দক্ষিণ চিন সমুদ্রের বিতর্কিত দ্বীপ সমূহে নতুন প্রশাসনিক একক ও চিনের সামরিক ঘাঁটি রাখার জন্য ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে খুবই তীক্ষ্ণ বাদানুবাদের কারণ হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চিনকে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য দোষী করেছে. তারা বিনিময়ে দাবী করেছে সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত প্রশ্নে অখণ্ডতা রক্ষার.

চিন এই এলাকার সমুদ্রে তিনটি দ্বীপ ও সন্নিবিষ্ট অঞ্চল নিয়ে প্রশাসনিক একক তৈরী করেছে. এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবে অথবা আংশিক ভাবে দাবী করেছে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনস, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই. চিন এই দ্বীপ গুলির উপরে নিজেদের অধিকার নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ রাখে নি ও তাই নিজেদের অধিকার শক্ত করার জন্যই এখানে প্রশাসনিক একক খুলেছে. সেখানে স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র খোলা হয়েছে, তারই সঙ্গে উদ্ভব হয়েছে সামরিক ঘাঁটির, যাদের কাজের মধ্যে পড়েছে পাহারা দেওয়া কাজ ও সামরিক অপারেশন করা.

ফিলিপাইনস ও ভিয়েতনাম এই সম্বন্ধে চিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে. ওয়াশিংটনও খুব একটা বেশী সময় প্রতিক্রিয়া দেখাতে নেয় নি. তারা চিনকে দোষ দিয়েছে উত্তেজনা বৃদ্ধির ও বাস্তবে এই দেশ গুলির দ্বীপ সমূহের উপরে অধিকারকে সমর্থন করেছে. দুই বছর আগেই চিন ওয়াশিংটনকে সাবধান করে দিয়েছিল – অংশতঃ হিলারি ক্লিন্টনকে বলে দিয়েছিল যে, তারা দক্ষিণ চি সমুদ্রের দ্বীপ নিয়ে কোন বিতর্কে তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না. এটা একেবারেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় বলে সব সময়েই চিনে জোর দেওয়া হয়েছে. বেজিং সিরিয়াস ভাবেই ভয় পাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হবে চিন বিরোধী জোট তৈরী করার – অংশতঃ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির উপরেই নির্ভর করে. তারই মধ্যে আসিয়ান আপাততঃ ভাগ হয়ে রয়েছে দক্ষিণ চিন সাগরের দ্বীপ পূঞ্জের অধিকারের প্রশ্নে আর তা চিন খুবই সাফল্যের সঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদুর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইয়াকভ বেরগের বলেছেন:

“যদি কয়েকদিন আগে হওয়া কম্বোডিয়া দেশে আসিয়ান দেশ গুলির পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক দেখে বিচার করতে হয়, তবে আপাততঃ চিন বিরোধী জোট হওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. এক সারি দেশ বেজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আগ্রহী. আসিয়ান সংস্থার ১০টি দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশের – চিনের সঙ্গে সামন্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে. তাই কম্বোডিয়া দেশে যা ঘটেছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, আসিয়ান সংস্থা চিনের এই সমস্যা সমাধানের পদ্ধতির বিরুদ্ধে মোটেও একমত হয় নি. কম্বোডিয়া, এই সংস্থার বর্তমান সভাপতিত্বে রয়েছে, তারা একেবারেই চিনের পক্ষ নিয়ে অবস্থান নিয়েছে, আর এখন চিন তাদের নিজেদের সবচেয়ে ভাল বন্ধু বলে আখ্যা দিয়েছে”.

তারই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে চিনের উপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্যে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, শুধু বাড়তেই থাকবে. চিনের পক্ষ থেকে দ্বীপ সমূহে সামরিক ঘাঁটি রাখা নিয়ে মার্কিন তরফে চিত্কার তোলা – এটা শুধু স্নায়ু যুদ্ধের একটা অংশ মাত্র. আমেরিকার লোকরা তাদের জোর বাড়াচ্ছে ম্যানিলাতে, সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ করে, তাদের রাডার দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে, পাহারা দেওয়ার জাহাজ ও গুপ্তচর বিমান দেবার কথাও বলেছে, যা দিয়ে অধিকৃত দ্বীপ গুলিতে চিনের বাহিনীর উপরে নজর রাখা সম্ভব হয়. আর তাও এই সমস্যার সশস্ত্র সমাধানের পথে মনে তো হয় না যে, মার্কিনরা যাবে, এই রকম মনে করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর সের্গেই লুনেভ বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, এটা কোন রকমের সিরিয়াস সঙ্কট হবে না ও সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে. অর্থাত্, প্রাথমিক ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হবে. এই সমস্যার কোনও তীক্ষ্ণ পর্যায় এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে এত বেশী দাম দেয় যে, দক্ষিণ চিন সমুদ্রের দ্বীপ নিয়ে বিতর্কের ঘেরাটোপে তা বন্দী করে রাখবে না. এমনকি যদি এই জলাধার খনিজ তেল ও গ্যাসে সমৃদ্ধ হয়, তাহলেও. যদি চিনের কোন প্রতিবেশী দেশ নিজেদের সার্বভৌমত্বের পরিচয় দিতে সামরিক সংঘর্ষের পথে যায়ও তাহলে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই এক ঈর্ষার অযোগ্য অবস্থায় ফেলবে. স্থানীয় সশস্ত্র সংঘর্ষ, যেখানে আমেরিকা ও চিনের সেনা বাহিনী অংশ নিচ্ছে, তা বিশ্বের বাজারের উপরেই এক প্রবল আঘাত হানতে পারে.