দুই বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও বহু বারের বিশ্ব রেকর্ড করা পোল ভল্টের সম্রাজ্ঞী এলেনা ইসিনবায়েভা সোমবার তাঁর খেতাব বজায় রাখার জন্য লড়াই করবেন. লন্ডনের ৮০ হাজার লোক ধরে এমন ষ্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা (মস্কো সময় রাত দশটায়)শুরু হবে পোল ভল্টের জায়গায় প্রতিযোগিতা. ফ্যানরা এই সম্রাজ্ঞীর কাছ থেকে শুধু বিজয় আশা করছেন না, অপেক্ষায় আছেন নতুন বিশ্ব রেকর্ডের.

এলেনা ইসিনবায়েভা ২৮টি বিশ্ব রেকর্ডের স্রষ্টা. কিন্তু অ্যাথলেটিকসের ফ্যানরা তাঁর কাছ থেকে সব সময়েই আরও বেশী কিছু আশা করেন. এই মহিলা খেলোয়াড় তাই সব সময়ে চেষ্টা করেন, তাদের হতাশ না করতে – নিজের প্রতিটি অংশগ্রহণকে তিনি এক সত্যিকারের নাটকীয় মুহূর্তে পরিণত করেন. কখনও তিনি নিজেকে বিড়বিড় করে কিছু বলতে থাকেন রেকর্ড করার মতো লাফ দেওয়ার জন্য তৈরী করতে গিয়ে, কখনও আবার চার বছর আগে বেজিং অলিম্পিকের ষ্টেডিয়ামে যেমন করেছিলেন, তার মতো মাথায় কম্বল চাপা দিয়ে ঢেকে রাখেন. পরে চ্যাম্পিয়ন বলেছিলেন যে, এই ভাবে তিনি নিজেকে টেলিভিশনের ক্যামেরার থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, যেগুলো লেন্স দিয়ে একেবারে তাঁর চোখের গভীরে দেখার চেষ্টা করছিল. এতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল মনোযোগ বজায় রাখতে. আমরা সকলেই সেবারের ফলাফল মনে করতে পারি – অলিম্পিকের সোনা ও আরও একটি বিশ্ব রেকর্ড পাঁচ মিটার পাঁচ সেন্টিমিটার উচ্চতার.

বেজিং অলিম্পিকের পরের চার বছরে অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে: উপরে ওঠার সময়, সারা বিশ্বের স্বীকৃতী, বহু খেলাধূলা ও তার কাছাকাছি ব্যাপারে পদক প্রাপ্তি বদলে গিয়েছিল হঠাত্ করেই পতন হওয়াতে. ইসিনবায়েভা বেশ কয়েকটি বড় প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়েছিলেন আর, নিজেই যেমন স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে, কিছু করার ইচ্ছাটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে. তিনি প্রায় এক বছরের জন্য বড় ধরনের খেলাধূলা থেকে সরে গিয়েছিলেন. কিন্তু নিজের মধ্য শক্তি খুঁজে পেয়েছিলেন আবার করে ট্রেনিং শুরু করার. ২০১১ সালের মার্চ মাসে এলেনা ইসিনবায়েভা মনাকো থেকে, যেখানে গত ছয় বছর ধরে ট্রেনিং করছিলেন ও থাকছিলেন, তা ছেড়ে চলে আসেন নিজের শহর ভলগোগ্রাদে, নিজের প্রথম ট্রেনার ইভগেনি ত্রফিমভ – যাঁর সঙ্গে বেজিং অলিম্পিকের সোনা জিতেছিলেন ২০০৪ সালে এথেন্স শহরে নিজের প্রথম অলিম্পিক গেমসে প্রথমবার পাঁচ মিটার উঁচু লাফ দিয়ে, তাঁরই কাছে.

অলিম্পিকের আগের সারা সময় ধরে ইসিনবায়েভাকে প্রমাণ করতে হয়েছে আবার করেই যে, তিনিই সেরা, সকলের বিশ্বাস অর্জন করতে হয়েছে. আর সবই আবার করে হয়েছে. ফেব্রুয়ারী মাসে স্টকহোম শহরে এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তিনি ইনডোর ষ্টেডিয়ামে তিনি নিজের বিশ্ব রেকর্ড নিজেই ভেঙে করেন পাঁচ মিটার এক সেন্টিমিটার, আর ইস্তাম্বুলে ইনডোর ষ্টেডিয়ামে জিতে আসেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ. নিজের দেওয়া সাক্ষাত্কারে ইসিনবায়েভা উল্লেখ করেছেন যে, আবার চূড়ায় ফিরতে পেরে তিনি খুশী.

লন্ডনের অলিম্পিক গেমসের জন্য ইসিনবায়েভা তৈরী হয়েছিলেন বিশেষ এক রকম ভাবে. রাশিয়ার অ্যাথলেটিকসের সারা রাশিয়া জোড়া ফেডারেশন তাঁকে বাছাই পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে রেহাই দিয়েছে, জাতীয় দলে জায়গা বজায় রেখেই. এটা খেলোয়াড় ও তাঁর কোটের প্রতি সবচেয়ে বড় রকমের বিশ্বাসের প্রমাণ, যাঁরা একসাথে ফ্যানদের হর্ষ বর্ধন করতে পারেন.

এখন সেই প্রশ্ন যে, আমরা লন্ডনে নতুন বিশ্ব রেকর্ড দেখতে পাবো কি না – সেই সম্বন্ধে এলেনা ইসিনবায়েভা হাস্য মুখে উত্তর দিয়েছেন: “আমি কি “হ্যাঁ” ছাড়া অন্য কোনও উত্তর দিতে পারি”? আর খুবই সিরিয়াস হয়ে যোগ করেছেন: “বোঝাই যাচ্ছে যে, আমি লন্ডনে যত বেশী ভাল সম্ভব ততটাই করার চেষ্টা করব”. কারণ এই অলিম্পিক তিরিশ বছরের খেলোয়াড়ের জন্য শেষ বারের মতো হতে চলেছে. এলেনা ইসিনবায়েভা নিজের জন্য ঠিক করেছেন: ২০১৩ সালে মস্কো শহরে হতে যাওয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের পরে তিনি পোল ভল্ট করা ছেড়ে দেবেন.