চলতি সপ্তাহে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন সেনাবাহিনীর নানা সমস্যার সমাধানের ওপর নজর দিয়েছেন. পুতিন সেভেরাদভিনস্ক শহর সফর করেন এবং সেখানে এক বৈঠকে সেনাবাহিনীর জন্য রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন শীর্ষক বৈঠকে অংশ নেন. এদিকে বিমান বাহিনীর কর্মীদের পেশাগত উত্সব উপলক্ষ্যে উলায়ানোবস্কীতে পুতিন সেনাবাহিনীর ৩১ পদাতিক ব্যাটেলিয়ানের সেনাদের সাথে সাক্ষাত করেন. উলায়ানোবস্কে ও সেভেরাদভিনস্কে পুতিন আস্থার সাথে বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি.

বিগত সময়ে সমাজ অনুধাবন করতে পেরেছে যে, সেনাবাহিনী হল রাষ্ট্রত্ব বজায় রাখার জন্য এক অর্থে স্বর্ণের মত. ৩১ পদাতিক ব্যাটেলিয়ানের সেনাদের সাথে সাক্ষাতে পুতিন উল্লেখ করেন, এই সেনারা রাশিয়ার গর্ব. যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাঁরা তৈরী আছে. পুতিন বলেছেন, “৩১ পদাতিক ব্যাটেলিয়ান যা আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সেনাদের দল. শত্রুদের দ্রুত জবাব দেওয়ার জন্য এটি রাশিয়ার বিশেষ সেনাবাহিনীর ইউনিট. রাষ্ট্র বিমানবাহিনীর উন্নয়নে আরও কাজ করবে এবং তাদেরকে সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে. জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার প্রয়োজন শক্তিশালী সেনাবাহিনী”.

উলিয়ানোভস্ক বিমানবন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তানের ন্যাটোর রসদ পরিবহন বিষয়ে রাশিয়ার নেতা খোলামেলাই মন্তব্য করেছেন. পুতিন বলেন, আফগানিস্তানে সুষ্ঠ পরিবিশ ফিরিয়ে আনার জন্যই রাশিয়া এক্ষেত্রে ন্যাটোকে এ সহায়তা দিচ্ছে. পুতিন একই সাথে আরও বলেন, আমাদের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে. রাশিয়া ন্যাটোর সাথে অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্পর্ক বজায় রাখবে বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন. এক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করা হবে.

এদিকে এর আগে পুতিন সাবমেরিন জাহাজ “বরেই” পরিদর্শন করেন. এ সময় তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সাল নাগাদ রাশিয়ার নৌবাহিনীর জন্য ৫১টি যুদ্ধ জাহাজ, ১৬টি সাবমেরিন ও ৮টি কৌশলগত ডুবো রকেট সরবরাহ করা হবে. পুতিন বলেছেন, “আমরা চাচ্ছি যে, রাশিয়া বিশ্বে অন্যতম একটি নৌ-পরাশক্তির দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে. আর এ জন্যই আমাদের নৌ ঘাঁটিগুলোকে যে কোন প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলার জন্য সব ধরণের উপকরণ থাকতে হবে. এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্র পথে নিজেদের কৌশলগত শক্তি বজায় ও গ্লোবাল জলদস্যুদের মোকাবেলা করা. অবশ্যই, সামরিক নৌবন্দর হল দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে নিরাপত্তা দেওয়ার একটি অবকাঠামো”.

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিনের মতে, রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন তা শুধুমাত্র সামরিক নৌবন্দরের আধুনিকায়নের ওপরই নির্ভর করছে না বরং তা অর্থনীতির সাথেও সম্পৃক্ত. আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে রাশিয়া ৭০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করবে. বিগত এক দশকের মধ্যে সামরিক খাতে এটিই হবে সবচেয়ে বড় অংকের বিনিয়োগ.