বিশ্বের জনগনকে প্রকৃতি আবহাওয়া দিয়ে তাদের সহ্য শক্তির পরীক্ষা করছে – প্রচণ্ড গরম আর দাবানল ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, অস্ট্রেলিয়াতে বহু লোক সরাসরি টের পেয়েছেন. আর এশিয়ার বহু দেশেই প্রবল বর্ষণ থেকে বন্যা ও ধ্বস নেমে লোকে কষ্ট পাচ্ছেন. সাধারন লোকের মাথায় একটাই শুধু ব্যাখ্যা আসছে: এই তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের উষ্ণায়নের পরিনাম. আর আবহাওয়ার সঙ্গে আসলে কি ঘটছে? বিজ্ঞানীদের ধারণা আবহাওয়ার এই অনিয়মের বিষয়ে নানা রকমের হয়েছে.

বিশেষজ্ঞদের এই বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ে যে বিতর্ক, তা বহু দিন হল চলছে. নাসা সংস্থার নেতৃত্ব মনে করেন যে, এটা – মানুষের বাঁচার জন্য করা কাজকর্মের পরিনাম. কিন্তু এই মতের সঙ্গে সংস্থার অন্যান্য কর্মীরা একমত নন. ৪৯ জন মহাকাশচারী ও আমেরিকার মহাকাশ সংস্থার কর্মী একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে তাঁরা বিশ্বের উষ্ণায়নের বিষয়ে মানুষের কাজকর্মের থেকে উত্পত্তিকে স্বীকার করতে চান নি.

আবহাওয়া যে বিশ্বে আরও বেশী করেই চরম হচ্ছে, তাতে মানুষের দোষ নিশ্চয়ই রয়েছে, এই রকম মনে করে বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিলের “আবহাওয়া ও শক্তি উত্পাদন” প্রকল্পের রাশিয়ার ডিরেক্টর আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

“এই সব কোথা থেকে হচ্ছে? প্রধানতঃ সেই কারণেই যে, মানুষের আবহাওয়ার উপরে প্রভাব এখন সমস্ত অন্যান্য কারণকে ছাপিয়ে উঠছে. আশা করব মানব সমাজ আবহাওয়ার উপরে প্রভাব কমাবে. আর আবার সব কিছুই হবে সূর্য, পৃথিবীর কক্ষ পথ, আগ্নেয় গিরি ও অন্যান্য স্বাভাবিক কারণের উপরে নির্ভর করে”.

আলেক্সেই ককোরিন মনে করেছেন যে, মানুষ আবহাওয়াকে পাল্টাতে পারে না. কিন্তু সেই গ্রীন হাউস এফেক্ট, যা সৌর সক্রিয়তার প্রভাবের সঙ্গে একই রকমের শক্তিশালী, তা মানুষ তৈরী করতে পেরেছে. আর এটাই আবহাওয়ার ব্যবস্থাকে টলিয়ে দিয়েছে. বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, কম করে হলেও আগামী অর্ধ শতকে আমাদের আবহাওয়ার অনিয়মের মধ্যেই বাঁচতে হবে ও তা মানিয়েও নিতে হবে.

কিন্তু মানব সমাজকে শুধু গরমের সঙ্গেই নয়, ঠাণ্ডার সঙ্গেও টক্কর দিতে হবে, যা এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এই রকম কথা জোর দিয়ে বিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানের সংযুক্ত সভার সভাপতি নৃতাত্ত্বিক ও খনিজ বিজ্ঞানে ডক্টরেট করা অ্যাকাডেমিশিয়ান নিকোলাই দবরেত্সভ বলেছেন:

“এই রকমের একটা দৃষ্টিকোণ ছিল যে, মানুষের কাজকর্মের ফলে আবহাওয়াতে হস্তক্ষেপ, সমস্ত তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজের ফল ও সব মিলিয়ে শিল্পের ব্যবহার - বিশ্বের আবহাওয়ার মেশিনে একেবারেই আর পরিবর্তন যোগ্য নয়, এমন বদল এনেছে. এর ফলে খুবই দ্রুত গরম হয়ে ওঠা শুরু হয়েছে গত শতকেই, যা অনির্দিষ্ট কালের জন্য চলতেই থাকবে. কিন্তু গত তিন বছরের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভেনিসে খাল গুলিতে জল জমে গিয়েছিল, স্পেনে আঙ্গুর গাছ শীতে জমে গিয়েছিল, আর মস্কো শহরে এবং ইউরোপের অনেক জায়গা জুড়েই ছিল শীতল বসন্ত কাল, যা প্রমাণ করেছে যে, সাময়িক ভাবে ঠাণ্ডা হওয়াও শুরু হয়েছে. আর্কটিক অঞ্চলে বরফের সঙ্গেও এই রকম ঘটছে. সব চেয়ে কম বরফ ছিল ২০০৭ সালে, ২০০৮ ছিল সেই রকমই. আর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে এবং এই বছরের শুরুতে আবার বরফের পরিমান বাড়তে শুরু করেছে”.

আবহাওয়ার রান্নাঘর – আর্কটিক অঞ্চল. আগামী একশ বছরে এখানে বরফ কখনও কমবে, কখনও বাড়তে থাকবে. কিন্তু কখন আমাদের গ্রহের জন্য আজ থেকে ২০ হাজার বছর আগে বর্তমানের ইউরোপে ঘটে যাওয়া হিম যুগ নতুন করে শুরু হবে, তা এখন বলে দিতে কেউই তৈরী নয়, এই রকমই মনে করেছেন অ্যাকাডেমিশিয়ান দবরেত্সভ.

যখন বিশেষজ্ঞরা বিতর্কে নিরত রয়েছেন, তখন বিশ্বের বেশীর ভাগ লোকের জন্য সবচেয়ে বেশী চিন্তার বিষয় হয়েছে বাস্তব সব প্রশ্ন গুলি. খরা ও বন্যা কত খানি বেশী প্রভাব ফেলবে, বন্যা ও ঝঞ্ঝা থেকে জিনিষের দাম কত বাড়বে, তার মধ্যে দানাশষ্য, ময়দা ও রুটিও রয়েছে যে?