সিরিয়ার উত্তরের রাজধানী আলেপ্পো শহরে সরকারি ফৌজ কেন্দ্রীয় অঞ্চল গুলিতে নিজেদের জায়গা দখল করে ফেলেছে ও বর্তমানে জঙ্গীদের থেকে এই শহরের বিভিন্ন এলাকাকে উদ্ধার করছে. এই অপারেশন শেষ হতে অনেক দিনই লাগতে পারে, কারণ শহর জন বসতি পূর্ণ. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধের এই প্রধান ফ্রন্টে একটা দিক পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে – সরকারি ফৌজের দিকেই শক্তির পাল্লা শেষ অবধি টলে গিয়েছে.

পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, আলেপ্পো শহরে যুদ্ধের পরিনাম অনেকটাই আগে থেকে ঠিক করে দেবে যে, কে সিরিয়ার বিরোধে বিজয়ী হিসাবে বের হবে. এই মতই সিরিয়ার এক রাজনীতিবিদ তালেব ইব্রাহিম পোষণ করে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

“এই ধরনের মন্তব্য সব মিলিয়ে যথেষ্ট সঠিক. আলেপ্পো শহরে বিরোধীরা ও যারা তাদের সঙ্গে রয়েছে, তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল বানাতে পেরেছিল. তাদের মধ্যে – বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভাড়াটে সেনা বাহিনী ছাড়াও রয়েছে বিদেশী বিশেষ বাহিনীর প্রতিনিধিরা. বিশেষ করে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা লোকরা. কিছু তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে যারা বর্তমানে বাধা দিচ্ছে তাদের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে. এটা সেই সমস্ত পালিয়ে আসা লোক, যারা জেবেল-এজ-জাভিয়া, হামা ও দামাস্কাসের উপকণ্ঠ ও অন্যান্য জায়গা থেকে এসে যোগ দিয়েছে, তাদের সংখ্যা যোগ না করেই ধরা. তাই বলা যেতে পারে যে, আলেপ্পো শহরে একটা হেস্তনেস্ত করার মতো যুদ্ধ হয়েছে, যা বিজয়ী স্থির করে দেবে”.

একই সময়ে সিরিয়ার জন্যে শেষ দেখার জন্য যুদ্ধ, মনে হচ্ছে, করতে চলেছে, তাদের বিদেশী বন্ধু ও অমিত্র দেশ গুলিও. ইরান তেহরানে ২০টি দেশকে নিয়ে সিরিয়া নিয়ে এক পরামর্শ সভা করেছে. তারা স্পষ্টই বিরক্ত হয়েছে সেই বিষয়ে যে, পশ্চিমের অবস্থানের জন্যই সিরিয়াতে সঙ্কটের সমাধানে রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলে. ইরানের বৈঠকের পরে তারা ঘোষণা করেছে নিজেদের দেশে সিরিয়ার ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দেখা হওয়ার ব্যবস্থা করতে.

তেহরান সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, নিজেদের কূটনৈতিক আক্রমণ ১৪ই আগষ্ট আবার শুরু করতে চলেছে. এই দিনে মক্কা শহরে এক জরুরী ঐস্লামিক শীর্ষ বৈঠক হতে চলেছে. তেহরান নিজেদের সহকর্মীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে এই সম্ভাবনাকে ব্যবহার করে সিরিয়ার লোকদের পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আসতে সুযোগ করে দেওয়ার ও জাতীয় আলোচনা শুরু করার.

একই সময়ে, খুবই শীঘ্র পূর্ব ভূমধ্য সাগরে গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সামরিক নৌবাহিনীর মহড়া শুর হতে চলেছে. তারা নিজেদের সামরিক নৌবাহিনীর খুবই শক্তিশালী দল ব্যবহার করবে সম্ভাব্য শত্রুর সমুদ্র তীরে সেনা বাহিনী নামানোর অপারেশন করে দেখার জন্য.

দেখাই যাচ্ছে যে, এখানে কথা হয়েছে সিরিয়ার উপরে নতুন সামরিক – রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার. এক বছর আগে একই ধরনের সক্রিয়তা পশ্চিমের তরফ থেকে ভূমধ্য সাগরে করা হয়েছিল লিবিয়ার সমুদ্র তীরের কাছে. প্রসঙ্গতঃ, তখনও এবং এখনও সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে যে, যাতে এই এলাকা থেকে ইউরোপের লোক জনকে প্রয়োজনে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে. এই মহড়া কতদিন ধরে চলবে, কেউ জানে না. আর তার মানে হল, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিরিয়ার সমুদ্র তীরে নিজেদের যুদ্ধ জাহাজ যতদিন খুশী রাখার সম্ভাবনা করে রাখল, যা সেই দেশের পরিস্থিতির উপরেই নির্ভর করবে.

অংশতঃ, এই দেশের তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে – যারা আবার ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ, তার উপরেও অনেক কিছু নির্ভর করছে. কারণ সেই সম্পর্কও প্রতিদিনের সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে. গত বৃহস্পতিবারে তুরস্কের পররাষ্ট্র দপ্তর রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে অভিযুক্ত করেছে তাদের দেশের বিরোধী কুর্দি শ্রমিক দলকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার জন্য. আঙ্কারা সিরিয়ার সীমান্তের কাছে ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে এসেছে. যদিও সেই ট্যাঙ্ক গুলি থেকে এখনও গোলা বর্ষণ হচ্ছে না, তবে ইরাকের অভ্যন্তরে সীমান্ত পার হয়ে কুর্দি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচুর অভিজ্ঞতা তুরস্কের কিন্তু আগে থেকেই রয়েছে.