রুশ বিমান বাহিনীর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে মস্কোর উপকন্ঠের ঝুকোভস্কি শহরে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী এভিয়েশন শো. দর্শকদের জন্য বিমান বাহিনী অসাধারণ সব শো'র আয়োজন করেছে. বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এবং সর্বশেষ আধুনিক যুদ্ধ বিমান এ শোতে অংশ নিয়েছে.

ঝুকোভস্কির বিমানঘাঁটিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এভিয়েশন শো মাকস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে. সঙ্গত কারণেই এবার এর সাথে যুক্ত হচ্ছে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর শতবর্ষ উদযাপন.

রাশিয়ার বিমান বাহিনীর সহকর্মীদের অভিনন্দন জানাতে ছুটে এসেছেন যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, তুরস্ক, লাটাভিয়া, ইতালি ও ফিনল্যান্ডের বিমান বাহিনীর কর্মীরা. রাশিয়ার বিমান বাহিনীর পরিবর্তনের বিভিন্ন ধাপ দর্শকরা দেখতে পারবেন.

এভিয়েশন শো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন মিগ-২৯এম২-র উন্নত সংস্করণ ৫ম প্রজন্মের টি-৫০ বিমানে চড়েন. এর পূর্বে নিজের দেওয়া এক বক্তৃতায় রুশ রাষ্ট্রপতি উপস্থিত বিমানবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মহান পিতৃভূমি রক্ষা যুদ্ধে বিমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা এ দেশের মানুষ কখনও ভুলবে না. বিমান বাহিনীর আধুনিকীরণ সম্পর্কে পুতিন বলেন, “বিমান বাহিনীর ইতিহাসের পুরোনো দিনের সেই নাজুক অবস্থার কথা স্মরণ করেই আজকের বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে. যুদ্ধ বিমান রপ্তানি যা ছিল আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম পন্থা. আজকে যখন আমরা আমাদের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের কথা বলছি যা আমাদের অন্যতম একটি কৌশলগত উন্নয়নের দিক, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিমান বাহিনীর উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে. এর ভূমিকা আগামীতে শুধু বাড়তেই থাকবে. বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ পর্ব ও বিমান ঘাঁটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে. মূলত আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, বাহিনীর কাছে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করা. আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বিমান বাহিনীতে নতুন ৬০০টি বিমান ও ১০০০টি হেলিকপ্টার সরবরাহ করা হবে.”

রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন একই সাথে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন. নিজের সর্বশেষ বানীতে পুতিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের শতবর্ষ উপলক্ষ্যে অভিনন্দন, তাদের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন.