মার্কিনী রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা স্বয়ং সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য একদল স্পেশ্যাল এজেন্ট পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন. হোয়াইট হাউসের এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলি এই তথ্য দিয়েছে. সি.আই.এ.র পক্ষ থেকে সাহায্য ছাড়াও অস্ত্রও সরবরাহ করা হচ্ছে নিয়মিত. তুরস্কও সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পরিবহনযোগ্য বিমান-বিরোধী প্রতিরক্ষা সমাহার সরবরাহ করছে. আঙ্কারা ও ওয়াশিংটনের কার্যকলাপ কোফি আন্ননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না.

রয়টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরিয়ার সশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর জঙ্গীরা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সাহায্য পায় – আমেরিকার রাষ্ট্রপতি স্বয়ং কয়েক মাস আগে সেই নির্দেশ দিয়েছেন. তুরস্কে গুপ্ত শিবিরে সি.আই.এ.র প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছিল. সেখানে আদান শহরের কাছেই সিরিয়ার জঙ্গীদের এখন ঘাঁটি. হোয়াইট হাউস বা মার্কিনী নিরাপত্তা পরিষদ এই বিষয়ে মৌন রয়েছে. প্রাচ্যতত্ত্ববিদ বরিস দলগোভের মতে এই সব তথ্যের ওয়াশিংটনের তরফ থেকে স্বীকারোক্তি সময়সাপেক্ষ মাত্র.

তুরস্কে সামরিক শিবির আছে – ইনঝিরলিক. সেখানে সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহীদেরও ঘাঁটি আছে, ঐখানে সি.আই.এ.র লোকেরা সারাক্ষণ থাকে, যারা তুরস্কের কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে. বহুকাল ধরেই বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে.

সামরিক সাহায্য ছাড়াও ওয়াশিংটন সিরিয়ার বিদ্রোহীদের আর্থিক সাহায্যও দিচ্ছে. এটা সরকারী তথ্য. মার্কিনী বিদেশ দপ্তর ২,৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছে. গত কয়েক মাসে রাইফেল ছাড়াও বিমান-প্রতিরোধী রকেট সমাহার পাঠানো হয়েছে.

 

অবশ্যই, এরকম অস্ত্র সরবরাহ কোফি আন্ননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না. শান্তি স্থাপণের প্রয়াসের প্রেক্ষাপটে সংঘর্ষরত একপক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করা হতে থাকলে সংকটের মীমাংসার কথা বলা হাস্যকর.

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, যে বর্তমানে সিরিয়ায় সশস্ত্র বিদেশী অনুপ্রবেশের ফন্দি করা হচ্ছে. নিরাপত্তা পরিষদে বলপ্রয়োগ করার চিত্রনাট্য রাশিয়া ও চীন মঞ্জুর করতে দিচ্ছে না. বরিস দলগোভ বলছেন, যে তাসত্ত্বেও সিরিয়ার বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকরা তাড়াহুড়ো করেই চলেছে.

জাতিসংঘের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে সিরিয়ায় অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি চলছে. আইনানুগ ভাবে সেটা করা সম্ভব নয়. তাই তুরস্ক, পশ্চিমী দেশগুলি, পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলি এ বিষয়ে জাতিসংঘকে এড়ানের চেষ্টা করছে. একটা পথ – সশস্ত্র জঙ্গীদের দ্বারা আলেপ্পো শহর দখল. সেখানকার জঙ্গীরা তুরস্ক থেকে অস্ত্র পাচ্ছে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরূদ্ধে লড়াই করার জন্য.

সেইসাথেই আঙ্কারা সিরিয়ার সাথে সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করছে. বুধবার সেখানে ট্যাঙ্কের মহড়া শুরু হয়েছে.