চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির দৃষ্টি ছিল সিরিয়ার সংকটের দিকে. আলেপ্পো ও সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই, বিদ্রোহী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত যা এ সংকট সমাধানের পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে. যদি ঘটনাক্রমে অস্ত্রধারী বিদ্রোহীরা পার্শ্ববর্তী ইদলিব শহর দখল করতে পারত তাহলে আক্রমণের জন্য অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হত. অন্যদিকে পশ্চিমা গনমাধ্যমের খবরে আলেপ্পোর যুদ্ধে বিদ্রোহীদেরই এগিয়ে রাখা হয়েছে এবং ওই সব প্রতিবেদনে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে ব্যাগ গোছানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে.

সিরিয়ার সর্বশেষ ঘটনার দিকে তাকালে মনে হবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে মোড় নিচ্ছে এবং বাশার আসাদের শাসনের নিজস্ব ভাবমূর্তি প্রকাশ পাচ্ছে. এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রাচ্যতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আন্দ্রেই বালোদিন. তিনি বলেছেন, “বিষয়টি পরিস্কার যে, যারা বিরোধী দলের নাম বলে সিরীয় বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করছে তাঁরা হচ্ছে আল-কায়দার সদস্য. স্বভাবতই সেনাবাহিনীর সাথে তাঁরা পেরে উঠতে পারছে না এবং এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা জোট এক প্রকার উভয়সঙ্কটে পরেছে. যেমন আছে ঠিক তেমনই চলতে দেওয়া অথবা সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো. এদিকে এখন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে অর্থনৈতিক জোট গঠনের যেখানে সিরিয়া, ইরান, ইরাক ও হয়তবা লেবাননকে সংযুক্ত করা হতে পারে. এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র এবং এর দিকে নজর রাখতে হবে. এরই মধ্যে তুরস্কের বিরোধী দল দেশের নেতা এরদোগানের কার্যক্রমের বিরোধীতা করছে. তাঁরা বলছে সরকারের অবস্থান দেশের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে. এরদোগান সেই কাজই করতে যাচ্ছেন যা এক সময় করেছিলেন কামাল আতাতুর্ক. অর্থাত, তুরস্কের সীমান্ত অতিক্রম করা”.

বর্তমানে আংকারা এই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে. এদিকে তুরস্কে সরকারি সফরে এসেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন. তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রনেতাদের সাথে সিরিয়ার বিরোধী দলকে সাহায্য করার প্রস্তাব নিয়ে যে আলোচনা করবেন না তা কোনভাবেই অবজ্ঞা করা যাচ্ছে না.

পশ্চিমা জোট সিরিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে অবনতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. এমনটি মনে করছেন প্রাচ্যতত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইরিনা জভাইয়াগেলস্কায়া. তিনি বলেছেন, “এখন সামরিক অভিযান শুরুর চিত্রপট তৈরী করা হচ্ছে এবং যার মূল উদ্দেশ্য হবে আসাদকে অপসারণ করা. বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে এখন শুধু সংঘাত চালিয়ে যাওয়া. আসাদ চলে গেলে কি সিরিয়ার পরিস্থিতি উন্নতি হবে?. আমি মনে করি তা হবে না বরং আরও অবনতি হবে”.

আগুনে তেল ঢালা হচ্ছে এবং বিরোধী দল হচ্ছে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস. সেখানে সিরিয়া নিয়ে কথা বলা হয় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে. এদিকে বাশার আসাদের সরকার ও সংস্থাকে সহায়তা করে থাকে এমন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র.