অলিম্পিকে বিশ্বরেকর্ড ভেঙেই চলেছে. অন্যতম পুরোনো রেকর্ড, ৪৮ বছর আগে সোভিয়েত জিমন্যাস্ট লারিসা লাতিনিনার স্থাপিত রেকর্ডেরও পতন হল. অতঃপর অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মেডেলের অধিকারী মাইকেল ফেল্পস, যে ১৯টি পদক জিতেছে. লাতিনিনা ১৮টি পদক জিতেছিলেন অলিম্পিকে. তবে লাতিনিনার ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক এখনো বেশি.

এই স্বল্পদৈর্ঘের মহিলাকে প্রায়ই বিভিন্ন জিমন্যাস্টিকস প্রতিযোগিতায় দেখা যায়. টিভি ক্যামেরা সর্বত্র গ্যালারিতে তাকে খোঁজে এবং তার মুখভঙ্গী দেখে বোঝার চেষ্টা করে, যে তিনি কাকে সাপোর্ট করছেন. খ্যাতনাম্নী জিমন্যাস্ট সবাইকে সাপোর্ট করে থাকেন, কিন্তু মূল্যায়ণ করার সময় তিনি সর্বদা ন্যায্য.

লন্ডন অলিম্পিকেও ক্যামেরাম্যানদের মনোযোগ লাতিনিনার প্রতি. তবে এবারে তিনি গিয়েছিলেন সুইমিং পুলে মাইকেল ফেল্পসকে সাপোর্ট করতে. আর যখন সে সবার আগে ফিনিশ করলো লারিসা লাতিনিনা আন্তরিকভাবেই খুশি হয়েছেন.

আমার স্বাভাবিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এই বিষয়ে, যে এতকাল পরে এমন একজন ক্রীড়াবিদের আবির্ভাব হয়েছে, যে আমার রেকর্ড ভাঙলো. ৪৮ বছর – এটা বহুকাল. আমি চাই, যে ফেল্পস যেন পেছনে তাকিয়ে তার রেকর্ডগুলো না দ্যাখে, আর স্বাভাবিক মানুষের রূপে বেঁচে থাকে. আমি চাই, যে ওর রেকর্ড যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়.

লারিসা লাতিনিনা শুধুমাত্র অলিম্পিকে জেতা পদকের সংখ্যার রেকর্ডশালীই নয়, তিনি অংশগ্রহণকারী অথবা দর্শকের ভূমিকাতেও অলিম্পিকে রেকর্ড করেছেন. এই নিয়ে ১৩ বার তিনি অলিম্পিকে গেছেন. এই অলিম্পিক অন্যরকম, কিন্তু ক্রীড়াবিদদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বরাবর ছিল মানবিক, এবং এটা খুশি করে.

আমাদের ক্রীড়াবিদদের এই শুভেচ্ছা জানাতে চাই, যে যখন প্রতিযোগিতায় যোগদান করছো, তখন সব অন্যান্য চিন্তা বাদ দিয়ে মনোযোগ নিজের খেলার উপর কেন্দ্রীভুত করো. যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি জিতেছো, নিজেকে বিজয়ী বলে ভেবে নিয়ো না.

এই মুহুর্তে লাতিনিনা আমাদের জিমন্যাস্টদের সাপোর্ট করতে চান. আপাততঃ শুধুমাত্র আমাদের মহিলাদল রৌপ্যপদক জিতেছে. ওদের পক্ষে খুব কঠিন, যেহেতু তারা এত বড় প্রতিযোগিতায় জীবনে এই প্রথম যোগদান করছে, তাই মেয়েগুলোর দরকার সাপোর্ট, গ্যালারি থেকেও, বলছেন লারিসা লাতিনিনা.

 

আমাদের মেয়েরা যে এই প্রথম অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছে, ওদের পারফরমেন্স ভালোই, তবে কিছু ভুল করেছে. প্রথমতঃ, অল্প বয়স, দ্বিতীয়তঃ, অলিম্পিক এমন প্রতিযোগিতা, যেখানে অনেকেই নার্ভাস হয়ে যায়. তবে বলতে চাই, যে আমেরিকার মেয়ে জিমন্যাস্টদের প্রস্তুতি ছিল অসাধারন, অতএব তারা চাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য ছিল.

তবে লারিসা লাতিনিনার মতে আমাদের ছেলে ও মেয়ে জিমন্যাস্টদের পারদর্শীতা কম নয়. তিনি বলেছেন আমাদের, মানে দর্শকদের শুধু ওদের সাপোর্ট করতে হবে.