বহু দিনের জন্য পরিকল্পনা ও রাশিয়ার বিমান বাহিনীকে নতুন করে সজ্জিত করার জন্য কথা হয়েছে দুই ধরনের বিমান নির্মাণ করা হবে – সু – ৩৫ ও পঞ্চম প্রজন্মের বিমান টি – ৫০. ২০১৩ সাল থেকে শুরু হতে চলেছে সু- ৩৫ নিয়মিত ভাবে উত্পাদন করার ও ২০১৫ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হবে পঞ্চম প্রজন্মের টি – ৫০ ধরনের যুদ্ধ বিমান, এই কথা ঘোষণা করেছেন দেশের বিমান বাহিনীর প্রধান ভিক্টর বন্দারেভ.

সু- ৩৫ যুদ্ধ বিমান ও পরবর্তী কালে সু- ২৭ ধরনের যুদ্ধ বিমানের উন্নতি করার জন্য যোগ করা হতে চলেছে পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের বহু আধুনিক প্রযুক্তি. বিমানে খুবই শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ইরবিস – এ, যার আকাশে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করার ক্ষমতা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, তা লাগানো হবে. বিমানে একই সঙ্গে ১১১ সি ধরনের খুবই শক্তিশালী ইঞ্জিন লাগানো হবে, যা নিয়ন্ত্রণ যোগ্য দিক নির্দেশের সাথে ১৪, ৫ টন পর্যন্ত আকাশে তুলতে পারবে এবং সেখানে বৈদ্যুতিন যন্ত্র পাতিও লাগানো হবে আধুনিক ধরনের. রাশিয়ার কমসোমোলস্ক না আমুরে নামের জায়গার বিমান নির্মাণ কারখানাতেই এই বিমান নির্মাণ করা হবে. এই কারখানাতেই এক সময়ে বেশীর ভাগ সু – ২৭ ধরনের বিমান তৈরী করা হয়েছিল, যা চিনে রপ্তানীর জন্য করা হয়েছিল. চিনের পক্ষ থেকে কারখানার নতুন উত্পাদনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, বর্তমানে দুই পক্ষ চিনে সু – ৩৫ রপ্তানী করা নিয়ে আলোচনা করছে.

চিন ও রাশিয়া – একমাত্র দেশ নয়, যা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে, যাদের কাছে পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ভারতে সরকারি সফরের সময়ে ২০১০ সালের ২১শে ডিসেম্বর রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান তৈরীর জন্য এক প্রকল্প তৈরীর চুক্তি করা হয়েছিল.

এই ধরনেরই পরিকল্পনা বর্তমানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াতে আলোচনা করা হচ্ছে. আপাততঃ, সেই গুলি রয়েছে খুবই শুরুর পর্যায়ে. কিন্তু এই দুটি দেশের সুবিধা হল যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক করেছে ও আমেরিকার প্রযুক্তি পেতেই পারে. তাছাড়া, খুব শীঘ্রই এই এলাকায় আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান এফ – ৩৫ চলে আসবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে থাকা এফ – ২২ নিয়মিত ভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই এলাকায় নিজেদের সহযোগী দেশ গুলির জন্য পঞ্চম প্রজন্মের বিমান সরবরাহ বাড়াচ্ছে. এই বিষয়ের সঙ্গেই রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে বিশেষ করে বিমান নির্মাণের বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করা যেতে পারে.

যদিও রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান টি – ৫০, ২০১৫ সালের পর থেকে নিয়মিত ভাবে বানানোর, তবুও এই সময় সীমাকে একেবারে নিশ্চিত বলে মনে করা যেতে পারে না. মার্কিন এফ – ২২ ও এফ – ৩৫ বানানোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে, এই ধরনের জটিল ব্যবস্থা বানানোর সময়ে প্রাথমিক ভাবে যে সময় সীমা ধরা হয়েছে, তা বজায় রাখা খুব অল্প সময়েই সম্ভব হয়.

একই কথা বলা যেতে পারে চিনের পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণ সম্বন্ধেও. রাশিয়ার চেয়েও চিনের পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণের প্রকল্পের অবস্থা বেশী জটিল, কারণ চিনের ইঞ্জিন নির্মাণের বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে বলে.

সু – ৩৫ বিমান রপ্তানীর বিষয়ে আলোচনা রাশিয়া ও চিনের মধ্যেও চলছে খুবই কষ্ট কর ভাবে ও কিছু সময়ে তা বন্ধ হয়েও ছিল, দুই পক্ষের থেকে এই বিষয়ে বিভিন্ন মত থাকার কারণে. চিনের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিমানের খুবই অল্প সংখ্যক কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছিল, যাচাই করে দেখার জন্য. বাস্তবে দেখা গিয়েছে যে, এই ভাবে বিমান কিনে নিয়ে গিয়ে চিন তার পরে এর নকল করে, অনেক সময়েই তার জন্য আলাদা করে লাইসেন্স নেওয়ার কথাও ভাবে না রাশিয়া রাজী আছে চিনকে এক সারি এই বিমান দিতে – তবে তার পরিমান কখনোই ৪৮ এর কম নয়.

বোঝাই যাচ্ছে যে, চিন চেয়েছে বিদেশ থেকে তৈরী যুদ্ধ বিমান কেনার বিষয় আবার শুরু না করতে. এই প্রশ্ন গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের জন্য শুধু সামরিক – প্রযুক্তি বিষয়েই নয়, বরং দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়েও মানে রাখে. দুই দেশের এখন পরস্পরের জন্য উপযুক্ত কাঠামো বানাতে হচ্ছে খুঁজে, আর এই জন্যেই সময় লাগবে.