সিরিয়া আরও বেশী করে বিদেশী ভাড়াটে সৈন্যদের জন্য কাজের জায়গা হয়ে উঠছে. সিরিয়ার সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে যে, দেশের সরকারি ফৌজ আলেপ্পো শহরে একদল তুরস্ক ও সৌদি আরব থেকে আসা অফিসারকে ধরেছে. সিরিয়ার এই অর্থনৈতিক রাজধানীতে স্বাধীন সিরিয়ার সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরকারি ফৌজ খুবই বড় রকমের সামরিক অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে. এর আগে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছিল যে, বিরোধী পক্ষের জঙ্গী যোদ্ধাদের সামরিক সহায়তা করার জন্য তুরস্কের দক্ষিণে এক গোপন ঘাঁটি আদানা (কাছের গ্রামের নাম) থেকে কাজ করা হচ্ছে. এই ঘাঁটি তৈরী করেছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার দেশ. তার কাছেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর ঘাঁটি ইনঝিরলিক.

আলেপ্পো শহরে বিদেশী ভাড়াটে সৈন্যদের ধরা পড়া নিয়ে, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিতালি নাউমকিন “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়ে বলেছেন:

“এই অপারেশনে তুরস্ক ও সৌদি আরবের অফিসারদের অংশ গ্রহণের বিষয়ে নতুন কিছু নেই. কারণ জানাই রয়েছে যে, তথাকথিত স্বাধীন সিরিয়ার বাহিনীর জন্য অস্ত্র সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও রসদের যোগান সবই করা হচ্ছে এক সারি আরব দেশের কাছ থেকে, তুরস্ক থেকেও. এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, এই নতুন যুদ্ধের পর্যায়ে এই ধরনের লোকরা সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে. হতে পারে, তারা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, হতে পারে যে, ভাড়াটে হিসাবে খাটছে. তাদের মধ্যে কেউ যে ধরা পড়েছে – এটা সব মিলিয়ে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন করছে না. এমনিতেই জানা রয়েছে যে, এক সারি দেশ সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের এক নাম উল্লেখ করতে না চাওয়া উত্স জানিয়েছে যে, বারাক ওবামা বোধহয় একটা নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে সিআইএ সংস্থাকে ও অন্যান্য মার্কিন দপ্তরকে অধিকার দেওয়া হয়েছে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জঙ্গীদের সহায়তা করার. একই সঙ্গে “ওয়াশিংটন পোস্ট” সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, আমেরিকার প্রভাব শালী রিপাব্লিকান দলের কিছু সেনেট সদস্য দাবী করেছেন মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে সরাসরি ভাবে সিরিয়াতে জঙ্গীদের সাহায্য করার জন্য. এই উদ্যোগের স্রষ্টারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ না করতে চাওয়ার ইচ্ছার ফলেই এই দেশে বিরোধ এতদিন ধরে চলছে. বারাক ওবামার পক্ষ থেকে এই আহ্বানের প্রতি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভিতালি নাউমকিন বলেছেন:

“আমেরিকার সেনেট সদস্যদের তরফ থেকে বারাক ওবামার কাছে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সরাসরি সাহায্য করার দাবীতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই. এক দল সংরক্ষণশীল দলের লোক, বিশেষ করে রিপাব্লিকান দলের থেকে, এই নিয়ে অনেক দিন ধরেই বলছে. অন্য ব্যাপার হল যে, এই ধরনের দাবী এই প্রথম এই রকমের খোলাখুলি ভাবে জানানো হল. আমার মনে হয় না যে, ওবামা এখন এটা করতে যাবেন. কারণ তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী নীতিতে তাও বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিকট প্রাচ্যে কোনও নতুন যুদ্ধ শুরু করবে না ও সরাসরি ভাবে ঘটনায় হস্তক্ষেপ করবে না. কিন্তু এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, কোন এক রকমের সরাসরি সহায়তা করার পদ্ধতি ঠিকই অনুসরণ করা হবে”.

কয়েকদিন আগে বিশ্বের টেলিভিশন চ্যানেল গুলি সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে সিরিয়া – তুরস্ক সীমান্তে একটি দখল করা সীমান্ত চৌকি দেখিয়েছে. ভিডিও দেখিয়েছে যে, সেখানে “আল- কায়দার” পতাকা নিয়ে জঙ্গীরাও রয়েছে. তারা গল্প করেছে যে, সিরিয়াতে সরকারি ফৌজের বিরুদ্ধে লড়ছে আলজিরিয়া, সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ থেকে তাদের একই রকমের মতাবলম্বী লোকরা. এই প্রসঙ্গে সৌদি আরবের সংবাদ পত্র “আল- শার্ক” জর্ডনের বিশেষ পরিষেবার উত্স উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, “আল- কায়দা” দলের সব মিলিয়ে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের হয়ে লড়াই করতে যাওয়া লোকের সংখ্যা ছয় হাজারের মতো. যদি এখন আমেরিকার লোকরা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সরাসরি সাহায্য করতে শুরু করে, তবে এটা বাস্তবে অর্থ হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও “আল– কায়দার” মধ্যে জোট আবার পুনর্স্থাপিত হবে, যা তিরিশ বছর আগে তৈরী করা হয়েছিল আফগানিস্তানে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য.