লন্ডন অলিম্পিকে রুশীরা বাঁধাধরা কার্যকলাপ থেকে বিরত হয়েছে. প্রতি অলিম্পিকের মতো এবার রুশী ভবনে সারারাত ব্যাপী দুর্মুল্য ব্ল্যাক ক্যাভিয়ার ও ভোদকা নিয়ে হট্টগোল হচ্ছে না. আমাদের সাংবাদিক স্ফেতলানা আন্দ্রেয়েভা লন্ডনে সব রুশী মঞ্চ পরিদর্শন করেছে.

কেনসিংটন গার্ডেনসে রুশী ভবন পার্কের থেকে আসা রুশী গানের দৌলতে অনায়াসে খুঁজে পাওয়া যায়. বিশেষতঃ সঙ্গীতশিল্পীরা নিজেরাই গাইছে, রেকর্ড করা নয়. আর তাদের সাথে সকাল বেলায় ইংরেজ বাচ্চারা গলা মেলাবার চেষ্টা করে. বোধহয় সঙ্গীত শুনতে শুনতে বেড়ানো বেশ মজার, তাই বাচ্চাদের মায়েরা রুশী ভবনের আশপাশ বেছেছে কেনসিংটন গার্ডেনসে বেড়ানোর জন্য. সেখানে শুধুমাত্র গান শোনাই নয়, আঁকা শেখা, পুতুল বানানোও যেতে পারে. মধ্যাহ্ন নাগাদ সেখানে তাদের গ্যাজেট নিয়ে জড়ো হয় যুবক-যুবতীরা. সেখানে ওয়াই-ফাই জোন অবৈতনিক কোনো রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই, যা লন্ডনে কদাচিত দেখা যায়. রুশী ভবনে যেমন রাশিয়ার সাংবাদিকরা, তেমনই বিদেশী সাংবাদিকরা আসে. কারণ সেখানে সব অলিম্পিক স্টেডিয়াম থেকে তাজা খবরাখবর পাওয়া যায়, বিভিন্ন উপস্থাপনা ও প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদদের সংবাদ সম্মেলন প্রত্যক্ষ করা যায়.

তবে কেনসিংটন গার্ডেনসে রুশী ভবন লন্ডনে একমাত্র রুশী মঞ্চ নয়. সোচি পার্কে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য সোচি শহরের শ্বেত অলিম্পিকে ভারচ্যুয়াল ভ্রমণ করার সুযোগ আছে, তবে বিনা পয়সায় নয়, ২০ পাউন্ডের বিনিময়ে. রাশিয়ার সৌন্দর্য ছাড়াও সেখানে ৪ডি ফরম্যাটে ববস্লেজ ট্র্যাক দিয়ে স্লেজ করা যায় অথবা বরফপাতের নীচে যাওয়া যায়. রাশিয়ান ফিগার স্কেটিংয়ের অনুরাগীদের জন্য সোচি পার্কে আরও একটা বিস্ময় অপেক্ষা করছে. সেখানে একটা ছোট স্কেটিং এরিনায় অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নেরা ফিগার স্কেটিং প্রদর্শন করছে. সেখানেই রাশিয়ার জাতীয় অলিম্পিক দলের বেশভুষাও বিক্রয় করা হচ্ছে.

জানালার বাইরে ভোর হয়ে এসেছে, শীগ্গিরই কেনসিংটন গার্ডেনসে রুশ ভবনের লনে ছড়ানো নরম সব বালিশে আরাম করা যাবে, জলখাবারও খাওয়া যেতে পারে. তারপর আবার লন্ডন অলিম্পিকের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে রওনা দেওয়া.