সোনিয়া ও রাজীব গান্ধীর ছোট মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী- ভদ্র ঠিক করেছেন যে, এবারে তিনি রায়- বেরেলি ভোট কেন্দ্রের রাজনৈতিক ব্যাপারে বেশী করে সক্রিয় অংশ নেবেন. এই কেন্দ্র থেকেই ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশের পার্লামেন্টে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের নেত্রী ও তার মা সোনিয়া গান্ধী প্রার্থী হয়ে থাকেন. আপাততঃ কংগ্রেসের সরকারি মুখপাত্ররা স্বীকার করছেন না যে, এই পদক্ষেপের অর্থ হল যে, প্রিয়াঙ্কা আগামী ভোটের সময়ে এই কেন্দ্র থেকে সোনিয়ার বদলে প্রার্থী হতে চলেছেন. কিন্তু ভারতের সংবাদ মাধ্যমে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক পরিবারের ছোট মেয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে জল ঘোলা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে.

দলের নেতৃস্থানীয় নেতাদের মতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সিদ্ধান্তে নতুন কিছু নেই. প্রিয়াঙ্কা সব সময়েই মা ও ভাইকে (রাহুল গান্ধী) তাদের নির্বাচনী কেন্দ্রে সহায়তা করেছে, - ঘোষণা করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের মুখপাত্র রাশিদ আলভি. অংশতঃ এটা সত্যি. কিন্তু এখনও প্রিয়াঙ্কা যোগ দিতেন শুধু নির্বাচনের সময়েই রাজনৈতিক কারবারে. এখন কথা হচ্ছে যে, সে এবার থেকে নিয়মিত (কম করে হলেও প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে) সেখানের বাসিন্দাদের ও রায়- বেরেলি জায়গার দলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করবে ও তাদের মতামত শুনে কেন্দ্রে চেষ্টা করবে সমস্যার সমাধান করার.

এখানে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে, যা উল্লেখ করা দরকার, এই কথা রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বিশেষ করে লক্ষ্য করে বলেছেন:

“প্রথমতঃ, ভারতীয় রাজনীতির ঐতিহ্য অনুযায়ী খুবই নিয়মিত ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা (এখানে গান্ধী পরিবারের লোকরা সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো উদাহরণ) দেশের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা বেছে নিয়ে থাকেন পার্লামেন্টে প্রার্থী হওয়ার জন্য. এখানে লক্ষ্য স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়: কেন্দ্রীয় সরকারে এত প্রভাবশালী প্রতিনিধি থাকার জন্য এই অঞ্চলের লোকরা খুবই বড় ভিত্তি নিয়ে আশা করে থাকেন যে, তাদের স্থানীয় সমস্যার সুরাহা হবে.

দ্বিতীয় বিষয়টি যুক্ত গত বসন্ত কালের দেশে হওয়া নানা আঞ্চলিক নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে (প্রসঙ্গতঃ উত্তর প্রদেশ রাজ্য থেকেই ঐতিহ্য মেনে গান্ধী পরিবারের লোকরা পার্লামেন্ট পদের জন্য লড়াই করে থাকেন), বিগত সময়ে অভ্যাস হয়ে যাওয়া প্রার্থীদের প্রতি জনগনের বিশ্বাস লক্ষ্যণীয় ভাবেই কমে গিয়েছে. এমনকি নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে রাহুল গান্ধীর তরফ থেকে সক্রিয় অংশ গ্রহণ স্বত্ত্বেও, রাজ্যের বিধান সভায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভোটে জয়ীর সংখ্যা কমে গিয়েছে আর তা হয়েছে এমনকি রায়- বেরেলি ও আমেথি কেন্দ্র থেকেও, যা ঐতিহ্য মেনেই রাহুল গান্ধীর ডেরা বলে মনে করা হয়ে থাকে. এর অর্থ হল যে, দলের প্রয়োজন এখনই নতুন মুখের খোঁজ করা: আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মুখ এই ক্ষেত্রে খুবই ভাল করে কাজে লাগতে পারে”.

আগামী লোকসভা নির্বাচনের দেড় বছর বাকী থাকতে ( যদি তা সময় মতো হয়, তাহলে ২০১৪ সালের শুরুতেই হবে) সারা দেশ জুড়েই নির্বাচনের হাওয়া চালু হয়ে গিয়েছে. আর এখানে ব্যাপারটা মোটেও এই রকমের নয় যে, এই প্রচারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও নেমে পড়েছেন, এমনকি কয়েক দিন আগের মন্ত্রীসভায় রদবদল করাও নয়. নিজেদের দলের মধ্যেও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিরোধী দল গুলি পরিবর্তন আনছে. অংশতঃ, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের নেতা অণ্ণা হাজারে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, সামাজিক আন্দোলন থেকে (ভুখা হরতাল, জন সমাবেশ ইত্যাদি) এবারে সময় হয়েছে দল তৈরী করে দেশের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার.

এর অর্থ কি দেশের রাজনৈতিক দল গুলি সক্রিয় হয়ে পড়েছে এই কারণে যে, নির্বাচন সময়ের আগেই হয়ে যেতে পারে বলে? সেই বসন্ত কালেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্য আঞ্চলিক ভাবে রাজ্যের নির্বাচন গুলিতে বাজে ফলাফলের পরে এই প্রশ্নের সম্বন্ধে ইতিবাচক উত্তর মনে হয়েছিল যে, আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকা. কিন্তু এখন অনেক সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে. দেখা গিয়েছে যে, সময়ের আগেই ভোট হলে, তা কারও জন্যই ভাল হবে না. ক্ষমতাসীন দলকে সময় মতো নির্বাচন হলে, তা ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়ে আরও কয়েক মাস বেশী সময় দেবে. দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি ভারতীয় জনতা পার্টি - প্রথমতঃ, আপাততঃ, ঠিক করে উঠতে পারে নি যে তাদের পক্ষ থেকে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, আর দ্বিতীয়তঃ, - পরিস্কার আশা করেছে যে, (তার কোন ভিত্তি থাকুক, বা নাই থাকুক – সেটা অন্য প্রশ্ন), যে বর্তমানের সরকার যত বেশী দিন ক্ষমতায় থাকবে, ততই বেশী করে হবে তাদের দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে. আর তৃতীয় শক্তি – যা অণ্ণা হাজারের দল বলে সম্ভাব্য গঠিত হতে পারে, তা অন্তর্বর্তী কালীণ নির্বাচন হলে একেবারেই সময় পাবে না নিজেদের দল গঠন করার.

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, এই নির্বাচনের প্রচারের কাজ এর মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই, কিন্তু নির্বাচন, খুব সম্ভবতঃ ২০১৪ সালের শুরুতেই হবে. ভারত এক সিরিয়াস অর্থনৈতিক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে, আর রাজনৈতিক ভাবে ভারসাম্য না থাকা সরকারকে ও বিরোধী পক্ষকে একই সাথে মনোযোগ দিতে অসুবিধা সৃষ্টি করবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধানকে প্রলম্বিত করবে, আর একই সঙ্গে পরিস্থিতি তৈরী করবে নানা রকমের জনপ্রিয়তা লাভের জন্য কাজকর্ম করার.