ওয়াশিংটন নতুন করে ইন্দো-ইরানী ব্যবসায়িক লেনদেনে আঘাত হেনেছে. ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য ইন্দো-ইরানী যৌথ জাহাজ পরিবহন কোম্পানী ‘ইরানো হিন্দ শিপিং কো’ কে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে. ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এ সম্পর্কে জানিয়েছে. বিষদে শুনুন আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেতসভের কাছ থেকে.

ইরানো হিন্দ শিপিং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবহন করেছে. এটা এমন একটা কোম্পানী, যে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবকে পাশ কাটিয়ে যেতে পেরেছে ও পরবর্তীকালে পশ্চিমী দুনিয়া কতৃক ইরানের ওপর জারি করা বিভিন্ন বাধানিষেধেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি. অতঃপর কোম্পানী নিজেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে.

এই ঘটনাকে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির সাফল্য হিসাবে মূল্যায়ণ করা যায়. কিন্তু এই সাফল্য যথেষ্ট সন্দেহজনক. ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ নিজেই লিখছে, যে ইরানো হিন্দ কোম্পানী বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-ইরানের বাণিজ্যিক লেনদেনের উপর বোধহয় কোনো প্রভাব ফেলবে না. ভারত ইরান থেকে খনিজ তেল কিনেই চলেছে ও তা বন্ধ করার কোনো অভিপ্রায় নেই. রাশিয়ার বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির ভাভিলভের মতে, আমেরিকার দ্বারা আরোপিত ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল দেবে না.

নিষেধাজ্ঞা জারি করে কোনো সদর্থক ফল পাওয়া যায় না. নিষেধাজ্ঞা দৃঢ়তর করা যেতে পারে, কিন্তু তার ফল হবে উল্টো.

ভারতের দরকার ইরানের খনিজ তেল, অন্যদিকে ইরানের প্রয়োজন ভারতীয় নিত্য ব্যবহার্য মালপত্রের. সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ইরানকে ২০-৩০ লাখ টন গম বিক্রয় করতে সম্মত হয়েছে, তবে খনিজ তেলের বিনিময়ে, অর্থ দিয়ে নয়. ইরান ও ভারতের মধ্যে অর্থ ব্যতীত পণ্য বিনিময় নয়াদিল্লীর পক্ষে ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী করা সহজতর করবে ও বিভিন্ন আর্থিক, ব্যাঙ্কিং বাধানিষেধ এড়াতে সাহায্য করবে.