“বড় আফসোস হচ্ছে. জাতিসংঘ ও আরব রাষ্ট্রলীগের দূত কোফি আন্নন তার দৌত্য ছেড়ে দেওয়ায়” রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল লন্ডনে রুশী-বৃটিশ আলাপ-আলোচনার পরে এই উক্তি করেছেন.

“কোফি আন্নন অত্যন্ত যোগ্য লোক, অসাধারন কূটনীতিজ্ঞ ও খুব ভালো মানুষ. তবে আমি আশা করি, যে বিশ্ব জনসমাজ সিরিয়ায় হিংসাত্মক কার্যকলাপ থামানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে” – বলেছেন পুতিন.

আন্নন স্বয়ং তার কাজ ছেড়ে দেওয়ার এই যুক্তি দিয়েছেন, যে তিনি সিরিয়ায় মিশন সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য পাননি. কোফি আন্ননের দৌত্যের মেয়াদ ৩১শে আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল. তার দৌত্যের উপরই রাশিয়া সিরিয়ায় সংঘর্ষের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির আশা করছিল. মার্চ মাসে আন্নন সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের অবিলম্বে অগ্নি সম্বরন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন. কিন্তু তার পরিকল্পনা সফল হয়নি. মিশন সম্পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, অথবা শুরু থেকেই তার সাফল্যলাভের কোনো সম্ভাবনা ছিল না? এই প্রসঙ্গে শুনুন নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইয়েভগেনি সাতানোভস্কির বক্তব্য.

আন্নন যে সংকটের সমাধান করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই সমস্যার সমাধান কোনোভাবেই করা সম্ভব নয়. সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে কিছু আরব রাষ্ট্রলীগের সদস্য দেশের পৃষ্ঠপোষকতায়, যারা সেখানে বিদ্রোহীদের অস্ত্র পাঠাচ্ছে, আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে, জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে. মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এরকম যুদ্ধ, যেখানে কোটি কোটি ডলার লগ্নী করা হচ্ছে ও হাজার হাজার জঙ্গী জড়িত, তা থামানো সম্ভব নয়. রাশিয়া ও চীন সত্যিই কোফি আন্ননের মিশনে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিল. পশ্চিমী দেশগুলি কোফি আন্ননকে মদত দেওয়ার জন্য কিছুই করেনি.

রুশ ফেডারেশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের অন্তর্গত কূটনীতি অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ আন্দ্রেই ভলোদিনের মতে আন্ননের পদত্যাগের জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকটের মীমাংসার প্রয়াসে শূন্যতার সৃষ্টি করা উচিত নয়.

এখন আর কেন আন্নন দায়ভার ছেড়ে দিল, তাই নিয়ে আলোচনা করার দরকার নেই. বোঝাই যাচ্ছে কেন তিনি ছাড়লেন. এখন আলোচনা করা দরকার, আগে কি হবে. এখানে সিরিয়ার ব্যাপারে সংযোগকারী দল, যেখানে রাশিয়ার ভূমিকা বড়, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে. ঐ দলে ইরানকেও টানা উচিত.

পশ্চিমী দেশগুলি সিরিয়ায় শান্তিস্থাপণ প্রক্রিয়ায় ইতিটানার জন্য জোরাজুরি করছে. এটা বোধগম্য, কারণ তারা সিরিয়ায় বাস্তবে কিঘটছে, সে তথ্য চায় না. সেইজন্যই মস্কো চাইছে যাতে জাতিসংঘের সাধারন সম্পাদক পর্যবেক্ষকদের সিরিয়ায় থাকার মেয়াদ বাড়ান. উপরন্তু মস্কো চায় শুধু মানবিক পর্যবেক্ষনই নয়, সামরিক পরিস্থিতিরও.