চিনে “গোল্ড রাশ” শুরু হয়েছে. বেজিং তৈরী হচ্ছে নিজেদের সঞ্চয়ে সোনার পরিমান বৃদ্ধি করতে, প্রসঙ্গতঃ তা শুধু কয়েক শতাংশ বেশী করাই নয়, আর একেবারেই সোজা ছয় গুণ বাড়িয়ে ফেলার জন্য. এই বিষয়ে চিনের অর্থনীতিবিদরা দেশের সংবাদপত্র “ঝেনমিন ঝিবাও” এর সাইটে প্রকাশিত পরামর্শ হিসাবে দিয়েছেন. এই প্রবন্ধ প্রকাশের অর্থ অবশ্য এই নয় যে, বেজিং এই মুহূর্তেই সোনা কেনার জন্য লাফ দিয়ে পড়বে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা একেবারেই কোন অন্য অর্থ না রেখেই বলে দিচ্ছে: স্বর্গের নীচের দেশের তরফ থেকে এই ধাতুর প্রতি চাহিদা অবশ্যই বেড়ে যেতে চলেছে.

গণ প্রজাতন্ত্রী চিন বিশ্বের অন্য যে কোনও বড় অর্থনীতির দেশের থেকে আলাদা এই কারণে যে, তাদের স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডারে সোনা খুবই অকিঞ্চিত্কর জায়গা দখল করে রেখেছে. তার সর্ব মোট পরিমানে এই হলুদ ধাতুর পরিমান বর্তমানে শতকরা দুই শতাংশের বেশী নয়. চিনের সোনার জমা পরিমান এখন ১০৫৪ টন. বিশ্বে সোনার সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে চিন এখন রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে.

কিন্তু এটা আপাততঃ. চিন নিজেদের একা হাজার টন সোনার সঞ্চয়ের সঙ্গে আরও পাঁচ হাজার যোগ করতে চায়. অন্তত, যদি “ঝেনমিন ঝিবাও” কাগজে প্রকাশিত প্রবন্ধ দেখে বিচার করতে হয়, তাহলে. যদিও, বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন বাস্তবে এই ধাতু কেনার পরিমান হতে পারে কমই হবে, আর তা কেনা হবেও বহু বছর ধরেই. কিন্তু যদি বেজিং সত্যই খুব সক্রিয় ভাবে বিশ্বের বাজার থেকে সোনার বার কেনা শুরু করে, তবে এই ধাতুর দাম হঠাত্ করেই অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর বেশী দূরে নেই.

কিছু বিশেষজ্ঞরা “ঝেনমিন ঝিবাও” কাগজের প্রবন্ধে আরও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস লক্ষ্য করেছেন. তাঁদের মতে, চিনের সোনার বাজারে বের হওয়ার অর্থ হবে ডলারের উপরে আঘাত করা. এখন এই দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণ দাতা: মার্কিন অর্থনীতিতে ডলার ও সরকারি বণ্ড কিনে রেখে চিন নিজেদের সঞ্চয়কে ধরে রেখেছে, যার অর্থমূল্য বহু লক্ষ কোটি ডলারের সমান. যদি চিন এই অর্থের কিছুটা সোনায় পরিবর্তন করতে চায়, তবে এটা ডলারের দাম খুবই কমিয়ে দেবে বিশ্বের আর্থিক বাজারে. কিন্তু সমস্ত বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে নাটকীয় করতে চাইছেন না. কিছু লোক মনে করেন যে, চিন খুব স্বাভাবিক ভাবেই সোনা কিনবে ও যার ফলে কোন রকমের টের পাওয়ার মতো ক্ষতি মার্কিন ডলারের জন্য হবে না. তা না হলে, চিনের লোকরা নিজেরাই এর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে. অংশতঃ, রুশ- চিন বাণিজ্য- অর্থনৈতিক সহযোগিতা কেন্দ্রের প্রধান সের্গেই সানাকোয়েভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“খুবই সম্ভবতঃ, অন্য কোন কাজ দিয়ে চিনের লোকরা ডলারকে ধরে রাখার চেষ্টা করবে. তাদের জন্য ডলারের দাম পড়ে যাওয়া লাভজনক নয়, কারণ এই পড়ে যাওয়ার ফলে তাদের নিজেদের সঞ্চয়েরই দাম কমে যাবে ডলার অংশে. এই প্রশ্নের মূল্য পঞ্চাশ হাজার কোটি থেকে প্রায় এক লক্ষ কোটি ডলার. তাই, অবশ্যই, চিনের লোকদের জন্য মোটেও লাভজনক হবে না ডলারের দাম পড়ে যাওয়া”.

ডলারের উপরে যে রকমই প্রভাব চিনের আগামী সোনা নিয়ে দিক পরিবর্তনের জন্য ঘটুক না কেন, আর অন্যান্য বিশ্বের প্রধান সঞ্চয়ের মুদ্রার উপরে হোক না কেন, বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয়ে একমত যে – এটা হলুদ ধাতুর দাম বাড়ার জন্য প্ররোচনা দেবে.