তাতারস্থানের মসজিদ গুলিতে বিদেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকে উত্তীর্ণ হওয়া লোকরা শুধু পরীক্ষা দিয়ে তবেই ধর্ম প্রচারের কাজ করতে পারবেন. এই প্রজাতন্ত্রের বিধান সভা বিবেক স্বাধীনতা ও ধর্মীয় সংস্থা সংক্রান্ত আইনে এই ধরনের সংশোধনকে সমর্তন করেছেন. এর পর থেকে ধর্মীয় সংগঠন গুলিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কয়েক দিন আগে ছাত্র থাকা লোকদের যোগ্যতা বিচার করার, যারা বিদেশ থেকে এসেছেন. এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার চাইছে তাতারস্থান এলাকায় চরমপন্থীদের প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে.

বিধান সভার অধিবেশন হয়েছে এই রাজ্যের ধর্মীয় নেতাদের উপরে আক্রমণের পরে. মনে করিয়ে দিই যে, ১৯শে জুলাই কাজান শহরে মুসলমানদের ধর্মীয় সংগঠনের প্রশিক্ষণ দপ্তরের প্রধান ওয়ালিউল্লা ইয়াকুপভ নিহত হয়েছেন ও তাদের সভাপতি ইলদুস ফইজভ আহত হয়েছেন. রাজ্যে এই অপরাধের প্রবল প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হয়েছে ও সরকারকে এবং ধর্মীয় নেতৃত্বকে বাধ্য করেছে ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে. বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াকুপভ ও ফইজভ কে আক্রমণ ঐতিহ্য অনুযায়ী ইসলামের বিরোধীদের কাজ. তাদের মধ্যে সেই সব লোকও রয়েছে, যারা নিকট প্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকাতে প্রশিক্ষণ পেয়েছে.

তাতারস্থানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মনে করে যে, রাজ্যে বিগত সময়ে ধর্মীয় চরমপন্থী দল – সালাফিত লোকজন দের কাজকর্ম বেড়েছে. তারা বিদেশ থেকে প্রচুর সাহায্য পাচ্ছে. রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী আসগাত সাফারভ মনে করেন যে, তাদের ধর্মীয় নীতিতে রয়েছে অন্যান্য ধনের ধর্ম মতের প্রতি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা. সালাফিত ধর্মের প্রচারকরা তাদের ইসলাম ধর্মের প্রতি দৃষ্টিকোণকেই একমাত্র সঠিক মনে করে ও অন্য যে কোন ধরনের মতামতকেই অসম্ভব বলে মনে করে.

চরমপন্থা বন্ধ করা যেতে পারে, যদি সমস্ত মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় সংস্থা একেবারেই তাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করে. তাতে খুবই নির্দিষ্ট করে বর্ণনা থাকা দরকার নীতিগত ও ধর্ম পালনের নির্দেশ. আর যারা রাশিয়াতে আসছে বিদেশ থেকে, তাদের জন্য প্রয়োজন এই জায়গায় থাকার বিষয়ে এক ধরনের মানিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা. এই কথাগুলিই আইনের সংশোধনে বলা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে কাজান শহরে রাশিয়ার ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর রাফিক মুখামেতশিন বলেছেন:

“এই মানিয়ে নেওয়া নিয়ে এখন রাশিয়াতে সবাই বলছে: পুতিনও এই সম্বন্ধে বলেছেন, মেদভেদেভও এই নিয়ে বলেছেন. মানিয়ে নেওয়া দরকার, যে বিদেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই লোকে শেষ করে আসুক না কেন. তারা রাশিয়ার বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথম থেকে তৈরী থাকে না, রাশিয়ার ধর্ম কথার অর্থ জানে না. মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনের অর্থ এই নয় যে, তারা – নীতিগত ভাবে বিরোধী পক্ষ. এখানে ব্যাপার অন্য: তারা রাশিয়ার ধর্ম মতের বিশেষত্ব সম্পূর্ণ ভাবে বুঝতে বাধ্য, রাশিয়ার মুসলমান সমাজের বিশেষত্বও বুঝতে বাধ্য. এটা যে কোন ছাত্রেরই একেবারে বোঝা দরকার – যারা বিদেশের কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেষ করতে চলেছে”.

পরিস্থিতি সকলের কাছ থেকেই দায়িত্ব জ্ঞানের দাবী করে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার মোল্লা সভার সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন বলেছেন:

“আমরা সকলের জন্য খোলা ভাবেই আহ্বান করেছি, যাতে বলেছে যে, আমরা এই সময়ে সমস্ত তাতারস্থানের লোকদের সঙ্গেই রয়েছি. আমরা সর্বশক্তিমান আল্লার কাছে দোয়া করছি নেতৃত্বকে অন্তর্দৃষ্টি দেওয়ার জন্য. আর অবশ্যই, মুসলমান সমাজের সংগঠনের নেতৃত্বকেও তা দিতে দোয়া করছি. আজ প্রয়োজন হয়েছে খুবই সিরিয়াস ও শিক্ষিত সব পেশাদার লোক জনের, যদি তাদের ধর্মের ক্ষেত্রে কাজ করতে হয়, তাদের উচিত্ মনস্তত্ত্ব, দর্শন, সমাজ জীবন এই সবই জানা দরকার”.

আইন সংশোধনের ফলে ধর্মীয় সংস্থা গুলির পক্ষে সম্ভব হবে বিদেশী মাদ্রাসা থেকে পাশ করে আসা লোকদের পরীক্ষা করার, তাদের ধর্ম প্রচারের কাজ করতে দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করার ধর্ম প্রচারের কাজের জন্য. তাছাড়া, তাতারস্থানের যে কোন ধর্মীয় সংগঠনের স্রষ্টা এরপর থেকে হতে পারবেন শুধুই রুশ নাগরিক.