আরব লীগ সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে অপসরণের আহবান জানিয়েছে এবং এর বিনিময় তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে.

রোববার রাতে দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়া আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনকে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে অস্থায়ী সরকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন. একই সাথে জানানো হয় যে, ওই সরকার অবশ্যই বিরোধী দলের সদস্য অর্থাত সিরিয়ার স্বাধীন সেনা বাহিনীকে নিয়ে গঠন করা হবে.

আরব লীগ একই সাথে সিরিয়ায় জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মিশনের কর্মকান্ড নিয়েও মতামত জানিয়েছে. গত শুক্রবার ওই মিশনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে. আরব লীগের মন্ত্রীরা মনে করছেন যে, পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান কাজ হবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা বিরোধী দলের কাছে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা. তবে কি উপায়ে ওই শান্তির পরিবর্তন করা হবে তা বলা হয় নি. আরব লীগের ওই গোল টেবিল বৈঠকে আরও জানা যায় যে, সংস্থার মহাসচিব নাবিল আল-আরাবি মস্কো ও বেইজিং সফর করে সদ্য অনুষ্ঠিত আরব লীগের বৈঠক সম্পর্কে এই দুটি দেশের শীর্ষ রাষ্ট্র প্রধানদের অবহিত করবেন.

গত সপ্তাহে রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে. ওই প্রস্তাবে সিরিয়ায় বিদেশী সামরিক অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে অপসারণ করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল. ওই প্রস্তাবটি করা হয় ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে. ভোটাভুটি পর্বে রাশিয়া ও চীন জানায়, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিরিয়ার জনগনই সিদ্ধান্ত নিবেন. সিরিয়ার জনগনের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাজ নয়.

আরব লীগ যে চিত্র তুলে ধরেছে তা সিরিয়ার সংকটকে শুধুই অগ্নিশিখায় প্রজ্বালিত করছে. এমনটি মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্তানিসলাভ তারাসোভ. তিনি বলছেন, “এটি শুধুমাত্র সিরিয়ার নয় বরং অত্র অঞ্চলের পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে. সংকটের দিকে তাকালে আমরা দেখতেই পাই যে, তা শুধু দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না বরং বিশ্ব রাজনীতিতে তা বৃত্তাকারে আবিষ্ট করেছে. শুধুমাত্র আরব দেশগুলো থেকেই সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না বরং তুরস্ক এতে যোগ দিয়েছে. এতে এখন বোঝা যাচ্ছে যে, আরব লীগ সিরিয়া সংকটের সাথে জড়িত. আরব বসন্ত নিয়ে আরব লীগের সঙ্গতিহীন রাজনীতি ও সেই সাথে সিরিয়ার প্রতি তাদের অবস্থান যা অন্যান্য আরব দেশগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলেছে. কারণ হচ্ছে আরব লীগ শুধু তার সহযোগী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে কথা বলে. তারাই ঠিক করেন কে গনতন্ত্রের পুজারী আর কে স্বৈরশাষক”.

বাশার আসাদের অপসরণ চেয়ে আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সিরিয়া বিষয়ে গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত জেনেভা সম্মেলনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করেছে. যদিও ওই সম্মেলনে আরব লীগ অংশ নিয়েছিল. ওই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলো, আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সিরিয়ার সংকটে জড়িত উভয় পক্ষকে সংঘাত পরিহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করবে. মূলত এক টেবিলে বৈঠকের আয়োজন করা দরকার, তা না হলে এক পক্ষকে বাধ দিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না.