দক্ষিণ এশিয়াতে পারমানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে. ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গুণগত ভাবে ও পরিমান গত ভাবে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে পারমানবিক অস্ত্র সম্ভারের, যা শুধু প্রতিবেশী দেশ গুলির কাছে বিপজ্জনক ঠেকছে না, বরং সারা বিশ্বের কাছেই ঠেকছে, এই কথাই লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

আজকের দিনে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে খুবই প্রসারিত ভাবে উল্লিখিত মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান পরমাণু বিভাজনে সক্ষম পদার্থের উত্পাদন বৃদ্ধি করছে ও সেই পদার্থ পৌঁছে দেওয়ার উপায়ও সৃষ্টি করছে. এরই মধ্যে এই দেশের খুবই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বহু লোকেরই মনে ইসলামাবাদের পক্ষে তাদের পারমানবিক ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা সম্বন্ধে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে ও বোঝা যাচ্ছে না, তারা কি করে চরমপন্থীদের হাতে পারমানবিক পদার্থ পৌঁছনোর পথ রোধ করতে পারবে. পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য না থাকায়. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০- ১১০ টি পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারি.

পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে কোনও ধরনের স্পষ্ট ও আইন সঙ্গত দলিল নেই. রাশিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদ সম্ভবতঃ, চায় প্রথমে নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র প্রয়োগ করার সম্ভাবনা অর্জন করতে. এই প্রসঙ্গে পাকিস্তান একাধিকবার জন সমক্ষে বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, তারা ন্যূনতম পারমানবিক প্রতিরক্ষার পক্ষে, যার কার্য কারণ যোগ তৈরী করা হবে ভারতের এই বিষয়ে কাজ কারবারের উপরে ভিত্তি করে.

ভারতের পক্ষ থেকে রকেট পরিবাহক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, যা পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে যেতে সক্ষম, আর তারই সঙ্গে পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত ত্রয়ী, প্রথম ভারতীয় পারমানবিক অস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ সৃষ্টি সম্পূর্ণ হওয়ার দিকে পৌঁছনোর ফলে পাকিস্তানের দিক থেকেও তাদের পারমানবিক অস্ত্র সম্ভারকে আধুনিক করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে.

আর এখানে সমগ্র মানব সমাজের যুক্তি রাজনীতিবিদদের চৈতন্য থেকে অপসৃত হয়েছে. ভারত, বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী, বর্তমানে ১০০ থেকে ১৫০টি পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করেছে. কিন্তু বহু দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরাই অনেক দিন আগে থেকেই এক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ভারতকে সফল ভাবে আটকে রাখার জন্য পাকিস্তানের পক্ষে যথেষ্ট হবে ২৫- ৩০টি পারমানবিক বোমা থাকলেই. এটা বেশ কয়েকটা বড় ভারতীয় শহরকে ধ্বংস করে ভারতের অপূরণীয় ক্ষতি করার জন্য যথেষ্ট. আর যদি পদাতিক বাহিনী দিয়ে আক্রমণ হয়, তবে পাকিস্তান, এমনকি পারমানবিক ফুগাস মাইন ব্যবহার করতেও পারে.

ভারত আবার নিজের দিক থেকে পারমানবিক অস্ত্র সম্ভার তৈরী নিয়ে খুবই জোরদার গতিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে, যাতে তা চিনের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের সমকক্ষ হতে পারে. ভারতীয় পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে উন্নতির পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের কাছে কম করে হলেও ৩৩০টি আকাশ পথে, ভূমি থেকে উড়ান যোগ্য এবং সমুদ্র থেকে পাঠানো যাবে এই রকমের পরিবাহক থাকবে আর সেই গুলির জন্য ৪০০ টিরও বেশী পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করা হবে.

প্রসঙ্গতঃ, রাজনীতিবিদদের সামরিক ধাঁচে চিন্তা ভাবনা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা থেকে লাভবান হওয়া ব্যবসায়ীদের যুক্তি প্রায়ই প্যারানয়া হওয়া বোধ শক্তি সম্পন্ন হয়ে থাকে. সোভিয়েত দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলার সময়ে সবচেয়ে চালু বচন ছিল যে, বিশ্বে পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা এতই রয়েছে যে, তা বিশ্বকে বেশ কয়েকবার সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট. কিন্তু একবার ধ্বংস হলেই কি বিশ্বের আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে?

আর যদি এশিয়ার পারমানবিক দৌড় নিয়ে কিছু বলতে হয়, তবে মাত্র একটা পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণই দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনও ঘন জন বহুল এলাকায় হলে তা এত বিশাল আকারের মানব বিপর্যয় ডেকে আনবে যে, তখন তুলনা করতে গেলে ২০১০ সালের পাকিস্তানের ভয়ঙ্কর বন্যার ভয়াবহতা বা ২০০১ সালের ভারতের সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের পরিনামকে মনে হবে একেবারেই তুচ্ছ ব্যাপার.