পারমানবিক বিদ্যুতশক্তি ভারতের বিদ্যুত সরবরাহের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে পারে. পৃথিবীর ইতিহাসে ভারতে সবচেয়ে বড় বিদ্যুত সরবরাহের বিপর্যয় ঘটার পরে সে দেশে বিদ্যুত্শক্তি মন্ত্রীকে ছাঁটাই করা হয়েছে. ভি. মোইলির স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন মন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের সামনে কঠিন দায়িত্ব - বিদ্যুত্শক্তি সরবরাহের বিপর্যয়ের পরিণতি দূর করা. আমাদের পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিনের মতে ভারতের জন্য পারমানবিক বিদ্যুত্শক্তির বোধহয় কোনো বিকল্প নেই.

গত সোমবারে প্রথম ব্ল্যাক-আউট ভারতের উত্তরাঞ্চলের জীবন অচল করে দিয়েছিল. দুর্ঘটনার পরিণতি অতিক্রম করতে ১৫ ঘন্টা সময় লেগেছিল. সেইসময় শাসক কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে তীব্র তাপমাত্রা ও খরা এবং গ্রামাঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে জলের অভাবের জন্য হাই-ভোল্টেজ লাইনে প্রচন্ড চাপের অজুহাত দেখিয়েছিল. এবং বিদ্যুত্শক্তির কড়া পুণর্বন্টনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল. কিন্তু বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা পুণর্স্থাপন করার কয়েক ঘন্টা পরেই দেশে আবার ঘন অন্ধকার নেমে আসে. বিদ্যুত সরবরাহের অভাব ছড়িয়ে পড়ে দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে. বিদ্যুত্হীন হয়ে যায় ভারতের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ – বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-দশমাংশ. দিল্লীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী অখিল জৈন বিপর্যয়ের বর্ণনা দিচ্ছেন.

ভারতের উত্তরাঞ্চলে ১০টি রাজ্যে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ. রাস্তায় সিগন্যাল কাজ করছে না, গাড়িতে পেট্রোল ভরা সম্ভব নয়. মেট্রো অচল, সাবার্বন ইলেকট্রিক ট্রেনগুলোও থেমে আছে. গত ১০ বছরে দেশে এরকম ঘটনা ঘটেনি. পানীয় জলেরও অভাব, রিফাইনারিগুলো থমকে গেছে, কোনো জল শুদ্ধ করছে না. আজও সব স্কুল বন্ধ.

বিদ্যুত্শক্তি বন্টন ব্যাবস্থা স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের প্রশাসকদের জন্য ছিল অভাবনীয়. কোলাপসের বহু কারণ দেখানো হয়েছে. কেন্দ্রীয় সরকার নাকি সব রাজ্যের মধ্যে সঠিক হারে বিদ্যুত বন্টন করতে ব্যর্থ হচ্ছে. এবং সরকারী কর্মচারীদের দুর্নীতি, যে জন্য নাকি বিদ্যুত বন্টনের ক্ষেত্রে অসাম্য ঘটছে. ইলেকট্রিক সার্কিটের আধুনিকীকরনের খাতে অর্থব্যয় না করার কথাও বলা হচ্ছে. তবে বাস্তব সমস্যার এই গুচ্ছে আরও একটা উপাদান আছে. ভারতের বিদ্যুত্শক্তি মন্ত্রক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী পিক আওয়ার্সে দেশে বিদ্যুত ঘাটতির পরিমান ১০-১২ শতাংশ. বিদ্যুতের ব্যবহার ও তার চাহিদার মধ্যে এতখানি ফারাক থাকার দরুন ভারতের বহু অঞ্চলে দিনে ৮ ঘন্টা বাতি না জ্বলা মামুলি ব্যাপার. আর দেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের ঘরে যে বিদ্যুতই নেই, সে সম্পর্কে আমরা মৌন থাকবো.

অন্যদিকে ভারতের সস্তা ও অগাধ বিদ্যুত্শক্তির উত্স আছে. পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলি বহুকাল আগেই ইউরোপীয় দেশগুলির বিদ্যুত ঘাটতির সমস্যার সমাধান করেছে. কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র গরমকালের শেষদিকে বিদ্যুত উত্পাদন করা শুরু করবে. প্রতিবাদী আন্দোলনের দরুন গত বছরের শেষে পরিকল্পিত প্রথম এনার্জি ব্লক চালু করা সম্ভব হয়নি. যদি ঐ বিদ্যুত্কেন্দ্র চালু থাকতো, তাহলে এরকম কোলাপস ঘটতো না.