শুক্রবারে লন্ডনে অলিম্পিকের উদ্বোধন হবে. কিন্তু শুরু হওয়ার আগেই এই অলিম্পিক ইতিহাসের পাতায় পৌঁছে গেছে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কেচ্ছার জন্য. বেসরকারী প্রহরীদের নিয়োগ করার প্রচেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, বৃটেনের সেনাবাহিনী অলিম্পিক পার্ককে ব্যারিকেডে পরিণত করেছে. শহরে ট্যাঙ্ক, বোমারু বিমান, এমনকি বিমান পরিবহনকারী জাহাজ পর্যন্ত আনা হয়েছে.

লন্ডনের বিমান বন্দরগুলিতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা এখন. হাজার হাজার ফ্যান সারা দুনিয়া থেকে আসছে অলিম্পিক দেখতে, কিন্তু তাদের সবাইকে অসংখ্য পুলিশ ও সৈনিকের বাধা টপকাতে হচ্ছে, যারা অলিম্পিকের প্রহরায় নিয়োজিত. গ্রেট বৃটেনের সর্বোচ্চ প্রশাসন স্বীকার করছে, যে লন্ডনে প্রায় যুদ্ধকালীন সাজসজ্জা. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টেরেজা মে খোলাখুলি বলেছেন, যে অলিম্পিকে নিরাপত্তা রক্ষা ব্যবস্থার পরিমাপ ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরেই স্থান পাবে. তবে বৃটেনের আমলারা এই অভিযানের জন্য প্রস্তুত ছিল না, শেষ সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে.

প্রথম সতর্কবার্তা ধ্বনিত হয়েছিল জি৪এস কোম্পানীর সমস্যা নিয়ে. অলিম্পিকে পরিষেবা দেওয়ার কথা ছিল ঐ কোম্পানীর. এরকম সূক্ষ্ম বিষয়ে বৃটেনের কর্তৃপক্ষ পয়সা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল. তারা পুলিশের উপর নয়, বেসরকারি সিকিউরিটি ফার্মের উপর ভরসা করেছিল. জি৪এস সাড়ে দশ হাজার নিরাপত্তা রক্ষাকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল ৪৩ কোটি ডলারের বিনিময়ে. কিন্তু আদপে দেখা গেল, যে কোম্পানীর অত কর্মচারীই নেই.

অলিম্পিকের সময় শাসক কর্তৃপক্ষ আপাততঃ ঐ কোম্পানীর সাথে বোঝাপড়া স্থগিত রেখেছে. এখন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা মুখ্য কর্তব্য. তবে অলিম্পিকের পরে বহু লোকের চাকরি যে যাবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই. কর্তৃপক্ষকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জরুরী অবস্থায় লন্ডনে বাড়তি পুলিশ ও সৈনিক আনতে হয়েছে. এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টেরেজা মে বলছেন –

জি৪এস তাদের দায়িত্ব পালন না করলেও, আমাদের সামরিক কর্মীরা বিশ্বে সেরা. যখন দেশের প্রয়োজন হবে তাদের পেশাদারী দক্ষতা, ব্রিগেডগুলি পারবে ও তত্ক্ষণাত সাহায্য করতে ঝাঁপিয়ে পরবে. কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বড় বড় বুলি বাস্তবের সাথে খাপ খাচ্ছে না. সৈনিকদের দিয়ে কোনোমতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাপ্পি দেওয়ার চেষ্টা চলছে. লন্ডনে আনা হয়েছে ১৮,৫ হাজার সৈনিক, যে সংখ্যা আফগানিস্তানে মোতায়েন বৃটিশ সৈন্য সংখ্যার দ্বিগুণ, আরও সাড়ে বারো হাজার পুলিশ শহরের রাস্তাঘাটে টহল দিচ্ছে. নিরাপত্তা রক্ষীদের থাকা-খাওয়ার পরিবেশও ভালো নয়. পরিত্যক্ত সব বাড়িঘরে প্রায় চেয়ারে বসেই তাদের ঘুমাতে হচ্ছে. অলিম্পিক পার্কে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে. আগাগোড়া তল্লাসী করা হচ্ছে, স্নাইপাররা ছাদের ওপরে ও ঝোপঝাড়ে বসে আছে.