পারমানবিক রকেট বাহী ডুবোজাহাজ “আরিহান্ত” নৌবাহিনীতে সামিল করে ভারত পারমানবিক ত্রয়ীর তৃতীয় অঙ্গটিও সৃষ্টি শেষ করে ফেলবে – গণ হত্যার অস্ত্র হিসাবে ভারতের কাছে থাকবে ভূমিতে, আকাশে ও সমুদ্র থেকে উড়ান যোগ্য রকেট ব্যবস্থা, লিখছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রসার করে ভারত হবে বিশ্বের চতুর্থ দেশ, যাদের কাছে এই প্রবল পরাক্রম সম্পন্ন ত্রয়ী থাকবে. আর এই বিষয়ে তারা সেই ধরনের দেশকে পেরিয়ে যাবে, যেমন ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন. কারণ ফ্রান্সের কাছে রয়েছে শুধু সমুদ্রে ও আকাশ থেকে রকেট ছোঁড়ার ব্যবস্থা আর গ্রেট ব্রিটেনের কাছে রয়েছে শুধু মাত্র সমুদ্র থেকে উড়ানের ব্যবস্থা, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ভূ রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“বর্তমানে শুধু তিনটি দেশের কাছেই সম্পূর্ণ মানের পারমানবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে. এরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিন. এবারে ভারতও হবে”.

প্রথম ভারতীয় রকেট বাহী পারমানবিক ডুবোজাহাজ ভারতীয় নৌবাহিনীতে সামিল হতে পারে এই বছরেই. ৮ই আগষ্ট ভারতীয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের অধিনায়ক অ্যাডমিরাল নির্মল ভার্মা জানিয়েছেন যে, পারমানবিক ডুবোজাহাজ আরিহান্ত যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ ভাবেই উপযুক্ত হবে আগামী সময়ে নির্দিষ্ট করা চলাচলের পরীক্ষা ও তার থেকে পরীক্ষা মূলক ভাবে ব্যালিস্টিক রকেট কে- ১৫ সাগরিকা ছোঁড়ার পরেই. এই সমুদ্র থেকে ছোঁড়ার উপযুক্ত রকেট, যা পারমানবিক বোমা ৭৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অবধি বয়ে নিয়ে যেতে পারে, তা এই বছরের মার্চ মাসেই খুবই সাফল্যের সঙ্গে সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম থেকে জলের তলায় ছয় মিটার গভীর জায়গা থেকে ছোঁড়া হয়েছিল.

কিন্তু বিদেশী বিশেষজ্ঞদের জন্য বেশী করে মনে রাখার মতো বিষয় হয়েছে যে এই ভয়ঙ্কর অস্ত্রের সমস্ত অংশই গবেষণা করে উত্পাদন করা সম্ভব হয়েছে ভারতবর্ষে, ভারতেরই বিশেষজ্ঞরা তা তৈরী করতে পেরেছেন, শুধু ভারতের একটা পারমানবিক রকেট বাহী ডুবোজাহাজ তৈরী হওয়াই নয়, তাই কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“পারমানবিক ত্রয়ী সৃষ্টি করে ভারত শুধু নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই সম্পূর্ণ করে নি. এটা একই সঙ্গে সেই বিষয়ের সাক্ষ্য দিয়েছে যে, ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট সফল ভাবেই উন্নতি করছে ও দেশ খুবই উচ্চ মানের প্রযুক্তি গত উন্নতি করতে পেরেছে”.

এটা প্রাথমিক ভাবেই বলা যেতে পারে কম আয়তনে সীমাবদ্ধ পারমানবিক রিয়্যাক্টর নিয়ে. বিশ্বের খুব কম দেশই এই ধরনের শক্তি উত্পাদনে সক্ষম রিয়্যাক্টর বানাতে পারে. পারমা৩নবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের স্বাভাবিক রিয়্যাক্টর গুলির তুলনায় যুদ্ধ জাহাজের জন্য তৈরী পারমানবিক রিয়্যাক্টর হবে ছোট, যা চলন্ত অবস্থায় কাজ করতে পারে, তার ওপরে যে কোন রকম হঠাত্ করে আক্রমণের সময়ের স্থিতিশীল থাকতে পারে, যেমন জলের গভীরে করা বোমা বিস্ফোরণের হাত থেকে. তাছাড়া এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলাদা রকমের কাজের ধরনের কথাও না বললেই হয়, কারণ – হঠাত্ দ্রুত এগিয়ে যাওয়া বা চলার গতি আকস্মিক ভাবে কমিয়ে দেওয়া শক্তি কমিয়ে এই সব কঠিন ব্যাপারও রয়েছে. এই সমস্ত জটিলতম প্রশ্নেরই উত্তর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা নিজেরাই সমাধান করতে পেরেছেন.

“আরিহান্ত” পারমানবিক ডুবোজাহাজ তৈরী করতে পারা ভারতকে এক অতুলনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করেছে, আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ তৈরীর ক্ষেত্রে. নতুন প্রযুক্তি গত উন্নতি গুলি সেই দ্বিতীয় পারমানবিক ডুবোজাহাজ তৈরীর সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভারতের বিশাখাপত্তনমের জাহাজ ঘাটায় তৈরী হচ্ছে. পারমানবিক ডুবোজাহাজ “আর্হিদমণ” ২০১৫ সালে তৈরী হয়ে ভারতের নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার জন্য পরীক্ষিত হবে. আর ভারতের নৌবাহিনী এই ধরনের ডুবোজাহাজ তৈরীর জন্য মোট চারটি “আরিহান্ত” ধরনের ডুবোজাহাজের বায়না দিয়েছে.