লন্ডনে দমিত্রি মেদভেদেভ বৃটিশ "টাইমস" পত্রিকার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন. মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে ছিল স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র নীতি. বৃটিশ সাংবাদিকরা জানতে চান দূর্নীতিপরায়ণতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সিরিয়ার পরিস্থিতি মীমাংসা সম্বন্ধে নতুন নতুন উদ্যোগ সম্বন্ধে.

   রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ বলেন যে, বাকিংহ্যাম প্রাসাদে সম্বর্ধনা সভায় তিনি ডেভিড ক্যামেরনের সাথে আলাপ করার সুযোগ পান এবং তাঁরা অতি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে বিশদে আলোচনা করেন. সিরিয়ার পরিস্থিতি মীমাংসা সম্পর্কে রাশিয়া সর্বদা যোগাযোগ রাখছে বৃটেনের সঙ্গে, এ প্রশ্নে দু দেশের স্থিতির পার্থক্য সত্ত্বেও, যদিও এ পার্থক্য ততটা নয়, যতটা বাইরে থেকে মনে হয়, জোর দিয়ে বলেন দমিত্রি মেদভেদেভ :

   পরিস্থিতি অতি কঠিন এবং অতি জটিল, তবে আমি মনে করি যে, কোফি আননের পরিকল্পনা তার জীবনীশক্তি হারায় নি, কারণ তা রাজনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ. রাশিয়া ও বৃটেন, অথবা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিতে পার্থক্য রয়েছে মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্থিতিতে পার্থক্য ততটা নয়, যেমন বলা হয়ে থাকে. আমরা এগুচ্ছি এ থেকে যে, সিরিয়ার জন্য সবচেয়ে খারাপ চিত্রনাট্য হতে পারে গৃহযুদ্ধ. এখনই বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে, যেমন হয়ে থাকে এ ধরণের সঙ্ঘর্ষে. তবে এর জন্য দোষ উভয় পক্ষেরই, যারা একটা সময়ে পরস্পরের কথা শুনতে চায় নি এবং আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসতে চায় নি. আমি ডেভিড ক্যামেরন-কে মনে করিয়ে দিই যে, এক বছরেরও বেশি আগে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসদ-কে বলেছিলাম যে, তাঁকে তত্পর হতে হবে, তাড়াতাড়ি সংস্কার সাধন করতে হবে এবং বিরোধীপক্ষের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চাবিকাঠি খুঁজে বার করতে হবে. এমনকি, তাঁর জন্য এটা কঠিন এবং কষ্টকর হলেও. আমি মনে করি যে, পরিকল্পনার জীবনীশক্তি শেষ হয় নি, এ ব্যাপারে আমাদের সুসমন্বিত হতে এবং পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে.

   বৃটিশ সাংবাদিকরা রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সম্বন্ধেও আগ্রহ প্রকাশ করেন, উপরন্তু “পেরেজাগ্রুজকা” (পুনরারম্ভ) ঘটেছিল তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়েই. প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আমরা অনেক কিছু করতে সক্ষম হয়েছি, যদিও গোটা এক সারি প্রশ্নে আমাদের বাস্তব মতভেদ রয়েছে. আর রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতি, এবং কখনও তার নৈকট্য-বৃদ্ধি হবে কি না সে সম্পর্কে দমিত্রি মেদভেদেভ স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে প্রথমে নির্ধারণ করা দরকার এ ব্যবস্থা কার বিরুদ্ধে নির্দেশিত :

   কোনো এক মৌন মূর্তি রয়েছে: কার বিরুদ্ধে এ যথাযথ রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠিত হচ্ছে? যদি তা এমন সব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হয়, যারা অননুমোদিত পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং নতুন নতুন রকেট তৈরি করছে, তাহলে আমরা তা উপলব্ধি করি. কিন্তু আমাকে তাহলে ব্যাখ্যা করে বলুন, তত্সংক্রান্ত রক্ষা ব্যবস্থা এবং তত্সংক্রান্ত রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়া লক্ষ্য-স্থল ভেদ করতে সক্ষম কেন? অর্থাত্ তা আমাদের রকেট ক্ষমতা প্রভাবিত করবে কেন? আর তা যদি আমাদের বিরুদ্ধে নির্দেশিত হয়, তাহলে সত্ভাবে আমাদের তা জানানো উচিত্. কিন্তু তাহলে এটা হবে পারমাণবিক ভারসাম্যের লঙ্ঘন, যা বর্তমানে বিদ্যমান আছে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে এবং যা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার চাবিকাঠি. আর আমরা এ প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই পাচ্ছি না.

   দমিত্রি মেদভেদেভের সাথে বৃটিশ সাংবাদিকদের আলাপ শুধু আন্তর্জাতিক নীতি সম্পর্কেই হয় নি. সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন রাশিয়ায় দূর্নীতিপরায়ণতা সম্পর্কে, যা অর্থনীতির বিকাশে এবং সাধারণভাবে দেশের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে, রাশিয়ার আইন-বিধিতে সভা-সমিতি ও বেসরকারী কমার্শিয়াল সংস্থা সংক্রান্ত নতুন নতুন সংশোধন গ্রহণ সম্পর্কে. দমিত্রি মেদভেদেভ জোর দিয়ে বলেন, বিগত কয়েক মাসে আমাদের আইন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ঘটে নি, এবং দেশও সর্বস্ববাদের দিকে এগুচ্ছে না. বৃটিশ সাংবাদিকদের শেষ প্রশ্ন ছিল মেদভেদেভের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে. বিশেষ করে, তিনি কখনও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দাঁড়াবেন কি না. উত্তরে দমিত্রি মেদভেদেভ বলেন যে, তিনি বৃদ্ধ বয়সী রাজনীতিজ্ঞ নন, তাই কোনো কিছুই বাদ দেন না.