লন্ডন অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে. রাশিয়ার জিমন্যাস্টরা বৃটিশ রাজধানীতে জিতেছে ৮টি পদক – একটি সোনা, তিনটি রুপো এবং চারটি ব্রোঞ্জ পদক.

   চার বছর আগে বেজিং অলিম্পিকে রাশিয়ার জিমন্যাস্টরা জিতেছিল মাত্র দুটি ব্রোঞ্জ পদক. এ ছিল প্রকৃত বিফলতা. রাশিয়া, যাকে সর্বদা মনে করা হত জিমন্যাস্টিক্সে প্রবণতা নির্ধারণকারী, সে নিজের প্রাধান্য হারিয়েছিল.

   লন্ডনে রাশিয়ার জিমন্যাস্টরা আবার জোর গলায় নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছে. তাদের অংশগ্রহণ সফল হয়েছে বলা যায়. উপরন্তু অলিম্পিকে অংশ নিয়েছে একেবারে তরুণ দল. কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে তাদের পদকের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে. আর তারা রুখে দাঁড়াতে পেরেছে.

   রাশিয়ার দলের জন্য প্রতিযোগিতা সহজ ছিল না. লন্ডনে সবকিছুই ছিল চোখের সামনে : উজ্জ্বল বিজয়ের আনন্দ ও পরাজয়ের হতাশা, আলিয়া মুস্তাফিনা-র স্বর্ণপদক জয়ের আনন্দ, আবার ভিক্তোরিয়া কোমোভা-র রৌপ্যপদক পাওয়ায় তার চোখের জল.

   বিচারকদের সম্পর্কেও প্রশ্ন ছিল. যেমন, হর্স ভল্ট প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাককাইল মারোনি পড়ে গিয়েছিল লাফ দিয়ে নামার সময়. কিন্তু বিচারকরা তার পয়েন্ট কমান নি, আর এইভাবে সে ছাড়িয়ে যায় রাশিয়ার মারিয়া পাসেকু-কে, যে ফলে অধিকার করে তৃতীয় স্থান. অবশ্যই রাশিয়ার মেয়েটি অভিযোগ প্রকাশ করে নি, শান্তভাবে বলেছে – হয়তো, বিচারকরা মনে করেছেন যে, আমি রৌপ্যপদক পাওয়ার যোগ্য নই.

   জিমন্যাস্টিক্সে নিয়ম রয়েছে – ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা এবং প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে শুধু নিজেদের জিমন্যাস্টদের ক্ষেত্রে. আর মার্কিনী মেয়েটি ভুল করেছে, তা বলার অধিকার নেই আমাদের, বলেছেন রাশিয়ার দলের মুখ্য জিমন্যাস্টিক ট্রেনার আন্দ্রেই রোদিওনেনকো :

   আমি একটা কথা বলতে পারি. জিমন্যাস্টিক্সের ইতিহাসে কখনও এমন ঘটনা ঘটে নি যে, হর্স ভল্টের সময় পড়ে যাওয়া জিমন্যাস্ট পদক জয় করেছে. অতএব, এ ঘটনা মন্তব্যের অপেক্ষা রাখে না.

   অলিম্পিক জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতার ফলাফলের খতিয়ান টেনে আন্দ্রেই রোদিওনেনকো প্রধান সাফল্য বলে অবিহিত করেন এ বিষয়কে যে, রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে অতি পরিপ্রেক্ষিতপূর্ণ দল, যা অবশ্যই নিজেকে প্রকট করবে :

   এ দল গঠনের সময় আমরা শুধু লন্ডন অলিম্পিকের কথাই ভাবি নি, ভেবেছি পরবর্তী অলিম্পিক চক্রের কথাও. আমার খুব বিশ্বাস আছে যে এই ছেলে-মেয়েরা পরবর্তী রিও-দে-জেনিরো অলিম্পিকে যোগ্য ভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে.

   জিমন্যাস্টরা নিজেরাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, পরবর্তী অলিম্পিকে পদকের সংখ্যা আরও বেশি হবে.