষ্ট করেছে.

বিশে্ষজ্ঞ ও খেলাধূলা নিয়ে যারা কাজকর্ম করেন, তাঁরা সকলেই এক বাক্যে বলছেন যে, লন্ডনে রুশ জাতীয় দল বেজিংয়ের চেয়ে ভাল করে প্রতিযোগিতা করতে পেরেছে. ২০০৮ সালে রুশ খেলোয়াড়রা জিতেছিলেন সব মিলিয়ে ৭৩টি মেডেল, আর তার মধ্যে ছিল ২৩টি সোনা. এবারে জাতীয় দল পেয়েছে ৮২টি পদক, আর তার মধ্যে ২৪টি সোনার. ১৬ দিনের অলিম্পিক দূরত্ব খেলোয়াড়রা সেই একই রকমের শৈলীতে পার হয়েছেন – সমস্ত প্রথম সপ্তাহ ধরে দল গতি বাড়িয়েছে, একটা দিনও যায় নি কোন রকমের পদক ছাড়া, কিন্তু প্রায়ই ফস্কে গিয়েছে সোনার পদক. আর দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও বেশী করেই লন্ডনে শুনতে পাওয়া গিয়েছে রুশ জাতীয় সঙ্গীত, কোন তর্কের অবকাশ রাখে না যে, রুশ খেলায় একচেটিয়া হয়ে রয়ে গিয়েছে সিনক্রেনাইজড সুইমিং আর আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্স – এখানে অন্যান্য দেশের মেয়ে প্রতিযোগীদের কোনও সুযোগই ছিল না কিছু করার. জ্যুডো খেলাতেও রাশিয়ার খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষজ্ঞদের অবাক করেছে – দলের কাছ থেকে অনেক কিছুই আশা করা হয়েছিল, তবে মনে তো হয় না যে, তিনটে সোনা আশা করা হয়েছিল. রাশিয়ার খেলোয়াড়রা অলিম্পিকের স্পোর্টিং জিমন্যাস্টিকসেও নিজেদের জায়গা আবার করে নিতে পেরেছে. ১৯৮৮ সালের পরে প্রথম বার অলিম্পিকে মেডেল জয় করেছে রাশিয়ার বাস্কেটবল দলের খেলোয়াড়রা, আর ভলিবল খেলোয়াড়রা ১৯৮০ সালের পরে প্রথমবার সোনা জিততে পেরেছে. কিন্তু এমন অনেক খেলাও ছিল, যেখানে রুশদের কাছ থেকে আরও ভাল ফল আশা করা হয়েছিল, এই কথাই উল্লেখ করে রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটির প্রধান আলেকজান্ডার জুকভ বলেছেন:

“আমরা অবশ্যই আমাদের শ্যুটারদের কাছ থেকে অনেক ভাল ফল আশা করেছিলাম. অবশ্যই আমরা আশা করেছিলাম যে, ফেন্সিং প্রতিযোগিতায় আমাদের আরও অনেক স্বর্ণ পদক পাওয়া হবে, কারণ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ও এর আগের সমস্ত বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আমাদের অনেক ফেন্সিং এর খেলোয়াড়রা খুবই ভাল ফল করেছিলেন. কিন্তু এটা অলিম্পিক. এখানে মহান খেলোয়াড়রাও হেরে যান, আর অনেক আশ্চর্য রকমের জয়ও দেখতে পাওয়া যায়. সেই ওয়েট লিফ্টিং প্রতিযোগিতাতেও আমাদের যেমন সুবিধা হয় নি. আমি মনে করি, ওখানে আমাদের টিম ছিল দারুণ, তার ওপরে সেই টিমও ছিল ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময়”.

মেডেল পাওয়ার সমষ্টিতে নিজেরা আবার সবচেয়ে বেশী পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. যদি অবশ্য পুরনো সোভিয়েত দেশের সমস্ত রাজ্য গুলির মোট পদক সংখ্যা এবারেও এক সাথে গোনা হয়, তবে মোট সোনার পদক হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে একটা বেশী, ৪৭, আর সম্মিলিত পদক সংখ্যা হবে অনেক বেশী. তবে এই কথা এখন বিশ্বে অনেকেই শুনতে রাজী হবেন না . তাতে অসুবিধা আছে বলে . চিন রয়েছে দল হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে, আর সোনার পদকের হিসাবে তৃতীয় স্থানে খুবই আত্মবিশ্বাসী ভাবে রয়েছে গ্রেট ব্রিটেনের দল. দেখাই যাচ্ছিল যে, এই খেলার আয়োজক দেশ শুধু আয়োজনের কাজেই নয়, বরং আরও অনেক মনোযোগ দিয়েছে নিজেদের জাতীয় দলের প্রস্তুতির উপরেও.

গ্রেট ব্রিটেনের জন্য এই অলিম্পিক শুধু সাংস্কৃতিক বা খেলাধূলার অনুষ্ঠান বলেই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না. এই ধরনের প্রসারের ঘটনা ও তার সফল আয়োজন – এটা প্রত্যেক দেশেরই আত্ম সম্মানের প্রশ্ন. আর তারই সঙ্গে হয়েছে বিশাল সমস্ত রাজনীতি ও অর্থনীতি জড়িয়ে সম্মেলন. লন্ডনের খেলার পিছনে কি ধরনের সব চুক্তি অলিম্পিকের সময়ে নেপথ্যে থেকে করা হয়েছিল, তা অবশ্য আরও কিছু দিন বাদে জানা যাবে. কিন্তু যত সাক্ষাত্কার ও আলোচনা হয়েছে, তা বিচার করলে তার সংখ্যা অনেকই হবে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার গ্রেট ব্রিটেনে রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইয়াকোভেঙ্কো বলেছেন:

“অবশ্যই বেশী মনোযোগ ছিল খেলাধূলার সব প্রতিযোগিতার দিকেই. কিন্তু খুবই সিরিয়াস সব রাজনৈতিক আলোচনার ব্যবস্থাও ছিল. ৮০টি দেশের রাষ্ট্রনেতা ও সরকারের প্রধানেরা এখানে এসেছিলেন – আর ব্রিটেনের নেতারা বাস্তবে প্রায় সকলের সঙ্গেই দেখা করেছেন. প্রায় ২০টির মতো বড় অর্থনৈতিক কনফারেন্স হয়েছে, যেগুলির থেকে ব্রিটেনের অর্থনীতিও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে. আলাদা করে সব সাক্ষাত্কার হয়েছে, আর এমনকি অনেক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করা হয়েছে.”

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন অলিম্পিকের সময়ে সিরিয়ার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছেন ও সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, তাঁদের দেশ গুলির অবস্থান বহু ক্ষেত্রেই এক রয়েছে.