রাশিয়া সিরিয়া সংক্রান্ত আরব দেশগুলোর প্রস্তাবকে সমর্থন জানায় নি. শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এ প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়.

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালী চুরকিন গতকাল এক বিবৃতিতে গৃহীত ওই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে কফি আনানের শান্তি প্রস্তাবের সঙ্গে বৈপরিত্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন. এদিকে সিরিয়ার সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ দূতের পদ থেকে সড়ে দাঁড়ানোর জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কফি আনান. তাঁর মতে, সংঘাতে অংশ নেওয়া কোন পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় না. বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুরো আগস্ট মাস জুড়ে সিরিয়ায় সহিংসতা চলবে অর্থাত সিরিয়ায় গরম পরিবেশই থাকবে. আসাদ বিরোধী জোট সিরিয়া সংকট সমাধানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে উপেক্ষা করেই তা করার চেষ্টা করবে.

সিরিয়াকে ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করার জন্য রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমীর পুতিন ও বারাক ওবামাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে. এমনটি লিখেছেন কফি আনান ‘আমার সর্বশেষ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে. তিনি বিশ্বাস করেন যে, সামরিক উপায় এ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ নয়. ওই প্রবন্ধে কফি আনান লিখেছেন, “সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী দলকে যারাই প্রভাবিত করছে তাদের উচিত হবে উভয় পক্ষকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই দেশের সংকট সমাধান করতে হবে”.

মস্কো বিশ্বাস করে যে, আনান পদত্যাগ করলেও সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপস্থিতি বজায় রাখা জরুরি. রাশিয়া একই সাথে সিরিয়ায় সংঘাত বন্ধ করতে সহযোগী দেশগুলোকে এগিয়ে এসে রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় আলোচনা আয়োজনের আহবান জানিয়েছে.

আপাতত সিরিয়ায় প্রতিদিনই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে. চলতি সপ্তাহে বিরোধী দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আলেপ্পো শহর যেখানে বর্তমানে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে. পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, যদি বিরোধী দল আলোপ্পোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পাতে তাহলে সিরিয়ায় একটি পৃথক এলাকা তৈরী হবে যেখানে সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনীর কোন কর্তৃত্ব থাকবে না. উল্লেখ্য, এই এলাকাটি তুরস্কের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত. এটি অবশ্যই বিপদজনক ঘটনা হবে এবং তা লিবিয়ার চিত্রপটেরই পুনরাবৃত্তি ঘটনাতে পারে, আর তা হলে আলোপ্পো হবে নতুন একটি বেনগাজী.

বিরোধী দলের সক্রিয় আন্দোলন যা থেকে নিশ্চিত জানা যাচ্ছে যে, বাশার আসাদের বিরোধীরা বিদেশী রাষ্ট্রসমূহ থেকে অনেক সাহায্য পাচ্ছে. যদিও পশ্চিমা জোট ও তাদের সহযোগী আরব দেশসমূহ পূর্বে এ বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও এখন তাদের সমর্থনের কথা গোপন রাখছে না. এই তো সম্প্রতি জানা যায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সিরিয়ার বিরোধী দলকে সাহায্যের জন্য ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি তহবিল বরাদ্ধ করেছে. বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অনেক মাস আগেই বারক ওবামা সিরিয়ার বিরোধী দলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন. তুরস্কের গোপন ঘাঁটিতে মার্কিন গোয়েন্দা দলের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়. মূলত ওই এলাকার আলোপ্পো শহরে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা অবস্থান করছে. তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ সব তথ্য যাচাই করা অবশ্য সময়ের প্রয়োজন. এমনটি বলছেন প্রাচ্যতত্ব বিশারদ বরিস দালহোভ. তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ তুর্কি গোয়েন্দাদের সহযোগীতা নিয়ে সিরিয়ান ফ্রিডম আর্মি ও অন্যান্য উগ্রবাদী দলকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করছে. অনেক আগে থেকেই এ কথা সবাই জানে. তুরস্কে ইনজিরলিক নামের একটি ঘাঁটি আছে. ওই ঘাঁটি এলাকায় সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একটি আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছে. তাছাড়া ওই ঘাঁটিতে সিআইএ’র প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন যারা নিয়মিত তুর্কি প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন. অস্ত্র সরবরাহ অনেক দিন আগে থেকেই চলছে”.

ওয়াশিংটন ও আংকারা সিরিয়াকে নিয়ে সবচেয়ে বেগতিক কার্যক্রম শুরু করেছে.

পশ্চিমা গনমাধ্যমের সংবাদে জানা যায়, বিগত কয়েক মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের জন্য শুধুমাত্র বন্ধুক ও গোলাবারুদ পাঠানো হয় নি বরং রকেট ও গ্রেনেড কমপ্লেক্স পাঠানো হয়েছে.

আপাতত সংঘাতে জড়ানো কেন পক্ষের মধ্যেই আলোচনায় বসার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না. উপরন্তু, পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্র আরব দেশসমূহ জাতিসংঘ নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করেই সিরিয়া সংকট সমাধান করতে চাইবে. এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে. ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যখন কথা বলা হয় তখন বুদ্ধিমত্তার বিলুপ্তি ঘটে. তাছাড়া যখন ভূ-রাজনৈতিকতার প্রসঙ্গ আসে তখন তেল সমৃদ্ধ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছাকে ডেকে দেওয়া হয়.