লন্ডনে রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটি এই প্রথমবার পরিবারের বাড়ী তৈরী করেছে. সেখানে ডাকা হচ্ছে অলিম্পিকে প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের লোক জনদের. নিজেদের ছেলেমেয়ে যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের দিকে তাকিয়ে বাবা মায়েরা কি ভাবেন, তা নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে গল্প করেছেন ইরিনা ইশ্যেঙ্কো, নাতালিয়া ইশ্যেঙ্কোর মা, সেই নাতালিয়া যে এই নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে অলিম্পিকে সিনক্রোনাইজড সুইমিং প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে.

ইরিনা ইশ্যেঙ্কো মনে করেছেন – প্রত্যেকবারই যখন ছোট্ট নাতালিয়া ট্রেনিং করতে গিয়েছে বা প্রতিযোগিতায় নেমেছে, তখন তিনি সবচেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন থাকতেন, মেয়ে জলের তলা থেকে পরের শরীরী কায়দা শেষ করে উঠেছে কি না তাই নিয়ে. যাতে সব ঠিক হয়, তাই তাঁর অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল জলে থাকা মেয়েদের মাথা গুনে দেখার. এই অভ্যাস এখনও রয়ে গিয়েছে.

যখন লন্ডনের “অ্যাকোয়াটিক সেন্টারের” গ্যালারি থেকে ইরিনা ইশ্যেঙ্কো মেয়ের ফাইনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দেখছিলেন, জোড়া প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে, আর দেখতে পাচ্ছিলেন যে, মেয়ে প্রায় মিনিট খানেকের জন্য জলের তলায় চলে যাচ্ছে এবং অসম্ভব সব জিনিস করে দেখাচ্ছে, তখন তিনি একেবারেই আনমনা হয়ে মাথা গোনা শুরু করেছিলেন.

আমাদের খেলোয়াড়ের মা ফলের জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন. কারণ বাজী রয়েছিল – অলিম্পিকের মেডেল. আর রাশিয়ার সিনক্রোনাইজড সুইমিং এর প্রতিযোগীদের কাছ থেকে একটাই দাবী – সোনার মেডেল, খুবই বেশী. কারণ অন্য যে কোন মেডলকেই এই ব্যাপারে ধরে নেওয়া হয়ে থাকে রাশিয়ার জন্য পরাজয় – তাই ইরিনা ইশ্যেঙ্কো বলেছেন:

“সবচেয়ে বেশী উদ্বেগের ছিল প্রথম দিনটা, যখন হচ্ছিল সব টেকনিকের কম্পিটিশন. আমরা জানতামই না যে, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কি তৈরী করে এনেছে, চিনেরা কি তৈরী করেছে, কি আছে ওদের প্রোগ্রামে, এরা কি করছে, কিছুই জানতাম না. কারণ ওরা লুকিয়ে ট্রেনিং করেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে এক বন্ধ করে রাখা সুইমিং পুলে. বলা হয়েছিল যে, তারা কি একটা অসাধারণ জিনিস করতে চলেছে. যদিও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাদের সঙ্গে জিততে হলে দরকার জলের ওপর দিয়ে হাঁটার ক্ষমতা. কিন্তু ওদের ব্যাপার কে আগে থেকে জানতে পারবে, হয়তো ওরা জলের ওপর দিয়ে হাঁটতেই শিখে গিয়েছে এর মধ্যে! তাই আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম, কিন্তু যখন চিনাদের দেখলাম, তখন শান্ত হয়ে গেলাম, বুঝলাম যে, ওরা কোন আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছুই করে নি”.

ইরিনা ইশ্যেঙ্কো নিজের মেয়ে কি রকম সুইমিং করেছে, তা নিজেই মূল্যায়ণ করতে পারেন, তার জন্য বিচারকদের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় না. “অবশ্যই আমার সিনক্রোনাইজড সুইমিং খেলায় এখন অভিজ্ঞতা হয়েছে ২০ বছরের” – খেলোয়াড়ের মা হাসিমুখে বলেছেন.

এই কথা সত্য যে, যখন নাতালিয়া পাঁচ বছরের ছিল আর সদ্য শুরু করেছিল সিনক্রোনাইজড সুইমিং করতে, তখন কোন চিন্তাই ছিল না মেয়েকে দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানাতে হবে, এই কথা স্বীকার করে নিয়ে ইরিনা ইশ্যেঙ্কো বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, বাচ্চাদের কিছু একটা নিয়ে অভ্যাস করা দরকার. সেটা যে কোন কিছুই হতে পারে, সেটা চামচ দিয়ে বাজনা বাজানোও হতে পারে.বাচ্চার স্কুল আর বাড়ী ছাড়া অন্য কোন একটা কাজ থাকতে বাধ্য, সে ছবি আঁকুক, গান শিখুক, সাঁতার কাটুক, ছুটুক – যাই হোক না কেন. আমাদের বাড়ীর কাছেই সুইমিং পুল ছিল, আর আমার সিনক্রোনাইজড সুইমিং খুব ভাল লাগত – এটা খুবই সুন্দর খেলা, যা একই সঙ্গে নানা রকমের বিভাগে উন্নতি সাধন করে. এটা যেমন ব্যালে নাচ, যেমন জিমন্যাসটিক্স, যেমন জলে অ্যারোবিক্স, তেমনই সাঁতার কাটা. সবই এক সাথে. তাই আমি নাতালিয়াকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম, আর তাছাড়া ওর একটা রোগ ছিল, কুঁজো হয়ে থাকার, যা সাঁতারের থেকে ভাল করে কিছুই সারাতে পারে না”.

নাতালিয়া ইশ্যেঙ্কো – ১৬ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ৭ বারের ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বের প্রথম সিনক্রোনাইজড সুইমার, যার পক্ষে ইউরোপে এই ধরনের প্রতিযোগিতার চারটি বিভাগেই জয়ী হওয়া সম্ভব হয়েছে. কি করে চ্যাম্পিয়ন তৈরী করতে হয়, এই প্রশ্নের উত্তরে নাতালিয়া ইশ্যেঙ্কোর মা ইরিনা বলেছেন – সবচেয়ে বড় কথা হল, আপনার শিশু যা চর্চা করছে, তা আপনারই ভালবাসা চাই, আর সব বিষয়েই তাদের সমর্থন করা চাই. তখনই সব পাওয়া যায়.