রাশিয়ার সিরিয়া নিয়ে অবস্থান জয় লাভের মতো হতে নাও পারে, কিন্তু তা বিবেক উপযুক্ত. আর তাই – এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সঠিক. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন বিশ্বের আরব বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এক অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাশিয়ার অ্যাকাডেমিশিয়ান ইভগেনি প্রিমাকোভ.

ইভগেনি প্রিমাকোভ বিভিন্ন বছরে রাশিয়ার সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন, তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান. এই বিষয়ে তিনি নিজেই সাক্ষাত্কারের সময়ে মনে করেছেন, বিশেষ করে উল্লেখ করে যে, যদি তিনি আজ এই পদে থাকতেন, তবে সিরিয়া নিয়ে রাশিয়ার নীতিকেই সমর্থন করতেন. তাঁর কাছে খুবই ভাল লেগেছে যে, মস্কো এই সঙ্কট থেকে নিজেদের লাভ যে কোন উপায়েই করার কোনও চেষ্টাকে প্রধান করে দেখছে না. কিন্তু রাশিয়ার জন্য রয়েছে এক বিবেক সম্মত পথ. তার মূলে- বহু লক্ষ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা, এক গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল এলাকায় ভবিষ্যতেও ভারসাম্য রাখার জন্য প্রচেষ্টা. আর এটা এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সম্ভাব্য পথ.

ইভগেনি প্রিমাকোভের কথা অনুযায়ী ফল কি হবে তা জানা নেই. কেউই জানে না, রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হবে কি না ন্যায় বিচার আদায়ের. তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন দুটি বাস্তব বিষয়ে, যা এর পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে.

এর একটি – সিরিয়াতেই সম্পূর্ণ আকারের গৃহযুদ্ধ. প্রসঙ্গতঃ, তাতে অংশ নিচ্ছে বাইরের শক্তি, উল্লেখ করেছেন প্রিমাকোভ. সৌদি আরব ও কাতার অন্যান্য দেশ থেকে পাঠানো ভাড়াটে সৈন্যদের অর্থ সাহায্য করছে. তুরস্ক দিচ্ছে সক্রিয় সাহায্য. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা সিআইএ সংস্থাকে সরাসরি আদেশ দিয়েছেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সহায়তা করতে. আর এটা সার্বভৌম সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে খুবই নোংরা ভাবে হস্তক্ষেপ, ঘোষণা করেছেন ইভগেনি প্রিমাকোভ. এরই মধ্যে সিরিয়া কোন ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোন দেশকেই হুমকি দিচ্ছে না.

অন্য এক বাস্তব বিষয় হল – মস্কোর বেশ কিছু আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে. আরব রাষ্ট্রগুলির লীগের বেশী ভাগ দেশই সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করেছে. তারা চায় না এই বিরোধে বাশার আসাদের কোনও জয় হোক, তারা মনে করে যে, এর ফলে এক শিয়া মুসলিম ধর্মাবলম্বী দের রাষ্ট্রের বেল্ট তৈরী হতে পারে – ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও লেবানন. যদি সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ আসাদকে ফেলে দিতে পারে, তবে দামাস্কাসে চেষ্টা হবে সম্পূর্ণ সুন্নী প্রশাসন তৈরী করার. আর এর ফলে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সকলের বিরুদ্ধেই বাস্তু থেকে উচ্ছেদ শুরু হবে, যারা বিরোধী পক্ষের ধর্ম মত মানতে চাইবে না.

এই বিষয়ে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের আন্তর্সভ্যতা সহযোগিতা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভেনিয়ামিন পাপোভ বলেছেন:

“সিরিয়ার অন্তত অর্ধেকের মতো জন সাধারন সরকারকে সমর্থন করে. প্রায় এক তৃতীয়াংশ - এরা নানা রকমের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়. আলাভিত – প্রায় ১২ শতাংশ, বিভিন্ন মতের খ্রীষ্টান – প্রায় ১২ শতাংশ ও আরও ৩০ শতাংশ লোক যাঁরা ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন করেন – তাঁরা দেশের অন্য নানা স্তরের লোক”.

তাই খুব একটা কষ্ট হয় না বুঝতে যে, সিরিয়াতে কি ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে, যদি জঙ্গীরা বর্তমানের ধর্ম নিরপেক্ষ প্রজা তান্ত্রিক সরকারকে ফেলে দিতে পারে. আর সমস্ত ধরনের কথা বার্তা যে, পশ্চিম সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করে, চাইছে সিরিয়াতে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা আনতে, তা একেবারেই ধোপে টেকে না, এই রকমই বিশ্বাস করেন ইভগেনি প্রিমাকোভ.