পেন্টাগনের প্রধান লিওন প্যানেত্তার আশা ছিল যে, আলেপ্পো শহর জঙ্গীরা দখল করতে পারলে, বাশার আসাদের কফিনে শেষ পেরেকটাও পোঁতা হয়ে যাবে, কিন্তু তা ঠিক প্রমাণিত হল না. এই স্ট্র্যাটেজিক জনপদ শেষ অবধি সরকারি ফৌজের নিয়ন্ত্রণে এসেছে. বিরোধী পক্ষ মনের কষ্ট চেপে পরাজয় স্বীকার করেছে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও বর্তমানের সরকারকে বহাল রাখা দেশের নেতার সিদ্ধান্তের ঋজুতার উপরেই নির্ভর করছে.

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে লড়াই দেশের বর্তমান সরকার, বিরোধী পক্ষের জঙ্গীরা ও এমনকি পশ্চিমের বিশেষজ্ঞদের জন্যও ছিল এক হেস্তনেস্ত হওয়ার মতো লড়াই. এখানে সাফল্য পাওয়া গেলে সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের লোকরা ঠিক করেছিল, পাশের ইডলিব দখল করে নেওয়ার ও সেখানে পরবর্তী যুদ্ধের জন্য শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরী করার. পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম খুবই জোর গলায় ঘোষণা করেছিল: আলেপ্পো শহরের উপরে নিয়ন্ত্রণ “বিদ্রোহের” আগুনে নতুন ঘৃতাহুতি করবে ও রাষ্ট্রপতিকে বাক্স গোছাতে বাধ্য করবে.

কিন্তু পরিস্থিতি “প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ করা” লোকদের পক্ষে যায় নি. যদিও এমনকি সেই ধরনের ঘটনা পরম্পরা হলেও বলা যায় না যে, সরকারি ফৌজ কোন হেস্তনেস্ত করার মতো শক্তি বৃদ্ধি করতে পেরেছে, এই রকমই মনে করে প্রাচ্য বিশারদ প্রফেসর ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন

পরিস্থিতি খুব একটা বেশী পরিবর্তিত হয় নি, এর আগে দামাস্কাসের কিছু অংশও অধিকৃত ছিল. কিন্তু সরকারি ফৌজের একটা নির্দিষ্ট সাফল্য হয়েছে. আর এর পরে সবই নির্ভর করবে, বিরোধী পক্ষ কতটা দল বাঁধতে পারবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও তুরস্ক আর পারস্য উপসাগরের দেশ গুলি থেকে কত আর্থিক সাহায্য পাবে. বর্তমানের তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে তারা কতদূর বাস্তবে অনুপ্রবেশ করতে পারবে. আসাদ কি করতে পারেন? যেহেতু সমস্ত শান্তি আলোচনার উদ্যোগই কানা গলিতে গিয়ে ঠেকেছে, তাই আমি শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়ার প্রতিনিধির বক্তব্য অনুযায়ী বলতে পারি. তিনি বলেছেন যে, আরও বেশী কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে. আসাদ খুব ভাল করেই বুঝতে পারছেন যে, বিরোধী পক্ষ যখন আলোচনাতে বসতে রাজী নয়, ব্যস্ত আছে সশস্ত্র উস্কানি দিতে আর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করাতে, তখন একটাই পথ খোলা রয়েছে, আর সেটা হল শক্তি প্রয়োগের পথ. তা কতক্ষণ যথেষ্ট থাকবে, তা বলা মুশকিল.

সিরিয়ার সরকার ও দেশের জনগনের এক যথেষ্ট নির্দিষ্ট কাজের পরিকল্পনা রয়েছে, এই ধারণা “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন রাশিয়ার সিরিয়ার জনগনের সঙ্গে সহযোগিতা সংগঠনের সহ সভাপতি ওলেগ ফোমিন, তিনি বলেছেন:

“সিরিয়ার লোকদের নিয়ে কি করতে হবে? জঙ্গীদের হাত থেকে শহর গুলিকে রক্ষা করতে হবে, সেই দিকেই যেতে হবে, যাতে সমাজের সমস্ত স্বাভাবিক শক্তি আলোচনার টেবিলে বসে. আশা করব যে, সিরিয়ার বন্ধুদের পরিধি বাড়তেই থাকবে, কারণ সকলেরই দামাস্কাসের অবস্থানের ঠিক হওয়া নিজে থেকেই বুঝতে পারবে আর একই সঙ্গে নিওগ্লোবালিস্টদের রাজনীতির ক্ষতিকর দিকটাও বুঝতে পারবে, যারা সিরিয়াকে ভেঙে দিয়ে সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জারী করতে চাইছে, আর সঠিক করে বলতে হলে – নিকট প্রাচ্যে একটা মাত্সান্যায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে”.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে আলেপ্পো – খুবই বড় বাণিজ্য কেন্দ্র, যেখানের লোকরা সব মিলিয়ে বাশার আসাদকেই সমর্থন করে থাকেন. আর সেখানে একটা ন্যূনতম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা – সশস্ত্র জঙ্গীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারা – এই সবই বর্তমানের ক্ষমতাসীন সরকারের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে. তার ওপরে এই শহরের জন্য “লড়াইয়ের” পরে দেখতে পাওয়া গেল যে, জঙ্গীদের মধ্যে কম বিদেশী ভাড়া করা সৈন্য নেই, যারা এসেছে তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব থেকে. প্রসঙ্গতঃ, ঐতিহ্য মেনেই একেবারে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে এমন বাস্তবকে উপেক্ষা করে লিওন প্যানেত্তা ঘোষণা করেছেন: “আলেপ্পো – আসাদ সরকারের পক্ষ থেকে নিজেদের দেশের জন সাধারণের বিরুদ্ধে নৃশংস প্রশাসনের আরও একটি ট্র্যাজিক উদাহরণ”. বোধহয় যে, এই ধরনের বাকতাল্লা আরও অনেক শুনতে হবে. এর ব্যাখ্যা খোঁজা দরকার অন্য এক স্তরে: জঙ্গী ও তাদের পশ্চিমের সহযোগীদের জন্য আলেপ্পো শহরকে দেখা হয়েছিল শুধু যুদ্ধ করার জন্য একটা ঘাঁটি তৈরীর জায়গা হিসাবে নয়, বরং বিদেশী সামরিক সাহায্য পাওয়ার উপযুক্ত একটা ঘাঁটি হিসাবে. এখন অন্য কোনও ঘাঁটি খুঁজতে হবে.