আপনারা মস্কো থেকে “রেডিও রাশিয়ার” অনুষ্ঠান শুনছেন. সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে কোফি আন্নানের রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি পদ থেকে পদত্যাগ করা গুণগত ভাবে সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে ও সমস্ত এলাকা জুড়েই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে দিচ্ছে. মনে করিয়ে দেই যে, আন্নান ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ থেকেই সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি ছিলেন, এই প্রসঙ্গে বহু দেশের পক্ষ থেকেই, যারা কোন না কোন ভাবে সিরিয়ার বিরোধের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে, তারা খুব একটা কম মন্তব্য বা ঘোষণা করে নি. হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি ঘোষণা করেছেন যে, কোফি আন্নানের পদত্যাগ রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে অবস্থানের জন্যেই নাকি হয়েছে. কিন্তু মস্কো ও বেজিং থেকেই কোফি আন্নানের মিশনকে সবচেয়ে বেশী করে সমর্থন করা হয়েছিল, বিশেষ করে বিরোধের দুই পক্ষকেই আহ্বান করা ও হিংসার নিবৃত্তি করা নিয়ে.

এই প্রসঙ্গে স্তানিস্লাভ তারাসভ মন্তব্য করে বলেছেন:

এটা – সাধারন জ্ঞানের রাজনীতি: যদি মারামারির সময়ে আপনি এক পক্ষকে বেঁধে রাখেন, তবে সেই পক্ষ মার খায়. একই সময়ে পশ্চিম, তুরস্ককে জুটিয়ে এনে কথায় কোফি আন্নানের মিশনকে সমর্থন করলেও, একেবারে শুরু থেকেই তার সম্বন্ধে নাম দিয়েছিল “মৃত জাতক” বলেই. “সিরিয়ার ক্ষমতাসীন প্রশাসন কখনোই সঙ্কট নিবারণে এই পরিকল্পনাকে কার্যকরী করতে চায় নি”, এই কথা নিজের টুইটারের মাইক্রো ব্লগে লিখেছেন পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ইব্রাহিম কালীন. কিন্তু সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের শক্তি একটিও পদক্ষেপ নেয় নি দামাস্কাসের সঙ্গে শান্তি প্রিয় কোন আলোচনা করার. এখন, রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ মনে করেছেন যে, “সিরিয়াতে যারা শক্তি প্রয়োগ করতে চায় তাদের হাত খুলে দেবে কোফি আন্নানের পদত্যাগ”.

এখন দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে যে, দামাস্কাস বেঁচে থাকা ও বিরোধের শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করছে. কিন্তু সিরিয়াতে পরিস্থিতি ভারসাম্য হীন করে দেওয়ার প্রক্রিয়া, যা দাভুতোগলু নাম দিয়েছেন সম্ভাব্য লেবানন করে দেওয়া বলে, - অর্থাত্ “প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে” লড়াই করছে এই রকমের করে দেওয়াটা সিরিয়াতে চলে আসতে পারে প্রতিবেশী দেশ গুলির এলাকা থেকেই. এই প্রসঙ্গে আঙ্কারা ঘোষণা করেছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতি হতে দেবে না, কিন্তু তা কি করে করবে?

তুরস্ক ঘোষণা করেছে যে, তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে কোনও সশস্ত্র আক্রমণ তৈরী করছে না. বহু তুরস্কের বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, আঙ্কারা মনে তো হয় না যে, এই ধরনের ঝুঁকি নিতে যাবে, কারণ এটা তাদের এক বিশাল আঞ্চলিক যুদ্ধে অবতীর্ণ করবে. প্রসঙ্গতঃ, সিরিয়ার সংবাদপত্র “আল- ওয়তন” জানিয়েছে যে, ইরান তুরস্ককে সাবধান করে দিয়েছে যে, যদি এই ধরনের কাজ করা হয়, তবে ইরান ও সিরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার চুক্তির বয়ান কাজ করতে শুরু করবে.

এক কথায়, সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে খুবই বিপজ্জনক সামরিক পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে, যার পরিবর্তন শুধু নিকট প্রাচ্য জুড়েই পরিস্থিতির পরিবর্তন করবে না – বরং তা এই এলাকা পার হয়েও হতে পারে. তাই কূটনীতিবিদদের প্রাথমিক ভাবে সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ গুলিতেই – এখনও যখন সময় রয়েছে, তখন উচিত্ হবে সিরিয়ার বিরোধের শান্তিপূর্ণ ভাবে মীমাংসার জন্য সবচেয়ে বেশী করে শক্তি এক করার. অন্তত ইউরোপীয় সঙ্ঘ থেকে যা ঘোষণা করা হয়েছে যে, সিরিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্নানের জায়গায় নতুন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থ স্থির করা হয়েছে, সেই বিষয়কেই ব্যবহার করা. এটা অন্তত কিছুটা হলেও এই খুবই কঠিন পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে বের হওয়ার পথ.