0২০১১ সালের ফলাফল অনুযায়ী রাশিয়া বিশ্বে বতসোয়ানার পরে দ্বিতীয় সর্বাধিক হীরে উত্পাদন কারী দেশ হয়েছে. তৃতীয় স্থানে রয়েছে কানাডা, আর চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা.

রাশিয়ার কোম্পানীদের জন্য, প্রথমতঃ বিশ্বের এক অন্যতম প্রধান কোম্পানী আলরোসা ৩ কোটি ৫০ লক্ষ ক্যারেটেরও বেশী হীরে উত্পাদন করেছে, যার অর্থমূল্য প্রায় দু শো ৭০ কোটি ডলারের সমান. ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরে না কাটা হীরের উত্পাদন অবশ্যই কমে গিয়েছিল, কিন্তু রাশিয়া পরিমানের দিক থেকে তা কমায় নি, একই সময়ে হীরের বাজারে বিগত বহু বছর ধরে নিয়ন্ত্রক হিসাবে থাকা ডে বির্স কোম্পানী, নিজেদের তথাকথিত কিছু হীরে উত্পাদনের কূপে কাজ বন্ধ করে রেখেছে, এই কথাই উল্লেখ করে রাশিয়ার ক্রিস্টাল কোম্পানীর ভাইস ডিরেক্টর ম্যাক্সিম শ্কাদভ বলেছেন:

“হীরের বাজারে খুবই সিরিয়াস পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, ডে বির্স ঘোষণা করেছে যে, তারা এই বাজারে একাধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের ভার হাতে রাখতে চায় না. এই ভাবেই রাস্তা খুলে গিয়েছে সমস্ত ইচ্ছুক কোম্পানীদের জন্যই. কিন্তু এই ধরনের কোম্পানীর সংখ্যা খুব বেশী নয়, ডে বির্স – বিশ্বের এক নম্বর কোম্পানী, আলরোসা আজ বিশ্বে দ্বিতীয়, তার সঙ্গেই রয়েছে খনিজ উত্পাদক বিশালাকৃতি কোম্পানী রিও টিন্টো ও বিএইচপি বিল্লিটন”.

রাশিয়ার ভাগে আলরোসা কোম্পানীর দখলে বিশ্বের সমগ্র হীরে উত্পাদনের একের চার ভাগ রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার কাটা হীরে উত্পাদকদের সংগঠনের উপ সভাপতি আরারাত এভোইয়ান বলেছেন:

“২০০৮ সালের আগে অবধি দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারেই এই হীরের অর্ধেক যেত, আর বাকী অর্ধেক – রপ্তানী করা হত. এখন খনি তোলা হীরের প্রায় একের তৃতীয়াংশ রপ্তানী হয়ে যাচ্ছে, বাকী রাশিয়াতে যারা হীরে কাটেন, তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে. বেশীর ভাগ না কাটা হীরে সেই সমস্ত দেশেই যাচ্ছে, যেখানে এই গুলি থেকে কাটা হীরে তৈরী করা হয়, সেই ক্ষেত্রে প্রাথমিক হল ভারত, ইজরায়েল ও বেলজিয়াম”.

রাশিয়ার হীরে কাটার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারখানা উপস্থাপন করে থাকে, তাদের মধ্যে প্রথমে রয়েছে স্মোলেনস্ক শহরের ক্রিস্টাল নামের কারখানা. এই কোম্পানী কাজ করছে ও খুবই সফল ভাবে বাজারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে. এই কথাই উল্লেখ করে ম্যাক্সিম শ্কাদভ বলেছেন:

“রাশিয়া কাটা হীরে সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল – এটা একেবারে সেরা হীরে. যদি গাড়ীর সঙ্গে তুলনা করা যায়, তবে এটা বেন্টলি বা রোলস্ রয়েস শ্রেনীর গাড়ীর মতো. রাশিয়ার উত্পাদকরা খুবই উচ্চ মানের হীরে তৈরী করে থাকে. তাদের প্রায় শতকরা ৯৮ ভাগের বেশী হীরে চলে যায় বিদেশের বাজারে, যা অনেক প্রসারিত – জাপান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত. দেশ অনুযায়ী ছবি দেওয়া খুবই কঠিন, বাজার এই ভাবেই তৈরী হয়েছে যে, হীরে সেই সমস্ত পাইকারী বিক্রেতা বা দেশ হয়ে যায়, যেখানে মূল্যবান পাথর নিয়ে কাজ করার জন্য সবচেয়ে ভাল পরিস্থিতি তৈরী করা রয়েছে”.

এই ধরনের কেন্দ্র কয়েকটা – এটা অ্যান্টওয়ের্প, তেল- আভিভ, নিউ ইয়র্ক, দুবাই ও হংকং. প্রধান হীরের ক্রেতা দেশ আমেরিকা, তারপরে জাপান, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলি, তার পরে ইউরোপের দেশ গুলি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশী পরিমানে হীরে বিক্রী করে থাকে ভারত ও চিনের উত্পাদকরা, তাই ম্যাক্সিম শ্কাদভ বলেছেন:

“আমরা আমাদের খুবই ভাল জাতের জিনিষ নিয়ে অন্য এক স্তরের বাজারে উপস্থিত রয়েছি, কিন্তু সেখানে আমরা উপযুক্ত জায়গাই দখলে রেখেছি. যথেষ্ট হবে বললে যে, ক্রিস্টাল কারখানা সেই ধরনের বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ডের হীরে সরবরাহ করে থাকে, যেমন “টিফানি” মার্কা”.

0মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্মোলেনস্ক শহরের ক্রিস্টাল কারখানা নিজেদের সিস্টার কনসার্ন খুলেছে, যারা সেখানে বিক্রী করে. তাদের ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে, যেহেতু রাশিয়া খুবই উচ্চ মানের কাটা হীরে তৈরী করে থাকে.